বিশ্ব

ন্যাটো নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বাড়লেও যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসা ট্রাম্পের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ 0

আফগানিস্তানে ন্যাটোভুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের সেনাদের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্যের জেরে ইউরোপীয় মিত্রদের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আংশিকভাবে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসছেন বলে মনে হয়েছে।

তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই দাবি—ন্যাটো ‘কিছু সেনা পাঠিয়েছিল’, কিন্তু তারা ‘সামনের সারি থেকে একটু পেছনে, কিছুটা দূরে ছিল’—শনিবার নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়।

কোপেনহেগেন  থেকে এএফপি জানায়, সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতি সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করেন।

শনিবার, এক দিন আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দেওয়ার পর, ট্রাম্প অন্তত ব্রিটিশ সেনাদের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে মনে হয়।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মহান ও অত্যন্ত সাহসী সৈন্যরা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে!’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে ৪৫৭ জন নিহত হয়েছেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন, আর তারা ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের মধ্যে। এটি এমন এক বন্ধন, যা কখনো ভাঙবে না।’

ট্রাম্প যখন এই বক্তব্য দেন, তখন লন্ডনে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন স্টারমার।

ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা সাহসী ব্রিটিশ ও মার্কিন সৈন্যদের কথা তুলেছেন—যাদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারেননি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’

ট্রাম্পের আগের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাজ্যই নয়; শনিবার আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা তাদের সেনাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের মন্তব্যে তার সরকারের বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে ন্যাটো অভিযানে ‘আমাদের দেশ যে মূল্য দিয়েছে, তা প্রশ্নাতীত—৫৩ জন ইতালীয় সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৭০০’র বেশি আহত হয়েছেন।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই কারণে আফগানিস্তানে ন্যাটো দেশগুলোর অবদানকে খাটো করে দেখানো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন তা আসে একটি মিত্র রাষ্ট্রের কাছ থেকে।’

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্মরণ করেন, ২০১১ সালে আফগানিস্তানে নিহত পাঁচ পোলিশ সেনার বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা।

তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘তখন আমার সঙ্গে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারা আমাকে বলেছিলেন, আমেরিকা কখনোই পোলিশ বীরদের ভুলবে না।’

তিনি যোগ করেন, ‘হয়তো তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই কথাটি মনে করিয়ে দেবেন।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দপ্তর শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই অগ্রহণযোগ্য মন্তব্যগুলো জবাব দেওয়ার যোগ্য নয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপ্রধান নিহত সেনাদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং জাতির কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করতে চান।’

ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রায় ৯০ জন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন শনিবার ফেসবুকে লেখেন, ‘ডেনিশ ভেটেরানরা যে বলেছেন- এই কষ্ট কতটা গভীর, তা কোনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না- আমি তা পুরোপুরি বুঝি।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে মিত্র বাহিনীর সেনাদের অঙ্গীকার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশ্ন তোলা অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জনসংখ্যার তুলনায় ডেনমার্ক ন্যাটোর সেই দেশগুলোর একটি, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সহ্য করেছে।’

২০০৩ সালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৪ লাখ। ডেনিশ বার্তা সংস্থা রিৎসাউয়ের তথ্যমতে, বছরের পর বছর ধরে প্রায় ১২ হাজার ডেনিশ সেনা ও বেসামরিক নাগরিক আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছিল।

ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে ডেনিশ ভেটেরানরা আগামী ৩১ জানুয়ারি কোপেনহেগেনে নীরব পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন।

শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমি অপমানজনক এবং সত্যিই ভয়াবহ বলে মনে করি। যারা নিহত বা আহত হয়েছেন, তাদের স্বজনদের মধ্যে এসব মন্তব্য যে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করেছে, তাতে আমি বিস্মিত নই।’

প্রথমে হোয়াইট হাউস স্টারমারের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছিল।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই সঠিক, ন্যাটোর অন্য যেকোনো দেশের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্র বেশি করেছে।’

৯/১১ হামলার পর ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে এই প্রথমবার ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা কার্যকর করা হয় এবং ব্রিটেনসহ একাধিক মিত্র দেশ আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়।

ব্রিটেন ছাড়াও ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ইতালি ও পোল্যান্ডের পাশাপাশি কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির মতো ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সেনারাও সেখানে নিহত হন।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস তার দেশের দেওয়া ‘ভারী মূল্য’-এর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘২০০১ সালে আমাদের মার্কিন মিত্ররা যখন সহায়তা চেয়েছিল, তখন আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত ছিল।’

তিনি যোগ করেন, ‘অনেক আহত ব্যক্তি আজও সেই সময়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ঘিরে সৃষ্ট ট্রান্সআটলান্টিক সংকট এখন আপাতত প্রশমিত হয়েছে।

বুধবার ইউরোপ তার দাবির বিরোধিতা করায় ট্রাম্প ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও সরে আসেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে কাঁপছে জাপান

টোকিওর এক রাস্তার মোড়ে, বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে থাকা একদল জাপানির হাতে দেখা যায় চুপসে যাওয়া কিছু প্ল্যাকার্ড। তার একটিতে মোটা হরফের জাপানি কাঞ্জিতে কেবলই দুটি শব্দ লেখা- ‘নো ওয়ার’।   জাপান এখন কয়েক দশকের মধ্যে তার সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভগুলো দেখছে। গত বছরের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অস্ত্র রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে, বিদেশে জাপানের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বিস্তৃত করে দেশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে সরানোর চেষ্টায় মত্ত।   তার সরকার বলছে, ‘আগ্রাসী’ চীন, অস্থির ‍উত্তর কোরিয়া, কাছেই থাকা যুদ্ধংদেহী রাশিয়ার কারণে জাপানের আশপাশের অঞ্চলে ক্রমশ যেভাবে উত্তেজনা বাড়ছে তাতে এসব পদক্ষেপ খুবই জরুরি। টোকিওর মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও নিরাপত্তায় জাপানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করছে।   কিন্তু এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশটির অনেক বাসিন্দার কাছেই এসব পরিবর্তন আতঙ্ক নিয়ে হাজির হয়েছে। জাপান যুদ্ধ-সক্ষম দেশে পরিণত হচ্ছে—এই ভয় বাড়তে থাকায় দেশটিতে বিক্ষোভও ক্রমশ জোরাল হচ্ছে, বলছে বিবিসি।   প্রতিরক্ষা নীতি বদলাতে চান প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান তার সংবিধানে যে ধারা ৯-কে গ্রহণ করে নিয়েছিল, তাতে যুদ্ধকে দেশের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, যুদ্ধের জন্য সশস্ত্র বাহিনী গঠনেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। পরে ওই ধারার ব্যাখ্যা খানিকটা বদলে দেশটি আত্মরক্ষা বাহিনী বানানোর সুযোগ পায়।   তাকাইচি-ই প্রথম নন, জাপানের অনেক রক্ষণশীল নেতাই সংবিধানের এ ধারা বদলের পক্ষে ছিলেন। এ তালিকায় শিনজো আবে-ও আছেন। ২০১৫ সালে আবে’র আমলেই জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটে পাস হওয়া নিরাপত্তা বিলে হামলার মুখে মিত্রদের সহায়তাসহ সীমিত আকারে আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে মারণাস্ত্র রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে দিয়ে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল দেশটির সরকার সংবিধানের ওই ধারা-৯ বিরোধী সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি নেয়। তাদের যুক্তি হচ্ছে, এখনকার ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মিত্রদের অবশ্যই একে অপরের পাশে দাঁড়ানো দরকার।   এ সিদ্ধান্তই অনেকের টনক নড়িয়ে দেয়।   বিক্ষোভকারীরা কী বলছেন   বৃষ্টি থেমে রোদ উঁকি দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে হওয়া বিক্ষোভে ভিড় আরও বেড়ে যায়। কেবল বয়স্করাই নন, যোগ দেন ২০-৩০ এর ঘরের অনেক তরুণও।   তেমনই একজন আকারি মায়েজোনোর হাতে ছিল উজ্জ্বল রঙে আঁকা কাগজের লন্ঠন।   আমি ক্ষিপ্ত কারণ এসব পরিবর্তন জনগণের মতামত নেওয়া ছাড়া করা হচ্ছে, বলেছেন তিনি।   টকটকে লাল রঙের ব্যানার নিয়ে দাঁড়ানো বয়স্ক আরেক ব্যক্তি বলেন, যে কোনো মূল্যে জাপানের সংবিধানের ধারা ৯-কে রক্ষা করতে হবে। এই ধারাই জাপানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মতো আগের যুদ্ধগুলোতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রেখেছে। নাহলে এতক্ষণে আমরা যুদ্ধে ঢুকে যেতাম।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের হামলায় বেঁচে যাওয়া জাপানিরা দেশটিতে হিবাকুশা নামে পরিচিত। তাদেরই একজন জিরো হামাসুমি সম্প্রতি জাতিসংঘে বলেছেন, “পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কারণ আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আর যুদ্ধ নয়, আর হিবাকুশা নয়।   দ্বিধাবিভক্ত দেশ তবে বিক্ষোভে কেবল একপক্ষের মতামতই মিলছে।   জাপান এখন এই ধারা-৯ নিয়ে গভীরভাবে বিভক্ত। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতেও এ চিত্র ফুটে উঠছে। কেউ চাইছেন শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, অন্যরা এর কঠোর বিরোধিতা করছেন।   যারা সংবিধানের ধারাটি বদলের পক্ষে, তাদের যুক্তি হল- জাপানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মৌলিক বদল ঘটে গেছে। বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর যে ধারা ৯ এসেছে, তা খুবই আপত্তিকর। জাপানকে অবশ্যই আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে, মিত্রদের সহযোগিতা করতে হবে এবং যেকোনো সঙ্কটের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।   তাদের মতে, সামরিক বাহিনীকে আরও বৈধতা দেওয়ার মানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছুড়ে ফেলা নয়, এটি অস্থিতিশীল বিশ্বে টিকে থাকার চেষ্টা।   যারা বিপক্ষে তাদের ভাষ্য হল- যেসব বড়সড় পরিবর্তন হচ্ছে তা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার ধারাটিকে ফাঁপা, অন্তসারশূন্য করে ফেলবে। সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ ও বিধিনিষেধ শিথিল জাপানকে দেশের বাইরের সংঘাতে জড়াতে ধাবিত করবে।   তাদের অনেকেই বলছেন, ধারা ৯ কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি সেই নৈতিক অঙ্গীকার যা গড়ে উঠেছে আগের সর্বনাশা সব যুদ্ধের ভেতর দিয়ে।   টোকিওতে ওই বিক্ষোভ চলার সময় কাছেই একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানের ক্যাশিয়ারের মুখ থেকে এল উল্টো কথা।   তারা সবসময় এখানে আসে। এখন সময় হয়েছে নতুন জাপানের, বলেছেন বিরক্তি নিয়ে বিক্ষোভ দেখা এ ব্যক্তি।   এমনই এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে জাপান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তনই আসে ধীরগতিতে। সেই দেশকে এখন হয় অতীতের অভিজ্ঞতায় গড়ে ওঠা শান্তিপূর্ণ পরিচয় ধরে রাখতে হবে, নতুবা মেনে নিতে হবে অস্থিতিশীল ভবিষ্যৎকে।   কী সিদ্ধান্ত নেবে তার চেয়েও বড় যে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল—কত দ্রুত তারা সিদ্ধান্তটি নেবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬ 0
১৮ নভেম্বর ওভাল অফিসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ায় হরমুজে জাহাজ পাহারা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী নন, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত
ঘানায় কি যৌনতার বিনিময়ে চাকরি নিষিদ্ধ হবে?

আফ্রিকার দেশ ঘানায় প্রেসিডেন্ট জন মাহামার একটি দাবি ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে নিয়োগকর্তারা চাকরির বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক দাবি করেন, তাদের শাস্তি দিতে কঠোর আইন চান তিনি। কিন্তু ঘানার মতো দেশে আইন কঠোর হলেও কি নিয়োগকর্তা এবং চাকরিপ্রার্থীর এই ‘অনৈতিক' আদান-প্রদান বন্ধ করা সম্ভব? বিষয়টি প্রথম তোলপাড় তোলে গত ১ মে দেশটির কোফোরিডুয়ার এক টাউন হলে। চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী সোচ্চার হলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামা আরও কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। বিদ্যমান নিয়ম-কানুন ও নীতিমালাকে ‘শোষণমূলক ও অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে খারাপ বিষয়গুলোর একটি হলো, নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী ব্যক্তি পুরুষ হলে কখনো কখনো তারা চাকরি দেওয়ার আগে রোমান্টিক সম্পর্ক দাবি করেন। এটা অগ্রহণযোগ্য। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমি মনে করি, এটিকে শাস্তিযোগ্য করতে আমাদের বিল পাস করা উচিত।’’ ঘানায় শ্রম আইন এবং ফৌজদারি বিধিতে যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ। গার্হস্থ্য সহিংসতাবিরোধী আইনেও ব্যাপক সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব আইন সাধারণত চাকরি শুরুর পরের হয়রানি বা পারিবারিক আবহে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। এ কারণে যৌনতায় সম্মতির শর্তে চাকরির বিষয়টি আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। • ঘানায় কেন যৌনতার বিনিময়ে চাকরি? ঘানায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। চাকরির বাজার তাই তীব্র প্রতিযোগিতাময়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছ। বিশেষ করে তরুণী চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ ‘অনৈতিক’ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি এমন বলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামার দাবিকে সমর্থন করছেন অনেকেই। ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট জন কুফোরের আইনজীবী ও সাবেক আইনি উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন অবস্থান নেওয়ায় আমি খুব খুশি। এটা শোষণমূলক আচরণ; এটা অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেওয়াটা এক ধরনের দুর্নীতি। সভ্য সমাজে আমরা তা সহ্য করতে পারি না। সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপ-পরিবহনমন্ত্রী নিই কোয়ার্তেই গ্লোভারের মতে, (যৌনতার বিনিময়ে চাকরির) এই প্রথার প্রসারে নারীদের ওপর পুরুষদের পিতৃতান্ত্রিক প্রভাবেরও ভূমিকা রেখেছে। • সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগে কি পরিবর্তন সম্ভব? অনেকেই মনে করেন, যৌনতার বিনিময়ে চাকরির বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হলে কর্মক্ষেত্রে অধিকার সংক্রান্ত কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হবে। অধিকারকর্মীদের মতে, এমন আইন মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অপরাধের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেবে। এর পাশাপাশি এই অপরাধকে সাধারণ হয়রানি বা ঘুস লেনদেনের মতো অপরাধের চেয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে। তাদের আরো প্রত্যাশা, এমন আইন হলে তাতে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হবে। এর ফলে যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার মতো অপকর্ম সমাজে কেবল অনভিপ্রেত আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে না, তা তখন ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, দিনশেষে আমার মনে হয়, এই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর প্রকৃত গঠনশৈলী ও প্রয়োগের ওপর। কারণ, ঘানায় অনেক চমৎকার আইন থাকলেও সেগুলো প্রয়োগের পর্যায়ে এসেই পুরো প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে।

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মন্তব্যের জবাবে যা বলল ভারত

সংগৃহীত ছবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে যে কূটনৈতিক বার্তা দিল চীন

ছবি: সংগৃহীত

‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইল ভারত

সংগৃহীত ছবি
এসআরআই বিতর্কে জল ঢেলে দিল পরিসংখ্যান

রাজ্যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চালু করেছিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ছিল মূল উদ্দেশ্য। একাধিক বিধানসভায় ভোটার তালিকায় নামে গরমিল থাকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতি আসন থেকে হাজার হাজার ভোটার বাদ পড়েছে। তবে সর্বোচ্চ নাম বাদ যাওয়া ২০ আসনে মধ্যে তেরোটিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হয়েছে ছয়টি, একটিতে জয় পেয়েছে কংগ্রস। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়,  বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ উঠেছিল। এসআইআর পরিসংখ্যান প্রকাশ হওয়ায় যেন সব বিতর্কে জল ঢেলে দিয়েছে। এসআইআর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সামশেরগঞ্জ বিধানসভা আসনে ভোটার তালিকা থেকে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জনের নাম বাদ গেছে। এই আসনে তৃণমূল জিতেছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে। সামশেরগঞ্জ ছাড়াও এসআইআরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে লালগোলা (বাদ ৫৫ হাজার ৪২০), ভগবানগোলা (বাদ ৪৭ হাজার ৪৯৩), রঘুনাথগঞ্জ (বাদ ৪৬ হাজার ১০০), মেটিয়াবুরুজ (বাদ ৩৯ হাজার ৫৭৯), সুতি (বাদ ৩৭ হাজার ৯৬৫)। এর সবকটিতেই জিতেছে জোড়া ফুল। অন্যদিকে এসআইআরে সর্বোচ্চ নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রও। সেখানে এসআইআরে ৩৮ হাজার ২২২ নাম বাদ পড়েছে।ওই আসন জিতেছে কংগ্রেস। তবে শুধু তৃণমূল কিংবা কংগ্রেস নয়। বিজেপির দখলেও রয়েছে এমন কিছু আসন। যেখানে এসআইআরে অনেক নাম বাদ পড়েছে। মানিকচক আসনে এসআইআরে ২৩ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়ে। আসনটিতে অল্প কিছু ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে কেতুগ্রামে সাম্প্রতিক এসআইআরে ২৬ হাজার ৭৮০ নাম বাদ পড়েছে, বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ সেই আসনে জিতেছেন ২৭ হাজার ৬১০ ভোটে। পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে আরো চমকপ্রদ তথ্য। ১৮৭টি আসনে যেখানে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তারমধ্যে ১১৯টিতে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবিরি। আর তৃণমূল জিতেছে ৬৫টিতে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ১৮৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের চেয়েও দ্বিগুণ।  রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদ পড়া ভোটাররা থাকলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত। দেখা গিয়েছে, ১১৯টি আসনে বিজেপি জিতেছে যার মধ্যে ২৮টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। এর মধ্যে আবার ২৬টি আসন ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল।  স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআরয়ে এত বেশি ভোটার বাদ না পড়লে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-লুলা

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট শুরু, চাপের মুখে স্টারমারের লেবার পার্টি

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় বিশ্ব

0 Comments