পরিকল্পনা বদলেছেন ভারতের বহুল আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার তাঁর আসার কথা ছিল দিল্লি বিমানবন্দরে। এর আগে সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তারা যেন তাঁকে নিতে বিমানবন্দরে আসে। সেখান থেকে তারা পার্ক স্ট্রিট থানায় যাবেন, যাতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া যায়। তবে গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা পাল্টে দীপকে জানান, শনিবার নয়, শুক্রবার আসবেন তিনি। কেউ যাতে বিমানবন্দরে না আসেন।
কারণ হিসেবে তিনি জানান, তাদের কর্মসূচিতে এত মানুষ সাড়া দিয়েছেন, সবাই বিমানবন্দরে এলে সেখানকার কাজে বিঘ্ন হবে। এর বদলে তিনি দেশে ফিরে একাই অনুমতি আনতে যাবেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়, সবাই শুধু যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে হাজির হলেই হবে। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে অভিজিৎ দীপকের শেষ পোস্ট ছিল, ‘ভারতের পথে আছি ... আমার ভাগ্যকে সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম।’ ৩০ বছর বয়সী দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেন।
মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন ফাঁস ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি বাতিল এবং দেশটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সিজেপি মূলত আত্মপ্রকাশ করেছিল ব্যঙ্গাত্মক মিম পেজ হিসেবে। নিজেদের এখন প্রেশার গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে তারা। সম্প্রতি সিজেপির তিন মুখপাত্রও সামনে এসেছেন।
এর আগে গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন আট লাখ তেলাপোকা।
প্রসঙ্গত, সিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যারা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউবা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী।’ এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ওই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণরা অনলাইনে একাট্টা হন।
অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকে দুই কোটির ঘরে। আর তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের যত অনুসারী রয়েছে, তার চেয়েও বেশি পেয়েছে সিজেপি। ভারত সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সিজেপির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট দেশে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, তবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ভারত থেকেই দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পরিকল্পনা বদলেছেন ভারতের বহুল আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার তাঁর আসার কথা ছিল দিল্লি বিমানবন্দরে। এর আগে সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তারা যেন তাঁকে নিতে বিমানবন্দরে আসে। সেখান থেকে তারা পার্ক স্ট্রিট থানায় যাবেন, যাতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া যায়। তবে গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা পাল্টে দীপকে জানান, শনিবার নয়, শুক্রবার আসবেন তিনি। কেউ যাতে বিমানবন্দরে না আসেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তাদের কর্মসূচিতে এত মানুষ সাড়া দিয়েছেন, সবাই বিমানবন্দরে এলে সেখানকার কাজে বিঘ্ন হবে। এর বদলে তিনি দেশে ফিরে একাই অনুমতি আনতে যাবেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়, সবাই শুধু যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে হাজির হলেই হবে। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে অভিজিৎ দীপকের শেষ পোস্ট ছিল, ‘ভারতের পথে আছি ... আমার ভাগ্যকে সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম।’ ৩০ বছর বয়সী দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেন। মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন ফাঁস ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি বাতিল এবং দেশটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সিজেপি মূলত আত্মপ্রকাশ করেছিল ব্যঙ্গাত্মক মিম পেজ হিসেবে। নিজেদের এখন প্রেশার গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে তারা। সম্প্রতি সিজেপির তিন মুখপাত্রও সামনে এসেছেন। এর আগে গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন আট লাখ তেলাপোকা। প্রসঙ্গত, সিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যারা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউবা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী।’ এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ওই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণরা অনলাইনে একাট্টা হন। অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকে দুই কোটির ঘরে। আর তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের যত অনুসারী রয়েছে, তার চেয়েও বেশি পেয়েছে সিজেপি। ভারত সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সিজেপির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট দেশে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, তবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ভারত থেকেই দেখা যাচ্ছে।
টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে উঠে এসেছেন। বাইটড্যান্সের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কোম্পানিটির দ্রুত অগ্রগতির ফলে তিনি ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকেও ছাড়িয়ে গেছেন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৯২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে তিনি শুধু এশিয়ার দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তিই নন, চীনের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছেন। ২০১৯ সালে ব্লুমবার্গ প্রথমবারের মতো ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার। এরপর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ সাত গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রযুক্তি খাতের দ্রুত উত্থান এবং বাইটড্যান্সের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে এশিয়ার তৃতীয় ধনী ব্যক্তির স্থানে নামিয়ে এনেছে। এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের গৌতম আদানি। তার সম্পদের পরিমাণ ১১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে টিকটকের বৈশ্বিক সাফল্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাইটড্যান্সের এআই চ্যাটবট ‘ডৌবাও’। বর্তমানে চীনে এই প্ল্যাটফর্মের মাসিক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি, যা এটিকে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবটে পরিণত করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে। বাইটড্যান্স তাদের মার্কিন ব্যবসার একটি অংশ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তর করে। এর ফলে কোম্পানিটির মূল্যায়নে ঝুঁকির হার কমিয়ে আনা হয় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে। ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস ও টি. রো প্রাইস গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নতুন মূল্যায়নের ভিত্তিতে ঝ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ এক ধাক্কায় ২৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে। বেইজিংভিত্তিক বাইটড্যান্স বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। চীনের এআই বাজারে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় বাইটড্যান্সের প্রকৃত মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও শক্তিশালী রয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় তিনি ভবনের কাছেই ছিলেন, কিন্তু ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। ইন্ডিয়া টুডের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ ঘটনার দিন কী কী ঘটেছে তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আগুন লাগার পর তিনি ভবনটির পাশ দিয়ে গেলেও পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি বাড়িতে না ফিরে দীর্ঘ সময় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। এরপর পুলিশ তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। বুধবার সকালে দিল্লির ওই হোটেলটিতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবন থেকে ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও বিদেশি নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, হোটেলটির জন্য কখনও ফায়ার সেফটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নেওয়া হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে বাজাজ নিজেই এই তথ্য স্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিদ্যমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী ভবনটি হয়তো এমন ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্যই ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, বাজাজ ২০২২ সালে ভবনটি কিনে নেন। এর আগে সেখানে একটি খাদি দোকান ছিল এবং ভবনটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। পরে তিনি ভবনটি ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি এটিকে হোটেল ও গেস্ট হাউসে রূপান্তর করেন। বাজাজ দাবি করেছেন, তিনি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট, পর্যটক আবাসন এবং একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে এসব অনুমোদনের বৈধতা ও পরিধি এখন যাচাই করছে পুলিশ। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হোটেলটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যিনি ছিলেন, তিনি একই সঙ্গে হিসাবরক্ষকের দায়িত্বও পালন করতেন। হোটেল-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লাইসেন্স তার নামেই নিবন্ধিত বলে জানা গেছে। বর্তমানে সেই ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড, অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে মামলা করেছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।