স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে রাজনীতির নেতৃত্বে পালাবদল হয়েছে অনেক। তবে এবারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। দল হিসেবে বিএনপির সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, সরকার প্রধানের অভিজ্ঞতা শূন্য এখন সব দল। বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার মতো নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে সংকটের শংকা তৈরি করেছে।
তবে আগামীতে যারাই দেশ ও দল পরিচালনায় যুক্ত হবেন, তাদের স্মরণে রাখতে হবে বিগত রাজনৈতিক ইতিহাস। মোাকাবিলা করতে হবে, ভোটের রাজনীতিতে জনতার আস্থা অর্জন, ব্যক্তির নেতৃত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মত চ্যালেঞ্জ।
মূলত, অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় দল এখন বিএনপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, যে দলের হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। বিরোধী দলে আর সরকারে নেতৃত্ব দেন চার দশকের বেশি সময়। তার প্রস্থানের পর এই প্রথম সরকারপ্রধানের অভিজ্ঞতাশূন্য বিএনপি'র নেতৃত্ব ।
২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির পূর্ণ নেতৃত্বে। যদিও ছায়া হয়ে ছিলেন মা খালেদা জিয়া। মায়ের পাশে থেকে, রাজনীতির সুসময় দুঃসময়ও দেখেছেন তিনি।
নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়েই দলের হাল ধরবেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে দীর্ঘ সময় দেশের বাহিরে থাকা, অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই কাজটি যে সহজ হবেনা, তাও মনে করেন অনেকে।
এই শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের। আইনের শাসনের পাশাপাশি দেশে শান্তিপূর্ণ আবহ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দিকেই চেয়ে রয়েছেন তারা।
অপরদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, এই মুহুর্তে তারেক রহমানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । খালেদা জিয়া'র অবর্তমানে জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারের প্রতি, প্রত্যাশার পারদও বেশি। যা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি চাপই তৈরি করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান বলেন, তারেক রহমানের নিজস্ব অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশে ফেরার পর তার যে পরিকল্পনার বার্তা, এই দুয়ের মিশ্রণই পারবে প্রত্যাশার চাপকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। তবে নতুন নেতৃত্বে যারা আসবেন, তারা খালেদা জিয়ার প্রস্থানে যে শূন্যতা— এর গুরুত্ব বোঝার পাশাপাশি, সেই অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, সেটিও সমান প্রভাবক হিসেবে আবির্ভুত হবে।
২০০৭ এর পর থেকে রাজনীতির আলোচনায় স্পর্শকাতর বিষয় ছিল 'মাইনাস টু' ফর্মুলা। ঘটনাপ্রবাহে এটাই এখন বাংলাদেশের বাস্তবতা। রাজনীতির এমন মেরুকরণে এর আগে কখনও পড়েনি বাংলাদেশ। ফলে বর্তমান রাজনীতি হবে শূন্যস্থান পূরণের। ব্যাক্তির দক্ষতা, প্রজ্ঞা, মেধা ও জনগণের আস্থার উপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের আগামী রাজনীতি ও সরকারের নেতৃত্ব, এমনটাই বলছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের মতে, তারেক রহমানের মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিপক্কতার মেলবন্ধন রয়েছে। এই দুটোর সঙ্গে নিজেও কিছু যুক্ত করবেন যা আগামীর রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের নেপথ্যে কাজ করবে।
তবে সব ছাপিয়ে ভোটের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কতটা বিচক্ষণতার সঙ্গে তার পূর্বসূরীদের অনুসরণ করতে পারে,তার উপরও নির্ভর করছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য বা অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসেনি। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানায় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো তৎপর রয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, এ বাজেট জনবান্ধব নয়; বরং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। শনিবার (২৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৬তম দিনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, চাল, ডিম, মুরগি, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মুদি পণ্যে ভ্যাট আরোপের ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আরও বেশি চাপে পড়েছে। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেই বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। এতে বোঝা যায়, বর্তমান বাজেট তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। ব্যাংকিং খাতের চিত্র তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩২ শতাংশ। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশের আর্থিক খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রত্যাশিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাদক সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে প্রায় ৮৩ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। নতুন মাদকবিরোধী আইনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না; সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধ এবং উৎস নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজেটে কওমি মাদ্রাসার ১২ থেকে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য সম্মানজনক ভাতা চালুর আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। পাশাপাশি আলোচিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষাংশে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দুর্নীতিবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই; তারা দেশের শত্রু। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দেশকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না, কিন্তু বসবাসের জন্য আরও উপযোগী ও বাসযোগ্য করতে চাই।’ শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর লেক, ঝিল ও জলাধারগুলোকে আরও পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমণ্ডি লেকের দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর লেকগুলো অব্যবস্থাপনার শিকার ছিল। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমণ্ডি লেক একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন লেকে রূপ নেবে। পাশাপাশি গত এক মাস ধরে হাতিরঝিলে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে, যা আমরা নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করছি।’ হাতিরঝিলের পরিবেশ আরও উন্নত করতে সেখানে আধুনিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, লেকের দুই পাশ ভরাট করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এছাড়া সন্ধ্যার পর অবৈধ হকারদের অবস্থান ঠেকাতে আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এডিস মশার লার্ভার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন আবাসিক কোয়ার্টারের ৫০ শতাংশেরও বেশি স্থানে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই সবাইকে নিজ নিজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’ স্কুল-কলেজে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে তিনি জানান, প্রতি শনিবার উপজেলা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায় থেকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।