আন্তর্জাতিক

র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রী ও জেন–জি সরকার নিয়ে অস্বস্তিতে নেপাল

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নেপালের এখনকার প্রধানমন্ত্রী একজন র‍্যাপার, এটা বাংলাদেশীদের জানা। তাঁর সবচেয়ে হিট গান ‘ম নেপালও হাসেকো হের্ন চাহাচ্ছু’। বাংলায়, ‘আমি দেখতে চাই নেপাল হেসে উঠুক’। মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ এ গানের, যা একসময় কাঠমান্ডুতে মেয়র হওয়ার দৌড়ে বালেনকে বেশ সাহায্য করে। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী।

 

নেপালে জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাঁকে সামনে রেখে নির্বাচনে জিতে সরকার গড়েছে। সেই সরকার দুই মাস পার করল। কিন্তু নেপালে র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সর্বমহলে প্রত্যাশায় টান পড়েছে।

চায়ের আড্ডায় কটু কথার বাইরেও পত্র-পত্রিকাগুলো তাঁকে সমালোচনা করে সম্পাদকীয় লিখতে শুরু করেছে। তাঁর সরকারের ডিক্রিগুলো বিধিবিধান সম্মত নয় বলে উচ্চ আদালত একের পর স্থগিত করে দিচ্ছেন। খোদ দলের মধ্যেও বালেন শাহর আচার-আচরণ ও নানা পদক্ষেপে বাড়ছে অস্বস্তি। অসন্তোষের বিষয়গুলোও বিচিত্র।

পার্লামেন্টে আগ্রহ কম প্রধানমন্ত্রীর

নেপালের গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের প্রায় এক বছর পর হলেও উভয় দেশে নির্বাচিত সরকারের যাত্রা কাছাকাছি সময়ে। কোনো নতুন প্রধানমন্ত্রীকে মূল্যায়নের জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের মিডিয়ায় চিত্রটা তাই ‘হানিমুন পিরিয়ড’–এর মতো। কিন্তু নেপালের প্রধান প্রধান প্রচারমাধ্যমে বালেন শাহ ৫০-৬০ দিনের মধ্যেই জবাবদিহির মুখে পড়েছেন। দেশের প্রধান দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট–এ গত সাত-আট সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে বেশ কড়া ভাষায় অন্তত পাঁচটি সম্পাদকীয়-উপসম্পাদকীয় বের হলো এবং সেসব অকারণে নয়।

শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে, ৩৬ বছর বয়সী র‍্যাপার প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে আসেন কম, কথা বলেন আরও কম। অথচ প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও পার্লামেন্ট পাশাপাশি। নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম এ রকম ঘটল, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয়-সাত সপ্তাহেও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে কোনো বক্তব্য দেননি।

দেশের নির্বাহী প্রধানের এই চুপচাপ থাকা নিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট–এর ১৪ মে সম্পাদকীয়তে লেখে, ‘বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনার অধিকার রয়েছে জনগণের’। আগের দিন একই কাগজে প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রথা এবং জবাবদিহির সঙ্গে মানানসই নয়’।

পার্লামেন্টে উপস্থিত হলেও নানা কাণ্ড ঘটান বালেন। ২ এপ্রিল দেশটির পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্রের ভাষণের সময় মাঝপথে প্রধানমন্ত্রী উঠে চলে যান, যা জাতীয়ভাবে বিস্ময় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কোনো বক্তৃতা দেননি। প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নিতে রাজি নন। তাঁর কাছে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরের ভার দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। জেন-জি সরকার দেশকে অনেকটা রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে ঠেলে দিচ্ছে।

গত প্রায় দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বিতর্ক হয়েছে। এর মধ্যে নিজের কর্তৃত্ব বাড়াতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বদলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংযুক্ত করেন তিনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন করেছিল কিছুদিন আগে।

এ মুহূর্তে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে কাঠমান্ডুসহ প্রধান শহরগুলোতে ভাসমান মানুষদের বস্তিসদৃশ আবাসগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া নিয়ে। চরম বৈষম্যে ভরা সামাজিক বাস্তবতায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বেশ অমানবিক বলা হচ্ছে।

এই বছরই এক গবেষণা শেষে অক্সফাম নামের সংস্থা জানিয়েছিল, নেপালের ওপর দিকের ১ শতাংশ মানুষের হাতে যেখানে জাতীয় সম্পদের প্রায় ২৫ শতাংশ রয়েছে, সেখানে নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে জাতীয় সম্পদের ৫ শতাংশের কম। সরকারের পদক্ষেপে নিচুতলার ভূমিহীনরা এখন বসতিহীনও হচ্ছে। উচ্ছেদের মুখে দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো শহরে শহরে বিক্ষোভ করছে প্রতিদিন। সরকার বলছে, তারা এ রকম শহুরেদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেবে। তবে পুনর্বাসনের আগেই উচ্ছেদ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে রাগিয়েছে।

উচ্চ আদালতের সঙ্গে ঠোকাঠুকি

নেপালের জেন-জি সরকার এখন সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে আছে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে। জ্যেষ্ঠ তিনজনকে ডিঙিয়ে বালেন শাহ প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন মনোজ কুমার শর্মাকে। এতে ঐতিহ্যের লঙ্ঘন ঘটেছে বলে বলা হচ্ছে। সরকার বলছে, সংবিধান পরিষদ এই নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং তাতে পার্লামেন্টের অনুমোদন আছে। তবে সংবিধান পরিষদের প্রধান খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং পার্লামেন্টে রয়েছে তাঁর সরকারের প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ।

ইতিমধ্যে এই নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে। আবার মনোজ কুমার শর্মা দায়িত্ব নিয়েও ফেলেছেন। তবে বিতর্ক থেমে নেই তাতে। বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কাজকর্মেও বিতর্কের ছাপ পড়ছে। আইনজীবীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগ উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের মধ্যেও নীতিগত বিভেদরেখা তৈরি করেছে। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, নেপালের উচ্চ আদালতে এখন প্রধান বিচারপতির চেয়েও সিনিয়র তিনজন বিচারপতি রয়েছেন। সিনিয়র এই তিন বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলে এ বিষয়ে চলমান বিতর্ক উত্তেজক রূপ নিতে পারে।

প্রধান বিচারপতি, প্রধান সেনাপতি ইত্যাদি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনার মধ্যে কোনটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত, এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বহুকাল যে বিতর্ক চলছে, তাতে নেপালের ঘটনা সর্বশেষ সংযোজন।

এর মধ্যেই অফিস-আদালতে কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠন এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সংগঠন করার অধিকার বন্ধ করে বালেনের সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেসব উচ্চ আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন। ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল বালেন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন। বাংলাদেশেও এই ঘোষণা ব্যাপকভাবে প্রচার পায়।

বিচারবিভাগীয় বেঞ্চ জানিয়েছে, কর্মচারীদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দেশটির ১৯৯২ সালের সিভিল সার্ভিস অ্যাক্টের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা আইএলওর সনদের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। শ্রমিক অধিকার নিয়ে সক্রিয় অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও বালেন সরকারের ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। সরকার বলছে, দলীয় পরিচয়ের সংগঠন বিদ্যাপীঠ এবং সরকারি দপ্তরে দক্ষতার ক্ষতি করছে।

এসব বিষয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই নতুন প্রসঙ্গ আসে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। সীমান্তপথে আসা নিত্যদিনের কোনো সামগ্রীর দাম ১০০ রুপির বেশি হলে তাতে ৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, সেটাও আদালত স্থগিত করে দিয়েছেন।

সরকারের নতুন সীমান্তনীতি মধেস এলাকায় জীবনযাত্রায় বেশ ছন্দপতন ঘটিয়েছিল। ভারত-নেপাল সীমান্তের ঐতিহাসিক যে ধরন, তাতে উভয় দিকে মানুষ ও সাধারণ জিনিসপত্রের চলাচল অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা। নেপালের বহু মানুষ নিত্যদিনের কেনাকাটা করতে পাশের ভারতীয় বাজার–হাটে যান। হলুদ-মরিচ থেকে চা-বিস্কুট, ওষুধ-পথ্যসহ অনেক সামগ্রী কেনাকাটা, আনা-নেওয়া হয় এভাবে। দীর্ঘ সীমান্তের উভয় দিকে মানুষের জীবনধারা এভাবেই চলছে বহুকাল। শাসক দলের এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীরাও মনে করছেন, বালেন সরকারের সিদ্ধান্ত সীমান্তবর্তী মানুষকে ক্ষুব্ধ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের দূরত্ব

প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ধাঁচের শাসনপদ্ধতি এবং চালচলন নিয়ে তাঁর দলেও গুঞ্জন চলছে। ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সাত দফা চুক্তির ভিত্তিতে তাঁকে দলভুক্ত করে ৫ মার্চের নির্বাচনের কিছুদিন আগে। গণ–অভ্যুত্থানকারী জেন-জি সংগঠনগুলো একসঙ্গে বসে তাঁকে আরএসপিতে আনে। এটা খুব বেশি আগের দল নয়। ২০২২ সালে বিভিন্ন পেশাজীবী তরুণ-তরুণীরাই গড়ে তোলেন। এবারের ভোটে তাদের জয় মূলত জেন-জি অভ্যুত্থানের জোয়ারে এবং বালেন শাহর জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ওপর সমাজের বিরক্তিতে দলটিতে উদ্বেগ আছে। যেহেতু জোয়ারধর্মী ভোটে নির্বাচনী বিজয়, এ কারণে ভাটার লক্ষণে আরএসপির অনেকে শঙ্কা বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আরএসপির কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। পার্টির বৈঠকেও সচরাচর আসেন না তিনি। দলের খুব কম নেতাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

অস্বস্তিতে দুই প্রতিবেশী-শক্তিও

নির্বাচনের আগে বালেনের দল চীন-ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, তারা আর ‘বাফার রাষ্ট্র’ হয়ে থাকতে চায় না, ‘সংযোগকারী রাষ্ট্র’ হতে আগ্রহী। নেপালকে এই তিন দেশের সম্পর্কের ভরকেন্দ্র বানাতে চায় আরএসপি। তবে গত ২৭ মার্চ সরকার গঠন থেকে চীন-ভারত নয়, গুরুত্ব যতটুকু পেয়েছে—সেটা যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকা থেকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেপালও ঘুরে গেছেন। কৌতূহল উদ্দীপক বিষয় দেখা গেল, নেপালে ওয়াশিংটনের এখনকার আগ্রহ তিব্বতি শরণার্থীদের নিয়ে। বোধগম্য কারণেই চীন এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

নেপালে তিব্বতি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা পাক, সেটা চীন দেখতে চায় না। জেন-জি আন্দোলনকালে অনেক বিক্ষোভকারীকে ‘টিওবি’ লেখা টি-শার্ট পরে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। টিওবি বলতে তারা বোঝাচ্ছে ‘দ্য অরজিন্যাল ব্লাড’। এই গোষ্ঠী তিব্বত মুক্ত করতে সক্রিয় ভিক্ষুদের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। বেইজিং মনে করছে, বর্তমান সরকারে এমন একটা উপদল আছে, যারা নেপালে চীনবিরোধী জনমত উসকে দিতে তৎপর।

চীনের মতো ভারতও নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে গভীর নজরদারিতে রেখেছে। এর মধ্যেই সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির কাঠমান্ডু সফর বাতিল হলো। মিডিয়াগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এখনই এ রকম বৈঠকে আগ্রহী নন বলেই এই সফর হলো না। এমনও খবর ছড়িয়েছে, বালেন ঠিক করেছেন, পদমর্যাদায় তাঁর চেয়ে নিচের কোনো বিদেশির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন না!

বিক্রম মিশ্রির সফর বাতিলের ঘটনা নয়া দিল্লিকে বিব্রত করেছে। একই সঙ্গে এটা নেপালের নাগরিক সমাজেও বিস্ময় বাড়িয়েছে।

স্থলবেষ্টিত নেপালের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীকেই নানা প্রয়োজনে দরকার। উভয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই দেশটির স্বার্থের জন্য অনুকূল। আধুনিক নেপালের প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বী নারায়ণ শাহ বলতেন, নেপালের অবস্থা হলো দুই বিশাল পাথরখণ্ডের মাঝখানে একটা আলুর মতো। ফলে চীন-ভারতের নানা স্তরে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ থাকাটা জরুরি।

এটা সত্য যে চীন-ভারত উভয়ের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বালেন শাহ ও তাঁর অনুসারী সমাজে কঠোর জাতীয়তাবাদী মনোভাব আছে। লিপুলেখ নামের যে এলাকা নিয়ে চীন-ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ চলছে, সেই পথে শেষোক্ত দুই দেশই ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে চাইছে এই জুন থেকে—যা কাঠমান্ডুর মধ্যে উপেক্ষার একটা বোধ তৈরি করেছে। তিন দেশের সীমান্ত-সংযোগের এই জায়গা নিয়ে নেপালের দাবি, নয়া দিল্লি-বেইজিং উভয়ে একজোট হয়ে অবজ্ঞা করছে। এ রকম অবস্থায় উভয় প্রতিবেশীকে দূরে রেখে বালেন শাহ কতটা সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, বাস্তববাদী কূটনীতিবিদেরা তাতে সন্দিহান। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বালেন শাহ প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে যাবেন এবং তখন সীমানা নিয়ে একটা সুরাহা হবে।

বালেনের শাসননীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের আভাস

দেশীয় ও আন্তদেশীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি বালেন শাহ বিতর্কে আছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর পোশাক-আশাকের ধরন নিয়েও। প্রথাগত নেপালি পোশাকের বদলে তাঁর জমকালো ড্রেস, স্পোর্টস শু পরে পার্লামেন্টে হাজির হওয়া ছবি নিয়মিতই ভাইরাল হচ্ছে।

কালো জামা-কাপড় ও কালো সানগ্লাসের প্রতি বালেনের আসক্তি আগেও ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেসব কতটা মানানসই, এই বিতর্কের মধ্যে ১৬ মে তিনি সাদা পোশাক পরে ফেসবুকে ছবি ছাড়ার পর সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর এই রং–বদলের কারণ খুঁজে গবেষকভক্তরা বলছেন, বালেন প্রাথমিক কঠোরতার পর নমনীয় শাসননীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন!

মুখ বন্ধ রেখে ড্রেস পাল্টে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এই ব্যাখ্যা সত্য হলে এ–ও মানতে হবে, এ রকম স্টাইল দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক-সংস্কৃতির একটা মোড়বদলের ইঙ্গিত।

বালেন শাহ কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রজন্মের প্রতিনিধি। যে প্রজন্মের ‘নেতা’রা এভাবেই নতুন নাগরিক সমাজকে মাতিয়ে রাখতে চাইছেন এবং এ রকম কৌশলের বিশ্বাসযোগ্য সফলতাও অস্বীকার করা যায় না। দেশ চালাতে ‘রাজনীতিবিদ’ হওয়া হয়তো জরুরি নয় আর, ‘জনপ্রিয়’ হলেই চলছে। নেপালের অভিজ্ঞতা আপাতত এটাই বলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
চীনের জনগণ (ছবি: সংগৃহীত)
জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা চীনের, পরিবারগুলোকে দেবে বাড়তি সুবিধা

জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে নেমে আসার পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবারগুলোর জন্য আরও সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে চীন সরকার। নতুন করে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে বিয়ে, সন্তান জন্মদান, শিশুর লালনপালন ও শিক্ষাসংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চীনের মন্ত্রিসভা বা স্টেট কাউন্সিলের এক বৈঠকের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   স্টেট কাউন্সিল জানিয়েছে, দেশে ‘জন্মহারবান্ধব সমাজ’ গড়ে তুলতে বিয়ে, সন্তান জন্মদান, শিশুর পরিচর্যা ও শিক্ষাব্যবস্থাসংক্রান্ত নীতিগুলো আরও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি করব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসনসংক্রান্ত নীতিতেও সমন্বয় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সন্তান নেওয়া ও লালনপালনের ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর আর্থিক ও সামাজিক চাপ কমানো। একইসঙ্গে জনসংখ্যার ধারাবাহিক পতন ঠেকিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায় বেইজিং।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনের জনসংখ্যা ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতেও এ নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।   এদিকে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে বিয়ে নিবন্ধনের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়াও ভবিষ্যতে জন্মহার আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।   নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ক্রমহ্রাসমান ও বয়স্ক জনসংখ্যা দেশের সামাজিক বিমাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়ের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   বৈঠকে কর্মকর্তারা বলেন, ‘জনসংখ্যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মৌলিক ভিত্তি।’ তাঁদের মতে, জনসংখ্যার গুণগত উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে পারে।   সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আর্থিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে চীন সরকার। এর মধ্যে দেশজুড়ে শিশু পরিচর্যার জন্য ভর্তুকি কর্মসূচি চালু এবং প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার ফি মওকুফ বা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে।   এ ছাড়া বিয়ে ও সন্তান জন্মদানের বিষয়ে ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। নতুন নীতির মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সন্তান লালনপালনে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।   চীনের মন্ত্রিসভা মৌলিক সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমানোর ওপরও জোর দিয়েছে। এ লক্ষ্যে কয়েক দশক ধরে চালু থাকা পারিবারিক নিবন্ধন বা ‘হুকৌ’ ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।   বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রাম থেকে শহরে আসা অনেক শ্রমিকের জন্য শহরের বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নিবন্ধনব্যবস্থার সংস্কার হলে এসব কর্মী শহরের সরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করানোসহ আরও বেশি নাগরিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।   চীন সরকারের নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পরিবারগুলোর জন্য সন্তান জন্মদান ও লালনপালন সহজ করা, জনসংখ্যার পতন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সহায়তা করা। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
প্রতীকী ছবি।

নাগরিকদের ঘরে তিন দিনের খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত

অরুণাচল সীমান্তে এখনও মুখোমুখি ভারত-চীন, স্বীকার করল আইটিবিপি

ছবি: সংগৃহীত

৭৫ বছরে একবারও কর্মী ছাঁটাই করেনি যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিম তীরের হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে ইসরায়েলি বাহিনী

দখলকৃত পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওই এলাকার একটি আবাসিক এলাকার ভবনগুলো ধ্বংস করা এবং বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল।    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এই প্রথম ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যিনি নিজেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একজন কট্টরপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। আগামী ২৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মাত্র চারদিন আগে এ হামলার ঘটনা ঘটলো।   হামলার পর ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস-আইডিএফ জানায় তারা হেবরন শহরটিকে ’সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ’ করছে এবং নেতানিয়াহু শুক্রবার থেকে পুরো পশ্চিম তীর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহু তাঁর এই সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসে জানান, তিনি হেবরন এবং হালহুল শহরের চারপাশে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির কথা বিবেচনা করছেন, যা প্রয়োজনে অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত হতে পারে। নেতানিয়াহু আরও বলেন, সামরিক বাহিনী হামলার এলাকা থেকে জোরপূর্বক বাসিন্দাদের সরিয়ে দেবে এবং এলাকাটিকে পুরোপুরি বদলে ফেলবে। ২০২৫ সালের শুরুতে জেনিন, তুলকার্ম, নুর শামস এবং আল-ফারআ শরণার্থী শিবিরে একই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল; যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত এবং পুরো একটি এলাকা খালি হয়ে গিয়েছিল।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েলি সিকিউরিটি এজেন্সি-আইএসএ এক যৌথ ঘোষণায় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হেবরন এলাকায় কয়েকদিন ব্যাপী একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ’সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্র খুঁজে বের করতে এবং তা ধ্বংস করতে বাহিনীগুলো পুরো এলাকা জুড়ে নিখুঁত, লক্ষ্যভিত্তিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো শুরু করেছে।’ বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, এই অভিযানটি শুধুমাত্র সেই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যেখান থেকে বন্দুকধারীরা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।   আইডিএফ এবং আইএসএ জানিয়েছে যে, ওই এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দারা তিনটি নির্দিষ্ট এক্সিট পয়েন্ট দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। যাঁদের আচরণ বা পরিচয় সন্দেহজনক মনে হবে, তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।   সামরিক বাহিনী এবং আইএসএ আরও যোগ করেছে যে, এই অভিযানটি সকাল থেকে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপগুলোরই একটি ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে রয়েছে-সন্ত্রাসীদের বাসভবনগুলোর মানচিত্র তৈরি, হেবরন ও হালহুল এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী আরোপ, রোডব্লক স্থাপন এবং পুরো সেক্টরে বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে ওই এলাকার এমন সব স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে।   ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা 'বি'তসেলেম' হেবরনের আবাসিক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, ’ইসরায়েল তাদের পরবর্তী অপরাধের কথা আগেভাগেই ঘোষণা করছে। নেতানিয়াহু এবং কাটজ হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকা খালি করার এবং পশ্চিম তীরের উত্তরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে যে গণ-বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, এখানেও তার পুনরাবৃত্তি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’   শুক্রবার বিকালের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে। সিএনএন-এর প্রাপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ইসরায়েলি সেনা একটি আবাসন কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের বলছেন, ’আপনাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময় আছে।’   নেতানিয়াহু বলেন, ’হেবরনের যে পাড়া থেকে সন্ত্রাসীরা এসেছিল, ঠিক এই কাজটিই আমরা সেখানে করব। আমরা বাসিন্দাদের সরিয়ে দেব, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করব, সেখানে পাওয়া সব অস্ত্র সরিয়ে নেব এবং সমস্ত সন্ত্রাসী অবকাঠামো চিহ্নিত করে ধ্বংস করব।’   এই হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে এমন অন্য কারও সন্ধানে বাহিনীটি পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। আইডিএফ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালেই দুই বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।   ঘটনাস্থলের ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েক মিনিট ধরে তীব্র গোলাগুলি চলছে। রয়টার্সের একটি ভিডিওতে একজন ইসরায়েলি উদ্ধারকারীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় যে, গোলাগুলি অন্তত ২০ মিনিট ধরে চলছে এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন।   আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে, যা প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদে ভর্তি ছিল। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেন, ’এটি একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ছিল। যোদ্ধাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং বেসামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’   তিনি জানান, গাড়িতে থাকা গোলাবারুদগুলো আরও বড় পরিসরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল। জামির আরও বলেন, আইডিএফ সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান বাড়াবে এবং এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করবে। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ’আমরা হামাস সন্ত্রাসী এবং যারা তাদের পাঠিয়েছে, তাদের যেখানেই হোক এবং সব সময় তাড়া করব।’ তবে হামাস এই হামলার প্রশংসা করে বিবৃতি দিলেও এর দায় স্বীকার করেনি।   সূত্র: সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহত ১,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরের সাবমেরিন ক্যাবলে আঘাত হানবে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল বিস্তীর্ণ অঞ্চল

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অক্টোবরই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ক্ষেত্রে চলতি অক্টোবর মাসটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ মাস হিসেবে গণ্য হয়েছে।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ‌‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’-এর সংকলিত তথ্যে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য এই অক্টোবর ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক মাস।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ২৮টি জাহাজে নিশ্চিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে মোট আক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩টি।   এই পরিসংখ্যানটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট ১২০টি আক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করেছে সংস্থাটি।   তবে ‘যুক্তরাজ্য সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, তারা ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩৫টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, অনেক আক্রমণের তথ্য প্রতিবেদনে প্রতিফলিত না-ও হতে পারে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   আইএমও’র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের ৯০০টিরও বেশি সুপারট্যাঙ্কার বহরের প্রায় ৩.৫ শতাংশ জাহাজ এই আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।   সূত্র: আর-জাজিরা।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে কেন স্থবির পুরো পশ্চিম তীর?

ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’র তাণ্ডবে বিপাকে তাইওয়ানবাসী

0 Comments