বিশ্ব

পাকিস্তানে গাড়ি বোমা হামলায় নিহত ৩ পুলিশ কর্মকর্তা

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত


পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিও চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

 

শনিবার রাতে বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা ১৫ জন পুলিশ সদস্য হতাহত হন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

 

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

 

ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জঙ্গি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।

 

এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

দেশজুড়ে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে ডেনমার্ক

  ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামিকরণ’ ঠেকাতে দেশজুড়ে আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ডেনমার্ক। ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের এই দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।   ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বোদস্কভ। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ সেই সাক্ষাৎকারের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে।   বোদস্কভ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামীকরণ’ ডেনমার্কের জনপরিসরের অনেকটা অংশ দখল করে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিমরা ডেনমার্কের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।     “ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা যাওয়া উচিত নয়”, রিৎজাউকে বলেন বোদস্কভ।   এমন এক সময়ে অভিবাসনমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন, যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নির্দেশে অভিবাসন নীতি ব্যাপকভাবে কঠোর করছে ডেনমার্ক। ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যরাষ্ট্রগুলের মধ্যে বর্তমানে ডেনমার্কের অভিবাসন নীতি সবচেয়ে কঠোর।   তবে এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের সরকারের সামনে কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ দেশটি সংবিধানে জনগনের মুক্তভাবে ধর্মচর্চার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এ পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।   তবে সেই চ্যালেঞ্জ খুব শক্তিশালী হবে বলে মনে হয় না। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আযান ও হিজাব পরিধানের মতো ইসলামিক প্রথাগুলোও সমালোচনার মুখে পড়েছে।   এর আগে চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে আইন পাস করে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করেছে ডেনমার্কের সরকার।   রিৎজাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী বলেছেন, “ডেনমার্ককে ইসলামীকরণের কোনা সুযোগ নেই। ডেনমার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছেন, তাহলে খুব সমস্যা।”   সূত্র : দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ইন্ডিয়া টুডে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৬, ২০২৬

৬ দেশের দর্শনার্থীদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেবে আমিরাত

হাইতি ও সিরীয় অভিবাসীদের সুরক্ষা বাতিলের রায় দিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন দাবদাহ, হাসপাতালগুলোতে সতর্কতা

ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে সেনা হত্যা মামলায় নারী অধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন

পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার কর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২০২৪ সালের একটি সমাবেশে আধা-সামরিক বাহিনীর এক সেনাসদস্যকে হত্যার মামলায় কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই রায় দেয়।   রায়ে বেলুচ ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) নেতা মাহরাং বেলুচ এবং তার সহকর্মী সিবগাতুল্লাহকে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা এবং তা নিহতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় তারা ইতিমধ্যেই দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।   কৌসুলিদের অভিযোগ, এই দুই কর্মী বিক্ষোভের সময় জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন। এই উত্তেজিত জনতা পরবর্তীতে সাব্বির আহমেদ নামের এক আধা-সামরিক সেনা সদস্যের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, গোয়াদর বন্দরের ওই বিক্ষোভে মাহরাং বেলুচ অত্যন্ত ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দিয়েছিলেন। এর জেরে ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ লাঠিসোঁটা ও পাথর নিয়ে সেনাদের একটি গাড়িতে হামলা চালায় এবং দলছুট হয়ে পড়া সাব্বির আহমেদকে পিটিয়ে হত্যা করে। তবে মাহরাং বেলুচ ও তার আইনি দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া বয়কট করেছিল।   এদিকে, এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) অবিলম্বে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পাকিস্তান রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারের আন্দোলনকে চরমপন্থার মতোই বিবেচনা করছে, যার ফলে প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো একতরফা এবং পক্ষপাতদুষ্ট হচ্ছে।   মাহরাং বেলুচের বোন ও আইনজীবী নাদিয়া বেলুচ এবং তাদের আইনি দল জানিয়েছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা একে একটি ‘অদৃশ্য আদালতের’ রায় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তাদের সঠিকভাবে জেরা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।   সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এই বিচার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন এবং চরম গোপনীয়তায় এই বিচার সম্পন্ন করে পাকিস্তান রাষ্ট্র ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে বলে অভিযোগ করেন।   তবে বেলুচিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রসিকিউটরদের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। বিবিসি-র ২০২৪ সালের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পাওয়া মাহরাং বেলুচ মূলত বেলুচিস্তানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।   ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং দুই বছর পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাতে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে নামেন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে নিখোঁজ পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি শত শত নারীকে নিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক ঐতিহাসিক পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।   তার সংগঠন বিওয়াইসি অবশ্য পাকিস্তান সরকারের তোলা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছে, বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংযোগ নেই। তথ্য সূত্র- বিবিসি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধের আবহে ইরান-লেবাননে পবিত্র আশুরা পালন

ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় বিলাসবহুল হোটেল ধস, ভেতরে খেলোয়াড়দের স্বজনরা

চীনের ‘সালামি স্লাইসিং’ কৌশল কী

  মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চীনের জাহাজগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে ‘আইন প্রয়োগকারী’ কার্যক্রম পরিচালনা, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সমুদ্রতলদেশ ম্যাপিং এবং ৫০০ মাইলেরও বেশি দূরের বিতর্কিত উপদ্বীপে ‘গবেষণা’ চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে সার্বভৌমত্বের দাবি যেখানে অস্পষ্ট, সেখানে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে ছোট ছোট পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার এই চীনা নীতিকে বিশেষজ্ঞরা ‘সালামি স্লাইসিং’ হিসেবে অভিহিত করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখা ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইনে’র বাইরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে এবং বিশেষ করে তাইওয়ানকে চাপে ফেলতেই চীনের এই নতুন কৌশল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরপরই এই সামুদ্রিক তৎপরতা শুরু হয়, যেখানে চীনা নেতা শি জিনপিং স্পষ্ট করেছিলেন যে তাইওয়ান ইস্যুই যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে লাইনচ্যুত করতে পারে।   চলতি মাসের শুরুতে চীনের বেসামরিক সংস্থা মেরিটাইম সেফটি এজেন্সি (এমএসএ)-এর তিনটি জাহাজ ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের মধ্যবর্তী বাশি চ্যানেল পার হয়ে তাইওয়ানের পূর্ব জলসীমায় ম্যাপিং শুরু করে।   স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিলাইট প্রজেক্টের পরিচালক রে পাওয়েল একে ‘বাশি ব্রেকআউট’ নামে অভিহিত করে বলেন, বেইজিং মূলত এই চেইনের ওপারেও তাদের এখতিয়ার দাবি করছে। এর মাধ্যমে বিতর্কিত ‘৯-ড্যাশ লাইন’ (যা বর্তমানে ১০-ড্যাশ লাইন করা হয়েছে) এর বাইরে চীন প্রথমবারের মতো সার্বভৌমত্ব টহল দিলো।   চীনের রাষ্ট্রীয় ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস একে ‘আইনি ও রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ সার্বভৌমত্ব ঘোষণা’ বলেছে। চীনের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমের একটি আধা-সরকারি অ্যাকাউন্ট ইউয়ান তিয়ানতিয়ান জানিয়েছে, এই জলসীমা এখন থেকে চীনের ‘নিকটবর্তী জলসীমা’ হিসেবে গণ্য হবে।   তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে একে বেইজিংয়ের ‘সাম্রাজ্য বিস্তারের নতুন কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সামরিক জাহাজের চেয়ে এমএসএ-এর মতো অসামরিক জাহাজগুলোর নিয়মিত টহল তাইওয়ানের জন্য বড় হুমকি, কারণ এগুলো আপাতদৃষ্টিতে কম বিপজ্জনক মনে হয়। রে পাওয়েল সতর্ক করেন, পরবর্তী ধাপে চীন তাইওয়ানগামী বাণিজ্যিক বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-বাহী জাহাজগুলো আটকে দিয়ে তাইওয়ানের জ্বালানি আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কার্ল শুস্টার জানান, এই সমুদ্রতল ম্যাপিংয়ের ফলে চীনের নৌবাহিনী সাবমেরিন ও টাস্ক গ্রুপ পরিচালনায় সামরিক সুবিধা পাবে এবং সমুদ্রের নিচ দিয়ে ক্যাবলগুলোর সঠিক চিত্র পেয়ে যাবে।   এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, দক্ষিণ চীন সাগরের স্কারবোরো শোয়াল-এ ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে চীনের একটি ভাসমান কাঠামো নিয়ে ফিলিপাইন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। চীন এটিকে সামুদ্রিক গবেষণা কাঠামো দাবি করে সরিয়ে নিলেও, ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্ট টিওডোরো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে চীন পূর্বেও এভাবে কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় ম্যানিলার মার্কিন দূতাবাস ফিলিপাইনকে ১৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪টি সামুদ্রিক ড্রোন দিয়েছে। রে পাওয়েলের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে চীন একে একে অঞ্চলগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে।   সূত্র: সিএনএন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৬, ২০২৬

ইরান পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলার আসবে কোথা থেকে

ছবি : সংগৃহীত

নিউইয়র্কে নির্বাচনী ভূমিকম্প: ইসরায়েলপন্থীদের হারিয়ে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের ঐতিহাসিক জয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘ইরানের পক্ষে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধ ঠেকাতে পেরেছি’: ট্রাম্পের দাবি

0 Comments