সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা জাওয়াজাত গত রজব মাসে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৯ হাজার ৫৫৯ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় নাগরিক ও প্রবাসী উভয়ের বিরুদ্ধেই নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসনিক কমিটি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয় দেওয়া, পরিবহন সুবিধা দেওয়া বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের আইন লঙ্ঘনকারীদের তথ্য গোপন করা বা তাদের যেকোনো উপায়ে সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সৌদি সরকার কঠোরভাবে জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের সহায়তাকারীদেরও সমভাবে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসাধারণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা ৯৯৯ নম্বরে কল করে এ জাতীয় অপরাধের তথ্য জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাদের ওপর কোনো আইনি দায়ভার আসবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো দুই দিনব্যাপী (২১ ও ২২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্বের ২৭টি দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশি ইউথ এলায়েন্স মালয়েশিয়া (বিয়াম)। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, সৌদি আরব, মিশর ও ইরানসহ মোট ২৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতি ও অবদানকে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, সৌদি আরব, মিশর ও ইরানসহ মোট ২৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যে ঘেরা প্রায় ১২টি সাংস্কৃতিক বুথ স্থাপন করা হয়। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রোজনিজাহ বিনতি শারী। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অনুষদের প্রথিতযশা প্রফেসরবৃন্দ। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজ নিজ গান, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরে। তবে বিয়াম সিটি ইউনিভার্সিটি চ্যাপ্টারের তত্ত্বাবধানে নির্মিত বাংলাদেশি বুথটি দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কাড়ে। বুথটিতে বাংলার চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবগাথা ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রয়াত হাদির স্মরণে উৎসর্গকৃত বিশেষ কর্নার। সেখানে তার জীবন, আদর্শ এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য তার অনবদ্য অবদান তুলে ধরা হয়, যা অনেক দর্শনার্থীকে আবেগাপ্লুত করে। বিয়ামের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি এবং সিটি ইউনিভার্সিটি চ্যাপ্টারের পরিচালক এমডি রফিকুল বলেন, ‘হাদি ভাই আমাদের যুবসমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তার স্মৃতি ও আদর্শকে বিশ্বদরবারে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই আমরা এই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বেছে নিয়েছি।’ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিয়ামের কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট বশির ইবনে জাফর ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সফল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বিয়াম সিটি ইউনিভার্সিটি চ্যাপ্টারের ২৬তম সেশনের প্রেসিডেন্ট মোহাইমিনুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিবিড়, সেক্রেটারি রাশেদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি সাফিউল, সহ-পরিচালক সুমাইয়া, সাংস্কৃতিক সেক্রেটারি তামিম এবং দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজসহ চ্যাপ্টারের অন্যান্য সদস্যরা।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল বা স্থগিত করেছে কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “ইরানের দিকে বড় নৌবহর/ফ্লিট যাচ্ছে”–ধরনের মন্তব্য ও অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডাচ এয়ারলাইন কেএলএম জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা ইরান, ইরাক ও ইসরায়েলসহ গালফ অঞ্চলের একাধিক দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে। এর ফলে দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম এবং ইসরায়েলের তেলআবিবে তাদের ফ্লাইট “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” স্থগিত থাকবে। এয়ার ফ্রান্সও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দুবাই রুটে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিস–দুবাই রুটে নির্দিষ্ট কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং কানাডার এয়ার কানাডা তেলআবিবগামী ফ্লাইটও বাতিল করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় কয়েকটি এয়ারলাইনও তাদের রুট ও সময়সূচিতে সীমিতকরণ বা পুনর্বিন্যাস করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা এড়িয়ে চলা ও ফ্লাইট স্থগিতের ফলে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে যাত্রী পরিবহন ও ট্রানজিট ফ্লাইটে সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তার ওপর ভিত্তি করে ফ্লাইট পুনরারম্ভ বা আরও সীমিতকরণের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
অবৈধ বসবাস ও শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে গত এক বছরে সৌদি আরব থেকে ৪ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশটিতে অবৈধ প্রবেশ ও অনিয়ম ঠেকাতে চালানো অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১২০০ জনেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে আইনভঙ্গের অভিযোগে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা মুসল্লি থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশের ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয় গন্তব্য সৌদি আরব। তবে অবৈধ প্রবেশ ও অবৈধ বসবাস ঠেকাতে এখন দেশটিতে চলমান কঠোর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। অভিবাসন ও শ্রম আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটি উন্মুক্ত থাকলেও একটি ছোট অংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা অননুমোদিত সীমান্তপথে দেশে ঢোকার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করছে। এসব ঠেকাতে আইনভঙ্গকারীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আটক করতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সারা দেশে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর এসব অভিযানে মোট ৭ লাখ ৮২ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করছিল। এর মধ্যে ইয়েমেনি নাগরিকদের সংখ্যাই ছিল বেশি। আর এর কারণ হিসেবে ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের লাগোয়া সীমান্তকেই দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া ইথিওপিয়া ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অনেককে অবৈধ পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময়ও আটক করা হয়েছে। আর এই গ্রেপ্তারের বেশিরভাগই বসবাস ও শ্রম আইনের লঙ্ঘন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইনের আওতায় করা হয়েছে। শুধু গত বছরেই প্রায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ জনকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জনকে দেশছাড়া করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সতর্ক করেছে, অপরাধীদের পরিবহন সুবিধা দেয়া, আশ্রয় দেয়া কিংবা যেকোনও ধরনের সাহায্য বা সেবা প্রদান করাসহ যারা অবৈধ প্রবেশে সহায়তা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই শাস্তির মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি জব্দের মতো পদক্ষেপও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সৌদি আরব বৈধপথে ভ্রমণ, হজ, ওমরাহ ও পর্যটনের জন্য বিস্তৃত ও সুস্পষ্ট বৈধ সুযোগ রেখেছে। বর্তমানে পর্যটন ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা, ট্রানজিট ভিসা ও কনস্যুলার ভিসাসহ একাধিক ভিসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে জানিয়েছে, এই অভিযান পর্যটন বা ধর্মীয় সফর নিরুৎসাহিত করার জন্য নয়। বরং যারা আইন মেনে দেশে আসছেন, তাদের স্বাগত জানানো এবং যারা বসবাস, শ্রম ও সীমান্ত আইন ভঙ্গ করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়াই এই অভিযানের লক্ষ্য।