খেলাধুলা

প্রতিপক্ষকে ১০ গোলের ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়লেন পেপ গার্দিওলা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১০, ২০২৬

ইংলিশ ফুটবলের রেকর্ডবুকে ম্যানচেস্টার সিটির নাম নতুন করে লেখার ঘটনা নয়। তবে এবার যোগ হলো আরেকটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়। এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে একতরফা দাপটে দুর্বল প্রতিপক্ষ এক্সেটার সিটিকে ১০–১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিটিজেনরা।

 

এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে কোচ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১০ গোল করা দল দেখলেন পেপ গার্দিওলা। যদিও রেকর্ডের এই রাতে টাচলাইনে থাকতে পারেননি তিনি। আগের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গ্যালারি থেকেই ম্যাচটি উপভোগ করেন সিটির কোচ।

এই জয়ের ফলে ম্যানচেস্টার সিটি হয়ে উঠেছে ১৯৮৬ সালের পর প্রথম কোনো ইংলিশ শীর্ষস্তরের দল, যারা কোনো প্রতিযোগিতায় ১০ বা তার বেশি গোল করল। এফএ কাপ–এ এমন কীর্তি শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৬০ সালে, যখন টটেনহ্যাম ১৩–২ গোলে হারিয়েছিল ক্রুকে। ৯২ বছর পর আবার এফএ কাপে ১০ গোলের ম্যাচ দেখল দর্শকরা।

মজার বিষয়, এই গোলবন্যায় নাম লেখাননি দলের প্রধান গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। এক্সেটারের শেষ মুহূর্তের সান্ত্বনার গোলের কারণে সিটি তাদের ক্লাব-রেকর্ড নয় গোল ব্যবধান ছাড়াতে না পারলেও, জয়ের দাপট ছিল স্পষ্ট।

এই ম্যাচটি ছিল এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে সিটির টানা ১১তম জয়, যেখানে প্রতিবারই তারা জিতেছে কমপক্ষে তিন গোলের ব্যবধানে। নতুন মুখ সেমিনিয়ো অভিষেক ম্যাচেই গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রাখেন। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তার তৃতীয় ম্যাচ, যেখানে তিনি একই সঙ্গে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন—প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

এ ছাড়া প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের দুটি আত্মঘাতী গোল সিটির কাজ আরও সহজ করে দেয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে সিটির হয়ে গোলদাতার সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে স্মরণীয় করে রাখেন রায়ান ম্যাকএডু ও ম্যাক্স অ্যালিনও।

 

সব মিলিয়ে, কোচ মাঠে না থাকলেও ম্যানচেস্টার সিটির এই জয় ছিল আধিপত্যের স্পষ্ট বার্তা—এফএ কাপে তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, ইতিহাস গড়তেও প্রস্তুত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মেসি ফুটবলের মাইকেল জর্ডান, সে এক অতিমানব: জাভি

লিওনেল মেসিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই—তবু তার সাবেক সতীর্থ ও বার্সেলোনা কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজ আবারও তুলে ধরেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার অনন্যতা। তার মতে, ফুটবল ইতিহাসে মেসির সঙ্গে কারো তুলনা চলে না।   সম্প্রতি এক লেখায় জাভি স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রথমবার মেসির নাম শুনেছিলেন বার্সেলোনার একাডেমিতে এক আর্জেন্টাইন কিশোর যোগ দিতে আসছে শুনে। তখন অনেকেই বলেছিল, এই ছেলেটি আলাদা কিছু হতে চলেছে। তবে শুরুতে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি।   কিন্তু ২০০৪ সালে প্রথমবার মেসির সঙ্গে অনুশীলনে নামার পরই বদলে যায় তার ধারণা। জাভির ভাষায়, “প্রথম দিনই বুঝেছিলাম, সে অন্যরকম। বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবল, পাস—সবকিছুতেই অসাধারণ ছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সে প্রায় ক্লাবের সেরা খেলোয়াড় ছিল।”   বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলা এই দুই তারকার রসায়ন ছিল অনন্য। জাভি বলেন, “মেসির সঙ্গে খেলা খুব সহজ ছিল। আপনি যদি তার সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারেন, তাহলে ফুটবলই খেলতে পারবেন না। সে সবসময় নিখুঁত সময়ে নিখুঁত পাস দিত।”   ৩৮ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জাভি বলেন, সাম্প্রতিক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। তিনি জানান, ম্যাচের পর মেসিকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন—“তুমি জোকস করছ! তোমার খেলা দেখে শুধু হাসতে পারি।”   মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি তার ফুটবল বুদ্ধিমত্তা—এমনটাই মনে করেন জাভি। তার মতে, মেসি সবসময় মাঠের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করেন, প্রতিপক্ষের অবস্থান ও ফাঁকা জায়গা বিশ্লেষণ করেন, এমনকি বাইরে থেকে তাকে হাঁটছে মনে হলেও তিনি আসলে পুরো খেলা পড়ছেন।   সবশেষে মেসিকে সর্বকালের সেরা আখ্যা দিয়ে জাভি বলেন, “মেসি ফুটবলের মাইকেল জর্ডান। তার সঙ্গে কারো তুলনা হয় না। গত ২০ বছর ধরে সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। আমি মনে করি, মেসির মতো আর কাউকে আমরা কখনো দেখব না।”   উল্লেখ্য, এনবিএ কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডান ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাস্কেটবলে যেভাবে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে আছেন, জাভির এই তুলনা মেসির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেসি আমার চেয়ে এগিয়ে’, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড প্রসঙ্গে এমবাপে

ছবি : সংগৃহীত

ড্রেসিংরুমে চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান, লাল কালিতে লেখা বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

গেইলের রেকর্ড ভেঙে পোলার্ডের বার্তা, ‘সরি, ইউনিভার্স বস

ছবি: সংগৃহীত
পেলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল

সৌদি আরবের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেই ইতিহাসে নাম লেখালেন স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামাল। কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।    স্পেনের হয়ে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল করেন ইয়ামাল। তাতে ১৮ বছর বা তার কম বয়সী হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।  গোল করার সময় ইয়ামালের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন।    এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন শুধুমাত্র পেলে। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করেছিলেন তখনকার ১৭ বছর বয়সী পেলে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬

সবার জুতা এক রঙের হলেও মেসিরটা কেন আলাদা?

একাদশ থেকে বাদ পড়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শেখ মেহেদীর

সালাহ’র নৈপুণ্যে চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে ঐতিহাসিক জয় মিসরের

বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে টেবিলের শীর্ষে ইরান

শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’র টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ১০ জনের বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি ০-০ ব্যবধানে শেষ হওয়ায় দুই দলই মূল্যবান ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নিয়েছে। ২ ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট এবং বেশি গোল করার সুবাদে বেলজিয়ামকে দুই নম্বরে নামিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থানটি দখল করেছে ইরান।   মাঠের শক্তিতে বেলজিয়াম যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ফুটবলবিশ্ব দেখল এক চরম নাটকীয় ম্যাচ। প্রথমার্ধে ইরানের গোল বাতিল আর দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ামের লাল কার্ডের ধাক্কা- সব মিলিয়ে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা।   ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৫ মিনিটে প্রথম নাটকীয়তার জন্ম হয়। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়িয়ে উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন ইরানি ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির নিখুঁত অফসাইড কলে কপাল পোড়ে ইরানের। অল্পের জন্য অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি।   ১-০ লিড পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ভাগ্য ইরানের দিকে আরও হেলে পড়ে বেলজিয়াম শিবিরে লাল কার্ডের আঘাতে। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ইরানের একটি বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসেন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। এর আগেই হলুদ কার্ড থাকায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।   ১০ জনের বেলজিয়ামকে পেয়ে শেষ ২০ মিনিট আক্রমণের ধার বাড়ায় ইরান। তবে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দারুণ কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই ম্যাচ শেষে ২ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের দৌড়ে বেলজিয়ামের সমানতালেই টিকে রইল লড়াকু ইরান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে আপত্তি, অস্ট্রিয়াকে সমীহ আর্জেন্টিনা কোচের

সংগৃহীত ছবি

ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

সিরিজ হারের দায় ব্যাটারদের দিলেন বাংলাদেশ কোচ

0 Comments