সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও গ্রেড সংক্রান্ত দাবির কারণে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে ক্লাসও বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ডাকে এই কর্মবিরতি আগামীকাল পর্যন্ত চলবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনও দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ জানিয়েছে, দশম গ্রেডসহ তিনটি দাবি আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে পূর্ণ হবে না, তাহলে ৩০ নভেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হবে। এই সংগঠনটি চারটি সহকারী শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৩তম গ্রেড থেকে ১০ গ্রেড দেওয়া সম্ভব নয়। এতে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় সংশয় দেখা দিয়েছে।
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মূলত সহকারী শিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল। ৬৫,৫৬৯টি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩,৮৪,৯৮১। প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩৫,০০০, বাকি সবাই সহকারী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৫.৭৩ শতাংশ। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন দিলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা; ১১তম গ্রেড বাস্তবায়িত হলে ব্যয় হবে ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ ৬৬,০০০ শিক্ষক এখনও কর্মরত। আগামী চার বছরে প্রায় ২২,০০০ শিক্ষক অবসরে যাবেন, বাকিদের অবসর নিতে লাগবে আরও ১০ বছর। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তাদের অবসরের আগে দশম গ্রেডে সহকারী শিক্ষকদের উন্নীত করা সম্ভব নয়।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো:
১. দশম গ্রেডে বেতন প্রাপ্তি,
২. উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান,
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে সহকারী শিক্ষকরা বারবার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গত ৮ নভেম্বর একটি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের আহত ও নিহত সদস্যদের ক্ষতিপূরণ, রাষ্ট্রীয় সুচিকিৎসা ও পূর্ণ পেনশন প্রদানের দাবি জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ জন আহ্বায়ক, আরেকজন অসুস্থতার কারণে উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও দাবি তুলে ধরা হয়।
অবস্থান ও কর্মবিরতির কারণে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও ক্লাস এবং পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হচ্ছে। দাবি আদায়ের পর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর জন্য ছুটির দিনগুলোতে তা পুনঃনির্ধারিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, ১৯৯১ সালের বিধিমালায় নারী প্রার্থীরা এসএসসি পাশ ও পুরুষরা এইচএসসি পাশ হলে প্রাথমিক শিক্ষক হতে পারতেন। বর্তমানে এই শিক্ষকরা ১০ বছর পর অবসর নেবেন, এরপর শতভাগ স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষক প্রাথমিক পর্যায়ে আসবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এগুলোকে তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। আজ শনিবার আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষায় কার্যকর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আবরার বলেন, শিক্ষা হলো নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের একটি প্রধান ক্ষেত্র। তরুণদের অংশগ্রহণ যেন শুধু প্রতীকী বা লোক দেখানো না হয়, বরং তা হতে হবে বাস্তব ও কার্যকর। তিনি বলেন, আমরা তরুণদের অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট চাই। তাদের সক্রিয় মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বৈষম্য নিরসন সমাজে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। এ ধরনের একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের মালিকানা নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এক সময় নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কা থাকলেও তরুণরাই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে। তাই শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় সকল কাঠামোতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয় এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক। সহায়ক পরিবেশ ও রিসোর্স মোবিলাইজেশন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. আবরার। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্স মোবিলাইজেশন এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাগুলোর একটি ঘোড়দৌড় আজ বিলুপ্তির পথে। সময়ের বিবর্তনে গ্রামবাংলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই জনপ্রিয় খেলাটি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। তবে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রয়াসে দেশের কিছু এলাকায় এখনও নিয়মিতভাবে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চৌরাশী গ্রামের মাঠে স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন কয়েক হাজার দর্শক। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মাঠজুড়ে ছোট-বড়, লাল, কালো ও সাদা রঙের নানা জাতের ঘোড়া দৌড়ে অংশ নেয়। মাদারীপুর ছাড়াও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঘোড়াগুলো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ঘোড়সওয়ার সাব্বির হোসেন জানান, তিনি রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকা থেকে ‘দুই ভাইয়ের মায়া’ নামের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুরস্কারের জন্য নয়, শখের বসেই ঘোড়া দৌড়ে অংশ নিই।’ অপর ঘোড়সওয়ার নাবিল হোসেন বলেন, ‘রনজিৎ বাচ্চা নামের ঘোড়াটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। এই দৌড় আমার কাছে আনন্দের।’ দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা কয়েক দফায় অনুষ্ঠিত হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি ঘোড়াই আলাদা ও ব্যতিক্রমী নামে পরিচিত। কংসরাজ, দুই ভাইয়ের মায়া, টেকর পাখি, দাদা-নাতি, হংসরাজ, টিপু সুলতান, মায়ের রাজা, মুকুট রাজা, বাংলা ভাই, ট্রিগার, রনজিৎ বাচ্চা, আর্মি টাইগার, সোনার ময়না, নিউ সোনার তরীসহ মোট ৪৬টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শক নবনীতা রায় বলেন, ‘অনেক দিন পর ঘোড়দৌড় দেখলাম। এখন আর আগের মতো এই আয়োজন দেখা যায় না। এত মানুষ একসঙ্গে এসে ঐতিহ্যবাহী এই খেলা উপভোগ করছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগছে।’ আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ঘোড়াগুলোর মালিক ও ঘোড়সওয়ারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ‘ছোট ঘোড়া’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘শুভরাজ’, দ্বিতীয় ‘আমার স্বপ্ন’ এবং তৃতীয় হয় ‘আর্মি টাইগার’। ‘বড় ঘোড়া’ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয় ‘জয় বাংলা’, দ্বিতীয় ‘সোনার ময়না’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘নিউ সোনার তরী’। এছাড়া ‘রনজিৎ বাচ্চা’ বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে। বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় দর্শক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
ময়মনসিংহ জেলায় অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার মুক্তাগাছা উপজেলার পৃথক দুই স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গতকাল ১০ টায় মুক্তাগাছা পৌর এলাকার হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ২৫০ জন দরিদ্র রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। এসময় বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার সরকারি শারীরিক শিক্ষক কলেজ মাঠে ৫০০ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়া মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ উপস্থিত হয়ে এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।