দেশে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নানাভাবে ব্যস্ত। এই সুযোগটাই নিচ্ছেন মাদক কারবারিরা। রমরমা হয়ে উঠেছে তাঁদের ব্যবসা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি মাদক প্রবাহ বাড়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জরিপ বা তথ্য না থাকলেও, মাদক কারবারিদের তৎপরতা দৃশ্যমান ও স্পষ্ট। সীমান্ত, মহাসড়ক, নদীপথ—সবখানে নজরদারির ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে মাদকের অনুপ্রবেশ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে।
সর্বশেষ, গতকাল ভোরে একটি সীমান্ত এলাকা থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ২৫ বোতল বিদেশি মদ এবং ২৭ বোতল আমলকুল জব্দ করা হয়েছে। এর আগে, একটি বিলাসবহুল বাস থেকে ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এই সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৫ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদলের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মনোযোগ বিভক্ত হওয়ায় নজরদারিতে সাময়িক শিথিলতা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মাদক কারবারিরা। নির্বাচনের সময় সাধারণত মাদকের চাহিদা বাড়ে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, ভোট নিয়ে মানসিক চাপ, নগদ টাকার লেনদেন বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে মাদকের বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়।
একজন মাদকবিরোধী সংগঠনের নেতা বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যস্ততা মাদক কারবারিদের জন্য বিরাট সুযোগ তৈরি করেছে। অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নির্দেশ দিয়েছে, নির্বাচনের সুযোগে মাদক কারবারিরা যেন তৎপর না হয়ে ওঠে এবং চোরাচালান বাড়তে না পারে। বিশেষ করে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সকল ইউনিট নির্বাচনের সময় ছুটি বাতিল করে তৎপর থাকবে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে উদ্ধার করা প্রায় সব মাদকদ্রব্য ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করছে। স্থলপথ, নদীপথ—এমনকি রেলপথ ও দুর্গম সীমান্ত ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), গাঁজা ও বিভিন্ন কৃত্রিম নেশাজাতীয় দ্রব্য। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে মাদকের স্রোত থামছে না, বরং আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা মাদক পাচারের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন মানেই রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক লেনদেনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পেশিশক্তির দাপট। এই সময় নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ে, কালো টাকার ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, এবং সেই টাকার বড় অংশ যায় মাদক ও অস্ত্রের পেছনে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল, সমাবেশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে অনেকেই মানসিক চাপ সামলাতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে—এটাই বাস্তবতা।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্বের কারণে মাদকবিরোধী কার্যক্রম শিথিল হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। গোয়েন্দা নজরদারি, টার্গেটেড অভিযান এবং আন্ত সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় দুই নাগরিককে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তের স্থলবন্দর এলাকায় ১৯৬৬ এস-১ পিলারের সামনে চুনারুঘাট থানা পুলিশ, বিজিবি ও কারারক্ষীর উপস্থিতিতে তাদের হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বাল্লা বিজিবির নায়েক সুবেদার আবুল কালাম, চুনারুঘাট থানার পক্ষে এসআই সজল কুমার পাল ও ভারতের পক্ষে অতিরিক্ত মহকুমা শাসক (মোহনপুর) ধৃতি শেখর রায়, আইপিএস অফিসার ডি কুডিয়াওসো, বিএসএফ-এর কম্পানি কমান্ডার অশোক কুমার, খোয়াই থানার ওসি কে. ডি সরকারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে মাধবপুর সীমান্তের ধর্মঘর এলাকায় আটক হন, ভারতীয় নাগরিক অমূল্য বিশ্বাসের ছেল অজিৎ বিশ্বাস ও পিয়ারী দাশের ছেলে সমীর দাশকে আটক করে বিজিবি। উভয়ের বাড়ি পশ্চিম ত্রিপুরায়। পরে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ কোর্টের বিচারক তাদের ২৮ দিনের সাজা প্রদান করেন। কিন্তু আইনি জটিলতায় ১৬ মাস পরে তাদেরকে আজ ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ সকালে দুজনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গলাচিপায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেরোববার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে। সূত্র জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ছেলে ও ছেলে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করত। মাস দুয়েক আগে বেড়িবাঁধে সংস্কার কাজের জন্য উচ্ছেদ হয়ে পাশে ঝুপড়ি দিয়ে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে থেকে পাশের বাড়ির আল আমীন মাস্টারের ঘরের বারান্দায় রাতে ঘুমাতেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই ঘর থেকে আলমগীরের স্ত্রীর ১২ আনা স্বর্ণ ও ৪ ভরি রুপার গহনা হারায়। এ ঘটনায় আলমগীর ও তার পরিবার সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করে ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন সিরাজুল সিকদারের বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশ বৈঠকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাল পড়া খাওয়ায়ে সেলিনাকে চোর সাব্যস্ত করা হয়। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম (২২) অভিযোগ করে বলেন, সালিশ বৈঠকে জসিম খান, রিয়াজ খান, নেওয়াজ সিকদার, মিজান সিকদার, শামীম সিকদারসহ ৪-৫ জন আমার মাকে মারধর করে চাল পড়া খাওয়ায়ে স্বীকারোক্তি নিয়ে ৩শ টাকার স্ট্যাম্পে আমার মা, আমার স্ত্রী ও আমার স্বাক্ষর নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী নুরজাহান বেগম (৫৫) জানান, সিকদার বাড়ির লোকজন সেলিনাকে মারধর ও প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলার ভয় দেখায়। ওই এলাকার বাসিন্দা মোশারফ মুন্সি (৫৫) জানায়, দীর্ঘ দিন যাবত সেলিনা অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলেকে নিয়ে সংসার পরিচালনা করত। কখনো শুনি বা দেখিনি সেলিনা চুরি করেছে। সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলামের স্ত্রী সারমিন আক্তার জানায়, আমরা পাশের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোর পৌনে ৬টার দিকে শাশুড়ি আমার স্বামীর ফোনে মিস কল দেয়। ফোনে টাকা না থাকায় আমরা ঘরে এসে দেখি মারা গেছে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি হাওয়া সোনা ও রুপা আজকে দেওয়ার কথা ছিল। আমার শাশুড়ি চুরির অপবাদ সইতে না পেরে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে। সালিশদার সিরাজুল সিকদার ৩শ টাকার স্ট্যাম্প রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, সেলিনাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। চুরি হওয়া সোনার মালিক আলমগীর মাস্টার জানায়, ১৭ মার্চ থেকে আমার স্ত্রীর কিছু গহনা হারিয়েছে। আমি স্থানীয় লোকজনকে চুরির বিষয় জানালে তারা সেলিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেলিনা চুরির বিষয় স্বীকার করে, আজকে চুরির মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ভয়াবহ ট্রেন ও বাস দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গেটম্যানের সঙ্গে মেইল ট্রেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে চিহ্নিত করেছেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিনসহ দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কুমিল্লা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সার্বক্ষণিক একজন গেটম্যান সিগন্যালের কাজে নিয়োজিত থাকেন। রোববার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না গেটম্যানের। গেটম্যান বেড়িয়ার না ফেলানোর কারণে মামুন পরিবহন নামের বাসটি সোজা রেলক্রসিংয়ে উঠে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। দুর্ঘটনায় মারা যান ১২ জন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকাগামী প্রতিটি ট্রেন লালমাই ক্রস করার সঙ্গে সঙ্গে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান সিগন্যাল পেয়ে থাকেন। তখন ওই গেটম্যান বেড়িয়ার ফেলে সিগন্যাল দিয়ে দেয়। কিন্তু ঢাকা মেইল ট্রেনের সঙ্গে গেটম্যানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা গেটম্যানদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজতে আমরা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু রেজা হাসান বলেন, নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে একে একে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।