নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মহাসমাবেশে বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবু নাসির খান বলেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কথা থাকলেও ২০১৫ সালের পর এ দেশে সরকারি কর্মচারীদের কোনো বেতন বৃদ্ধি হয়নি। অন্যদিকে গত ১০ বছরে নিত্যপণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এই মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে খাপ খেয়ে চলতে পারছেন না সরকারি কর্মচারীরা। বিভিন্ন সংগঠনের নামে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন।’
অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নবম পে-কমিশন গঠন করলেও সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা আগামী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবেন বলে সরকারি কর্মচারীদের মনে আগুন ধরিয়ে দেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকেই এবং জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের দাবি জানান আবু নাসির খান।
মো. ওয়ারেস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কর্মচারীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মো. জাকির হোসেন, আমিনুর রহমান ও রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের হাজার হাজার কর্মচারীসহ বিভিন্ন দপ্তরের লক্ষাধিক কর্মচারী মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
মহাসমাবেশে অন্যদের মধ্যে মো. বাদিউল কবির, মো. মাহমুদুল হাসান, রবিউল জোয়াদ্দার, মো. লুৎফর রহমান, আ. হান্নান, মো. বেলাল হোসেন, খায়ের আহমেদ মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তাঁরা সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের শেষ দিনে শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবেন, ইনশাআল্লাহ। আগামীতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে আরো গভীর হবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা মনে করি। ৪ দিনের চীন সফরে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন। গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর গত সোমবার রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে আসেন তিনি। ২ দিন সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে গ্রেট হলে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর সফরসঙ্গীরা।
বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার চলতি জুন মাসের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ায় প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের মিটার আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ট্যারিফ কার্যকর করতে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের ২০০ বা তার বেশি ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করে মিটার আপডেট করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে সহজেই মিটার আপডেট করতে পারবেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা নম্বর ১৬৯৯৯ ছাড়াও বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার কল সেন্টার থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। এসব নম্বর হলো বিপিডিবি (১৬২০০), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (১৬৮৯৯), ডিপিডিসি (১৬১১৬), ডেসকো (১৬১২০), নেসকো (১৬৬০৩) এবং ওজোপাডিকো (১৬১১৭) কল সেন্টারে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মূল্যহার সঠিকভাবে কার্যকর করতে দ্রুত মিটার আপডেট সম্পন্ন করা প্রয়োজন। গ্রাহকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এজন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পে আরও ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন আউটসোর্সিংয়ের ব্যয় মেটাতে এ অর্থ চেয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এতে ৯০৪ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার বেশি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (আরটিএপিপি) অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নথি অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের চলমান ‘স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল প্রোটেকশন ফর ইমপ্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে যুক্ত হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। মূল প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮০১ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক ঋণ এবং ১০৩ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন ছিল। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কারণে ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকায় দাঁড়াচ্ছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৯০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা মূল প্রকল্প ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ২১১ শতাংশ বেশি। প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্ল্যাগশিপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে দেশব্যাপী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পে নতুন কার্যক্রম যুক্ত করা হচ্ছে। আর এ কর্মসূচির অপারেশনাল ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বহনের জন্য ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্প নথি অনুযায়ী, এসএসপিআইআরআইটির মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক করা। প্রকল্পের আওতায় জাতীয় ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি তৈরি, ভাতা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তথ্যভান্ডার গঠন এবং জীবিকা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা ছিল। প্রকল্পের মাধ্যমে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও তথ্যনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু এখন সেই প্রকল্পেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের কর্মপরিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মূল প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি তৈরির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের চিহ্নিত করা, ভাতা কর্মসূচির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানমুখী সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন প্রকল্পের বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হলে মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করা হলেও অতিরিক্ত ১ হাজার ৯১০ কোটি টাকার বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব চিঠিতে নেই। ফলে কতজন জনবল নিয়োগ করা হবে, কতটি যানবাহন নেওয়া হবে এবং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হবে—তা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উন্নয়ন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রকল্প অনুমোদনের মাত্র এক বছরের মধ্যে ২১১ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রকল্প পরিকল্পনা ও চাহিদা নিরূপণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এসএসপিআইআরআইটি মূল প্রকল্পটি অনুমোদনের আগেও এর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রকল্প প্রস্তাবে শুধু পরামর্শক সেবার জন্য প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রাখা হয়। এর মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১৭৩ কোটি টাকা এবং আটজন ব্যক্তিগত পরামর্শকের জন্য ২১ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল। কয়েকজন পরামর্শকের মাসিক পারিশ্রমিক ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা তখনো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা বিতরণ প্রকল্পে এত বড় অঙ্কের পরামর্শক ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নেই অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা দেখানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রস্তাবটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশন ও ইআরডির পর্যালোচনায় রয়েছে। অনুমোদন পেলে সামাজিক সুরক্ষা সংস্কারের জন্য নেওয়া প্রকল্পে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি যুক্ত হবে এবং সেইসঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ও তিন গুণের বেশি বেড়ে যাবে।