আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানির প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৫১ জন। আর একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে তিনজনের বিষয়টি অপেক্ষমাণ রয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন অডিটোরিয়ামে প্রথম দিনের শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনাররাও অংশ নেন। প্রথম দিন নির্ধারিত ৭০টি আপিল আবেদনের শুনানি করা হয়।
আপিল আবেদন শুনানিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ ৫১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তাদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেছিলেন। পরে ইসিতে এ বিষয়ে আপিল করেন তারা।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির এম এ হান্নানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে কমিশন। তার নামে মামলা ও পলাতক থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা
আপিল মঞ্জুর হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন রংপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম বাসার, শরীয়তপুর-১ আসনের মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা (স্বতন্ত্র), শরীয়তপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল হান্নান, নরসিংদী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা, ফরিদপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান, গাজীপুর-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. রুহুল আমীন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরউদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম, রাজশাহী-৫ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা, কুমিল্লা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, লালমনিরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সামা মো. রেদওয়ানুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা, চাঁদপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানসুর, মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহা. কামরুল ইসলাম সাইদ, বগুড়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শাহজাহান আলী তালুকদার, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মো. শাহীন রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, চাঁদপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির হাবিব খান, কুমিল্লা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবদুল হক আমিন, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার, ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আল রাশেদ প্রধান, নরসিংদী-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, মাগুরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, গাইবান্ধা-১ আসনে মো. মোস্তফা মহসিন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ঝালকাঠী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান খান, কক্সবাজার-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, শরীয়তপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনে ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি শামীম আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, শরীয়তপুর-১ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নুর মোহাম্মদ মিয়াআসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী, গাজীপুর-৫ আসনে জাতীয় পার্টির ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার, ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের দিলরুবা, নরসিংদী-২ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নড়াইল-২ আসনে জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান, দিনাজপুর-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ, খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন), ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ হারুন-অর- রশীদ এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ।
যাদের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে
নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম, রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মঞ্জুম আলী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রনী মোল্লা, ঢাকা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন, খুলনা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাস, ঢাকা-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আজাবুল হক, নড়াইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জল মোল্যা, পাবনা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. হাসানুল ইসলাম, খুলনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মোল্যা (অনুপস্থিত), কুমিল্লা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, কক্সবাজার-৩ আসনে মো. ইলিয়াছ মিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুছা সিরাজী।
সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে যাদের
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন, যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান ও পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবরি প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিমান টিকিটের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। বুহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের (সুনামগঞ্জ-১) টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, টিকিট বিক্রিতে সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রোধে টিকিটে ভাড়া, ট্রাভেল এজেন্সির নাম এবং লাইসেন্স নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা সিন্ডিকেট কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আফরোজা খানম বলেন, যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখতে মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে আলোচনা করছে। দেশীয় রুটে বিমান ভাড়ার ওঠানামার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ‘রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে। এ ব্যবস্থায় যাত্রী চাহিদা, টিকিট বুকিংয়ের সময় এবং অন্যান্য পরিচালনাগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া পরিবর্তিত হয়। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য পরিবহন সংস্থা জ্বালানির মূল্য, পরিচালন ব্যয়, উড়োজাহাজের ধরন, ভ্রমণের তারিখ ও সময়, পিক ও অফ-পিক মৌসুম, যাত্রী চাহিদা, আসনের প্রাপ্যতা, অগ্রিম বুকিং এবং সেবার মান বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করে। মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বেশি থাকলে সাধারণত ভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং চাহিদা কম থাকলে ভাড়া হ্রাস পায়। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট বা স্থির ভাড়া নির্ধারণ মুক্তবাজার অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া সহনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতীয় সংসদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর প্রচলিত রীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন স্পিকার। তিনি জানান, সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বাভাবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পিকার বলেন, সংসদ একটি রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এখানে শিষ্টাচার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা অনেক সময় স্বাভাবিক পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করে। তাই সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছন্দ ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকবে, তবে তা আনুষ্ঠানিক রীতিনীতির মাধ্যমে প্রকাশ না করে স্বাভাবিক আচরণ ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই প্রতিফলিত হওয়া উচিত। এ সিদ্ধান্তের ফলে সংসদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানানোর বাধ্যতামূলক বা প্রচলিত রীতি আর থাকবে না বলে জানা গেছে। স্পিকারের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংসদীয় অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিনের সংসদীয় শিষ্টাচারের একটি ঐতিহ্যগত দিক হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তবে স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, সংসদের মূল লক্ষ্য আইন প্রণয়ন ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা— তাই আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে কার্যকারিতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
সংসদে দাঁড়িয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মিজানুর রহমাননের মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও ওয়াশিং মেশিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে খোঁচা দিয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, ওভেনের প্রয়োজন হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবেই তা দিতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো, তিনি যদি একটি ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে তাকেও অনুরোধ করতাম, তিনি যেন পর্দার ব্যবস্থা করেন। তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে তার সংসারটি গুছিয়ে দিতে পারতাম। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই পার্থ বলেন, অনেক কষ্টের পরে এই সংসদ পেয়েছি। আমার প্রথম বক্তব্যেও বলেছিলাম, এই সংসদের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এখানে স্বৈরাচারের কোনো দোসর বা ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধি নেই। গত সংসদ শুধু গণতন্ত্রকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, সংসদের মর্যাদা ও মানকেও অনেক নিচে নামিয়ে এনেছিল। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমরা সরাসরি সেই পথে না গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবারও একই ধরনের প্রবণতার দিকে এগোচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু সংসদ সদস্য নই, আমরা এই সংসদের প্রতিনিধিও। দেশের বাইরে কিংবা জনসমক্ষে আমরা সংসদের ভাবমূর্তি বহন করি। সম্প্রতি সংসদের অধিবেশন শেষে আমি অনেকের ফোন পেয়েছি। তখন আমাকে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে, কারণ সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে, ‘জামায়াত এমপি ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ অ্যান্ড কার্টেইন্স। বিষয়টিকে বিব্রত ও সংসদের জন্যও অস্বস্তিকর উল্লেখ করে পার্থ বলেন, জনগণের সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা বলার জায়গা হলো সংসদ। সেখানে একজন সংসদ সদস্য যদি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ বা পর্দা না পাওয়া নিয়ে বক্তব্য দেন, তাহলে সেটি সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি ভাবার বিষয়। গাড়ি বা প্লট নেয়া হবে না, এমন সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তাহলে প্রশ্ন জাগে, যখন গাড়ি ও প্লটের মতো সুবিধা ত্যাগ করা হয়েছে, তখন কেন সংসদে দাঁড়িয়ে মাইক্রোওয়েভ বা ওয়াশিং মেশিনের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে? সংসদের মর্যাদা, মান ও অবস্থান আমাদের সবারই রক্ষা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন পার্থ। বলেন, বিশেষ করে সরকারি ও বিরোধীদল, সবার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। আজ অন্য কাউকে বলা হচ্ছে, কাল হয়তো আমাদেরকেও বলা হতে পারে। তাই আমি সাধারণভাবে বলতে চাই, সংসদের মান ও মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রসঙ্গত, বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর এমপি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও এই মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মাননীয় স্পিকার, মাননীয় সংসদ সদস্যরা অনেক টাকার সম্পূরক বাজেটও পাস করেছে। কিন্তু এ সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে, থাকার জন্য যেটা দেয়া হয়েছে, তার জানালা–দরজার পর্দাটি এখনও পর্যন্ত ঝোলানো হয়নি। স্পিকারের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সুতরাং জোর দাবি জানাচ্ছি, আমরা শুনেছিলাম যে আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রো ওভেনও দেয়া হবে। এই পর্দা, মাইক্রো ওভেন এবং ওয়াশিং মেশিনগুলো আপনার মাধ্যমে পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।