বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের ফুটবলকে ছড়িয়ে দিতে আমাদের বড় পরিকল্পনা রয়েছে| প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছে অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণী থেকে যে চারটি খেলা বাধ্যতামূলক থাকবে তার মধ্যে একটি হলো ফুটবল| শুধু দূর্যোগ-দূর্ঘটনা কিংবা গার্মেন্ট শিল্পের জন্য নয়, আগামীতে ফুটবল খেলার মাধ্যমে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে চিনবে| ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনাতে সবচেয়ে বড় দর্শক বেইস হলো বাংলাদেশের| এভাবেই ফুটবলকেই দেশের দূত হিসেবে ব্যবহার করতে চাই| দ্রুত সময়ের মধ্যেই কোচের সাথে চুক্তি হবে, ক্যাম্প শুরুর আগেই কোচ আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি|
তাবিথ আজ দুপুরে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নয়াচর সিরাজনগর উম্মুলকুরা মাদরাসায় অরফান লাভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এতিম শিশুদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন|
অরফান লাভ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ফুটবল ফেস্টিবলের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল|
সিটি ব্যাংকের সহযোগিতায় এসময় মাদরাসার এতিম পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল ও স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়| এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন|
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। টেস্ট দলে এবারও জায়গা হলো না ভারতীয় তারকা পেসার মোহাম্মদ শামীর। স্কোয়াড থেকে মোহাম্মদ শামির বাদ পড়াটা কি কোন ইঙ্গিত বহন করছে। নির্বাচকরা এই অভিজ্ঞ পেসারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এ নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে। বিষয়টি পরিষ্কার করেছে প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার। ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন শামী। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সব ফরম্যাটে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়ার দিকে ব্যাপকভাবে মনোযোগ দিয়েছে ভারত। সিনিয়র খেলোয়াড়দের সুযোগ দ্রুত কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্টের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টতই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত । বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে বেশ কিছু তরুণকে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে শামির জাতীয় দলে পুনরায় জায়গা পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়বে। প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার বলেছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে শামি এখনো লাল বলের ক্রিকেটের ধকল সামলানোর জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন। আমাদের যতটুকু জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে তার শরীর তাকে সায় দিচ্ছে… আমি জানি সে এই বছর ঘরোয়া মৌসুমে খেলেছে। কিন্তু আমি যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এই মুহূর্তে সে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যই প্রস্তুত। তাই তার নাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে যোগ করে এই নির্বাচক। শামীকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রধান নির্বাচকের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান ওয়াসিম জাফর। তিনি এই যুক্তিকে শামীর মতো একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, এই অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তারপর থেকে সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন। কিন্তু তাতে টেস্টে ডাক পেলেন না।
শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিততেই হতো ম্যানচেস্টার সিটির। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর, মরিয়া হয়ে চেষ্টা করল তারা। সুযোগ পেল ঢের, শেষ সময়ে গিয়ে একটি গোলও পেল দলটি। কিন্তু তা যথেষ্ট হলো না। তাদের হোঁচটে ২২ বছরের খরা ঘুচিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল আর্সেনাল। ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা শেষ হয়ে গেল পেপ গুয়ার্দিওলার দলের। ইলি জুনিয়র কোপির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, সমতা টানেন আর্লিং হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে এই মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল সিটি। এবার স্কোরলাইনে হার এড়াতে পারলেও, এই ড্র তাদের জন্য অনেক বড় হতাশার। খুব কাছে গিয়েও যে আরেকটি ট্রফিতে চুমু আঁকা হলো না। আগের দিন বার্নলিকে হারানোর পর, আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, সিটির বিপক্ষে ম্যাচে তিনিই বোর্নমাউথের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় সমর্থক’ থাকবেন। তার চাওয়া পূরণ হলো, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পালা ফুরাল আর্সেনালের। এর আগে সবশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ‘গানার’ খ্যাত দলটি। ৩৭ রাউন্ড শেষে ২৫ জয় ও সাত ড্রয়ে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত হলো আর্তেতার দলের। ৪ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে সিটি। ম্যাচ শুরুর আগমুহূর্তে টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়লেন এক সিটি সমর্থক, যিনি এক টুকরো কাপড়ে ‘পেপ স্টে (পেপ গুয়ার্দিওলা থাকুন)’ লিখে উঁচিয়ে ধরেন। দুই দিন ধরে ইংলিশ গণমাধ্যমে খবর আসছে, আগামী রোববার অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ম্যাচ দিয়ে বর্ণাঢ্য সিটি অধ্যায়ের ইতি টানবেন এই স্প্যানিশ কোচ। খবরটি সত্যি হলে, বলা যায় সিটির ইতিহাসে এক সাফল্যে ভরা অধ্যায়ের শেষ হবে, যার রূপকার এই স্প্যানিশ কোচ। যদিও এই হোঁচটে এখানে তার একদম শেষটা শিরোপায় রাঙানো হচ্ছে না। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই ডি-বক্সে ভালো পজিশনে বল পান জেরেমি ডোকু, কিন্তু তার দুর্বল শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি। ছয় মিনিট পর, হলান্ডের থ্রু বল ধরে জালে পাঠান অ্যান্টোয়ান সেমেনিও; কিন্তু অফসাইডে ছিলেন তিনি। প্রথম আধা ঘণ্টায় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে কঠিন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি সিটি। এমনকি, তারা লিগে ১৬ ম্যাচে অপরাজিত থেকে খেলতে নামা বোর্নমাউথের জমাট রক্ষণই ভাঙতে পারছিল না। উল্টো ৩৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের এক পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে পড়ে সিটি। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়ে, প্রায় ১৭ গজ দূর থেকে চমৎকার বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোলটি করেন তরুণ ফরাসি ফরোয়ার্ড ইলি জুনিয়র কোপি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতা টানার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও হতাশ করেন নিকো ও’রাইলি। হলান্ডের পাস ডি-বক্সে পান তিনি, সামনে একমাত্র বাধা ছিলেন গোলরক্ষক; তরুণ ইংলিশ ফরোয়ার্ডের শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৫১তম মিনিটে আবার গোল খেতে বসে সিটি। তবে এভানিলসনের শট আটকে ব্যবধান বাড়তে দেননি জানলু্ইজি দোন্নারুম্মা। নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করার দারুণ সুযোগ পান ডেভিড ব্রুকস, কিন্তু ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও দুর্বল শট নিয়ে হতাশ করেন তিনি। পরের মিনিটে আবারও দোন্নারুম্মাকে একা পান ওয়েলসের এই উইঙ্গার, এবার তিনি মারেন পোস্টে। যোগ করা সময়ের কয়েক মিনিটে যেন শেষ কামড় দিতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে সিটি। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে রদ্রি ফাউলের শিকার হওয়ায় ফ্রি কিক পায় তারা। ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালে বাধা পেলেও, আক্রমণ জিইয়ে থাকে, এবং পরমুহূর্তে রদ্রির শট বাধা পায় পোস্টে। এরপরও বল থাকে সিটির পায়ে। জোরাল শট নেন হলান্ড, বল দূরের পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে লুটোপুটি খায়। কিন্তু তাদের কারো মুখে কোনো হাসি ছিল না, সময় যে ফুরিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত হলান্ডদের মুখে হাসি আর ফেরেনি। এই ড্রয়ে ১২৭ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলা নিশ্চিত হয়েছে বোর্নমাউথের। আগামী মৌসুমে অন্ততপক্ষে ইউরোপা লিগে খেলবে তারা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনাও তাদের টিকে আছে এখনও। টানা ১৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত দলটি ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তার ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই, শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করা। বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হলেও বিশ্বকাপ শিরোপা এখনো তার ক্যারিয়ারের বড় অপূর্ণতা। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ছিল তার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপর আর কখনো কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেননি তিনি। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ ২৭ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন। দলে অতিরিক্ত একজন গোলরক্ষকও রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ফিট থাকলেও কিছু খেলোয়াড় সামান্য ইনজুরিতে ছিলেন। রোনালদোর পাশাপাশি এবার দলের প্রধান তারকা হিসেবে ধরা হচ্ছে ব্রুনো ফার্নান্দেসকে। মধ্যমাঠে ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস এবং রক্ষণভাগে নুনো মেন্ডেস দলের শক্তি বাড়িয়েছে। আক্রমণভাগে নজর থাকবে জোয়াও ফেলিক্স এবং রাফায়েল লেওর পারফরম্যান্সে। পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল গোলকিপার: দিয়োগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্ডো ভেলো ডিফেন্ডার: টোমাস আরাউজো, জোয়াও ক্যানসেলো, দিয়োগো ডালোট, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস, মাতেউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, রেনাতো ভেইগা মিডফিল্ডার: সামু কোস্তা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, রুবেন নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনহা ফরোয়ার্ড: ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স, গনসালো গেদেস, রাফায়েল লেও, পেদ্রো নেতো, গনসালো রামোস, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ফ্রান্সিসকো ট্রিনকাও।