বিশ্ব

নোবেল পুরস্কারের প্রলোভনেও নড়লেন না ট্রাম্প, হতাশ মাচাদো

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী উপহার দেন—নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক। দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসা ট্রাম্পের জন্য এটি ছিল আলোচিত এক মুহূর্ত।


ভেনেজুয়েলার সাবেক ক্ষমতাধর শাসক নিকোলাস মাদুরোর কট্টর সমালোচক মাচাদো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। সেই পুরস্কারের পদকই তিনি হোয়াইট হাউসে রেখে আসেন। তার আশা ছিল, এই প্রতীকী সম্মান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থানের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে সহায়ক হবে।
তবে বাস্তবে তেমন কোনো স্পষ্ট আশ্বাস পাননি তিনি। বরং হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তার হাতে দেখা যায় ট্রাম্পের নাম ও লোগোসংবলিত একটি উপহার ব্যাগ। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদো অন্যতম দাবিদার হলেও ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে—যদিও তিনি দীর্ঘদিন মাদুরো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ফলক হাতে নিয়ে মাচাদোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে লেখা ছিল—ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে এই উপহার দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মাচাদো তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছেন, যা পারস্পরিক সম্মানের একটি দারুণ নিদর্শন।
তবে নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল শান্তি কেন্দ্র দ্রুত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কারের পদক হস্তান্তর করা গেলেও নোবেলজয়ীর স্বীকৃতি কখনোই অন্যের কাছে দেওয়া যায় না।
মাচাদো এই বৈঠককে ঐতিহাসিক ও অসাধারণ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝে। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন, যাতে প্রবাসী ভেনেজুয়েলানরা দেশে ফিরতে উৎসাহিত হন।
তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ইতোমধ্যে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে—বিরোধী প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেসকে, যাকে একসময় যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছিল। যদিও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সরকারি কর্তৃপক্ষ নিকোলাস মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হলেও এরপরও ওয়াশিংটন মাচাদো বা গনসালেসের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। বরং ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক বিরোধী নেতাকে বিস্মিত করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প মাচাদোকে সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখলেও ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন তার আছে—এমনটি তিনি মনে করেন না। এই অবস্থানে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি।


নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করতে না পারা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর জন্য বড় এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠিন হিসাবই স্পষ্ট করে দেখিয়েছে। মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র : CNN

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংগৃহীত ছবি
লেবানন থেকে ছোড়া মিসাইলে ইসরায়েলে ১৬ জন আহত

  লেবানন থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ছোড়া মিসাইলে ইসরায়েলে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সংস্থা মেগান ডেভিড অ্যাডম। সংস্থাটি বলেছে, রামলে অঞ্চলে তারা ১৪ জন আহতকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা ভালো আছে। মিসাইল একটি ডে কেয়ারে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে তারা। অপরদিকে মাতেহ নামে অপর এক এলাকায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থাও গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে অ্যাম্বুলেন্স সংস্থাটি। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর মিসাইলের আঘাতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরআগে হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, তারা হায়েলা উপত্যকার কাছে একটি ইসরায়েলি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন স্টেশনে ‘নির্ভূল মিসাইল’ দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

এবার তুরস্কে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত

কাতারে হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে ৩১৩ জন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা জানাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।   সোমবার (৯ মার্চ) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু এবং ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। নিহতদের বয়স আট মাস থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে। তাদের বেশিরভাগই নিজ নিজ বাসা কিংবা কর্মস্থলে অবস্থান করার সময় হামলার শিকার হয়েছেন। আলী জাফারিয়ান জানান, হামলায় এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন।   তিনি আরও জানান, হামলার ফলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এছাড়া ৫২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৮টি জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শনিবার রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার পর রাজধানী তেহরানজুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর–পূর্ব তেহরানের আগদাসিয়েহ তেল গুদাম, দক্ষিণের তেহরান রিফাইনারি এবং পশ্চিমাঞ্চলের শাহরান তেল ডিপোতে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা তেহরানের কয়েকটি জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যেগুলো সামরিক অবকাঠামো পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। আলী জাফারিয়ান সতর্ক করে বলেন, এসব আগুনের কারণে তেহরানজুড়ে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করার এবং জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আগুনের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে, যা মাটি দূষিত করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানালেন পুতিন

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে হামলা নিয়ে মুফতি তাকি উসমানির বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ৪ বাংলাদেশি মারা গেছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, প্রবাসীরা যে কোনো সংকটে পড়লে তাদের পাশে পরিবারের সদস্যদের মতোই থাকবে সরকার ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য সরকার জানতে পেরেছে বলেও তিনি জানান।   বলেন, নিহতদের মধ্যে একজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে, একজন বাহরাইনে এবং দুজন সৌদি আরবে মারা গেছেন। ইতোমধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যদের মরদেহও দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। সোমবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে দুবাইয়ে বোমা হামলায় নিহত প্রবাসী আহমদ আলীর মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তা গ্রহণ করেন মন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি এখন নিহতের মরদেহ নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে যাব। পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। নিহতের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।” সম্প্রতি দুবাইয়ে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত হন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছিলেন। পাসপোর্ট অনুযায়ী তার নাম আহমদ আলী হলেও নিজ এলাকায় তিনি সালেহ আহমদ নামে পরিচিত ছিলেন। দুবাইয়ে তিনি পানিবাহী একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। নিহতের ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও দুবাইয়ে থাকেন। তারাই পরিবারের সদস্যদের কাছে আহমদ আলীর মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন। মরদেহ সিলেটে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের ছেলে, ভাইসহ স্বজনরা মরদেহ নিতে সেখানে উপস্থিত হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন।   লাশ গ্রহণের পর নিহতের চাচাত ভাই কামাল আহমদ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তিনি নিহত আহমদ আলীকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে ৬টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন তুরস্কের

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌ-যানে মার্কিন হামলা। ছবি : সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলা, নিহত ৬

লেবাননে অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। ছবি : সংগৃহীত

লেবাননে সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

0 Comments