আবারও আলোচনায় বিদেশে নির্বাসিত ইরানের 'যুবরাজ' রেজা পাহলাভি। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের শুরু থেকেই উসকানি দিয়ে আসছেন এই ক্রাউন প্রিন্স। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের পক্ষে একের পর এক বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও রয়েছে তার যোগাযোগ।
মূলত, শিয়া মুসলিম হওয়ার পরও জেরুজালেমে ইহুদিদের মতো করেই প্রার্থনা করতে দেখা যায় রেজাকে। ঘনিষ্ঠতা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যখন জ্বলছে ইরান, তখন আবারও আলোচনায় এই ইরানি যুবরাজ। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী সরকারের পতনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা দিয়ে আসছেন। রাজপথে অনড় অবস্থান নিয়ে শহরের কেন্দ্র দখল করতে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ পাঠিয়েছেন ভিডিওবার্তায়।
রেজা বলেন, 'আমার প্রিয় দেশবাসী, ইরানের রাস্তায় আপনাদের বিশাল উপস্থিতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিশ্বাসঘাতক ও খুনি শাসকদের জন্য দাতভাঙ্গা জবাব। এমন পরিস্থিতিতে আমি দেশের অর্থনীতির মূল খাতগুলো, বিশেষ করে পরিবহন, তেল-গ্যাস এবং জ্বালানি শ্রমিক ভাইদের দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য এখন আর সড়কে সীমাবদ্ধ নেই। এখন আমাদের উদ্দেশ্য শহরের কেন্দ্রগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়া। আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন, প্রয়োজনীয় রসদ সঙ্গে রাখুন, বিজয় আমাদেরই হবে।'
চার দশকের বেশি সময় ধরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন রেজা পাহলাভি। এ অবস্থায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার উসকানি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আন্দোলনকারীদের অনেককেই ইরানের রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একদিকে ইহুদি সম্পৃক্ততা অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা ঘনিষ্ঠতা রয়েছে রেজা পাহলাভির। খামেনি প্রশাসনকে সরিয়ে তার নেতৃত্বে আবারও রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হতে পারে, এমন আভাসও দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।
অবশ্য, নির্বাসিত হলেও নিজেকে 'ক্রাউন প্রিন্স' বলেই পরিচয় দেন রেজা। বাবার হারানো মসনদে বসতেই রাজতন্ত্র ফেরাতে চান কী না, এমন প্রশ্নের উত্তর জনগণের হাতে ছেড়ে দেয়ার কথা জানান তিনি।
১৯৭৯ সালে ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের সময় সপরিবারে ইরান ত্যাগ করে মিশরে আশ্রয় নেন তৎকালীন সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহেলভী। দেশত্যাগের পর মরক্কো, বাহামা ও মেক্সিকো ঘুরে বাবার মৃত্যুর পর মার্কিন মুলুকে স্থায়ী হন রেজা পাহেলভী। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন ৬৫ বছর বয়সী রেজা। বর্তমানে স্ত্রী ইয়াসমিন এতেমাদি ও তিন সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বাস করছেন তিনি।
শুধুমাত্র নির্বাসিত যুবরাজ নয়, যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবেও পরিচিত রেজা। ১৭ বছর বয়সে প্রথমে ইম্পেরিয়াল ইরানি বিমান বাহিনীর একজন ক্যাডেট হিসেবে তার যাত্রা শুরু। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষন নেন তিনি। বর্তমানে একজন সৌখিন আলোকচিত্রী, পাইলট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট সংঘাত এখন যুদ্ধবিরতিতে রূপ নেওয়ার পর দেশের জনগণের উদ্দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে ইরান সরকার। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরিনি এসব বিষয় তুলে ধরেছেন। চলতি সপ্তাহে তারশত বিদ্যুৎকেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, অর্থনীতি, শিক্ষা ও খাদ্য সরবরাহসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি (এসএনএন) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: ফাতেমা মোহাজেরিনি জানান, নেকা অঞ্চলে একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট মাত্র ৯৯ দিনে চালু করা হয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য অর্জন। সংকটকালেও বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সচল রাখতে যারা কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। শ্রমিকদের অবদান: তিনি বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যেও পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মতো পেছনের সারির কর্মীদের কাজও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সব শ্রমিককে শুভেচ্ছা জানান। ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: সংকটের সময় ব্যবসায়িক যোগাযোগ বজায় রাখতে বিশেষ ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর কথা জানান মুখপাত্র। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এটি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নের সুযোগ হিসেবেও বর্তমান সময়কে দেখছে সরকার। নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সমন্বয়: সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে বলে জানান ফাতেমা। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষা খাতে ক্ষয়ক্ষতি: সংঘাতে ১৬টি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। আবাসন পুনর্গঠন: বেসরকারি খাতে ১৮ হাজারের বেশি আবাসন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পুনর্গঠনে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। পরিবহন ও অর্থনীতি: অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও আন্তর্জাতিক রুটে ভাড়া বৃদ্ধি স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন মুখপাত্র। তবে এ বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হবে। গণমাধ্যম ও কর্মসংস্থান: মিডিয়া ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। খাদ্য সরবরাহ নিয়ে আশ্বস্ত: নৌ অবরোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্য নিজস্ব উৎপাদন থেকেই আসে, ফলে সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ভোক্তা আচরণে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘নজিরবিহীন’ অভিযান চালানোর দাবি করেছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর প্রধান ডেভিড বার্নিয়া। এই অভিযানকে তিনি ইসরায়েলের কৌশলগত সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্নিয়া বলেন, ‘শত্রুর গোপন আস্তানার কেন্দ্রস্থল’ থেকে কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করতে পেরেছে মোসাদ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে বার্নিয়া বলেন, ইরান এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে আমরা আইডিএফ-এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক, উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করেছি। এদিকে, অভিযানের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল জেলার বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে সাইদনের দিকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই নির্দেশের আওতায় থাকা গ্রাম ও শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে, গান্দুরিয়া, বুর্জ কালাওয়িয়া, কালাওয়িয়া, আল-সাওয়ানা, আল-জুমাইজিমা, সাফাদ আল-বাতিখ, ব্রাশিত, শাকরা, আইতা আল-জাবাল, তিবনিন, আল-সুলতানিয়া, বির আল-সানাসিল, দুনিন, খিরবেত সিলম, সালা এবং দেইর কিফা। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযানের স্বার্থেই এই এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি ২৫ হাজারের বেশি নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মী হারাতে পারে। সোমবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান নারীদের বেশিরভাগ সরকারি চাকরিতে নিষিদ্ধ করে আর মেয়েদের পড়াশোনা ষষ্ঠ শ্রেণির (১২ বছর বয়স) পর বন্ধ করে দেয়। ইউনিসেফের ‘আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তার মাশুল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিধিনিষেধের ফলে ইতিমধ্যে অন্তত ১০ লাখ কিশোরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশাদার নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার নারী শিক্ষক এবং ৫৪০০ স্বাস্থ্যকর্মী হ্রাস পেতে পারে, যা ২০২১ সালের তুলনায় দেশটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২৫ শতাংশ। ২০৩৫ সাল নাগাদ স্বাস্থ্যকর্মী হারানোর এই সংখ্যা ৯৬০০-তে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “ভবিষ্যৎ শিক্ষক, নার্স, চিকিৎসক কিংবা ধাত্রীদের হারানোর ক্ষতি সামলানোর সামর্থ্য আফগানিস্তানের নেই। কারণ এরাই দেশটির জরুরি সেবাগুলো সচল রাখেন। কিন্তু মেয়েদের শিক্ষা থেকে দূরে রাখা হলে এটাই হবে দেশটির চরম বাস্তবতা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় নারী রোগীদের চিকিৎসার জন্য নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেয়েদের পাঠদানের জন্য নারী শিক্ষকদের উপস্থিতি অপরিহার্য। রয়টার্স লিখেছে, যোগ্য কর্মীর এই অভাব দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে যার আর্থিক মূল্য দাঁড়াতে পারে বার্ষিক অন্তত ৫৩০ কোটি আফগানি (প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার) । এই সংখ্যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ইউনিসেফ বলেছে, দেশটির বর্তমান কর্তৃপক্ষের উচিত নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং তাদের শ্রমবাজারে ফেরার সুযোগ দেওয়া।