বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সবার অংশগ্রহণে তিনি একটি ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
চট্টগ্রামে তার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র কনফারেন্স হলে আয়োজিত রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সকাল ১০টা ৮ মিনিটে শুরু হয়ে ১১টা ৯ মিনিট পর্যন্ত চলা নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি প্রাণবন্ত ও ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনায় রূপ নেয়।
এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা সংস্কার থেকে শুরু করে হয়রানি ছাড়া সরকারি সেবা সহজীকরণ- বিভিন্ন বিষয়ে তারা খোলামেলা মতামত ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এক প্রশ্নকারী বিদেশ থেকে ফিরে কত দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হলে অংশগ্রহণকারীরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। তার উত্তরগুলোতেও বারবার হাসি ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সভাকক্ষ।
সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান বলেন, ‘হতাশ হবেন না, কখনো আশা ছাড়বেন না। আপনাদের মতো বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণদের অংশগ্রহণেই আমরা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’
প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে তারেক রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে তরুণ সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের পেছনের মূল স্বপ্নকে অর্থবহ করে তুলতে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। দেশের জনসংখ্যাগত কাঠামোতে তরুণদের আধিপত্য রয়েছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে বিএনপি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫০ কোটি গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমাতে ধাপে ধাপে পুরোনো ও জরাজীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘খাল খনন শুধু জলাবদ্ধতা ও স্থায়ী বন্যা কমাতেই সহায়ক হবে না, কৃষি ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য বিকল্প পানির উৎসও তৈরি করবে।’
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গেলে রক্ষা করা হবে কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তিনি কেন নেবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা করব। নির্বাচনী অঙ্গীকার পালন না করলে আমার লাভটাই বা কী?’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সব জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী- পাহাড়ি ও সমতলের মানুষ একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তাহলে এখন কেন ধর্ম, জাত, বর্ণ, উপজাতি কিংবা পাহাড়ি-সমতলের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? আমরা দেশের সব নাগরিককে সমানভাবে দেখব। সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং সবকিছুই বিবেচিত হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো বিশেষ পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।’
উপজাতিদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে এক নৃগোষ্ঠীর ছাত্রীর প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশি নন? অবশ্যই আপনারাও রাষ্ট্র থেকে সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চাঁদাবাজি, জননিরাপত্তা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সরাসরি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে এবং পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা থাকা জরুরি।’
প্রবাসী কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিদেশে যাওয়া ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৭ লাখই অদক্ষ। এ অবস্থা পরিবর্তনে সারা দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা হবে। বিদেশে চাকরি ও শিক্ষার জন্য যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামীণ এলাকায় এক লাখ প্রাথমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এতে সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং মানুষ চিকিৎসার ঝামেলায় না পড়ে রোগ প্রতিরোধে অভ্যস্ত হবে।’
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ধাপে ধাপে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করে শিল্প, সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষাসহ বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে শিক্ষা সম্প্রসারণে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শ্রেণিকক্ষে সমন্বিত অনলাইন অডিও সিস্টেম চালু করা হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ট্যাব সরবরাহ করা হবে।
অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে। হঠাৎ করে কঠোর ব্যবস্থা নিলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। তবে যারা বাজারে কারসাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি জনসমাবেশে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করতে দলীয় সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপাক্ষিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, শান্তি ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছে ঢাকা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা—বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করার নীতির পরিপন্থি। পাশাপাশি এটি সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলেও সতর্ক করা হয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব ‘চক্রান্ত’ নস্যাৎ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই প্রথম গত ২৩ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। অকারণে হর্ন বাজানোটা আমাদের বদভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। আজ বিমান বন্দর এলাকায় ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের-এর সমন্বিত অভিযানে হর্নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আয়োজিত সমাবেশে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা শুধু হর্ন এর উপরে জোর দিচ্ছি। কোন অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবেনা। তিনি বলেন, অন্যান্য আইন ভাঙ্গলে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পুলিশ যেভাবে গাড়ির ব্যাপারে দণ্ড আরোপ করে, একইভাবে হর্নের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন এবিষয়ে ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-হয়েছে। পুলিশকেও একাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ বেশকিছু তরুণকে একাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা এখন অফিসিয়ালি ট্রাফিক পুলিশের অংশ। সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বন্ধে ভলেন্টিয়ারদের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে আমরা উদাহরণ একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি। উপদেষ্টা জানান, উচ্চশব্দের কারণে শতকরা ৬৫ ভাগ ড্রাইভার ঢাকা শহরে কানে কম শুনেন। একটা বাচ্চা যখন স্কুলে যায় হর্নের আওয়াজ তার জন্য খুবই অস্বস্তিকর। জাতিগতভাবে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। উপদেষ্টা জনগণকে সচেতন করায় এগিয়ে আসতে গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান। তাদেরকে স্বপ্রণোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে বিধিমালাটি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসি-র প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এছাড়া, পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ.এস.এম. সালেহ আহমেদ বলেছেন, ই-রিটার্ন বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন। এই ব্যবস্থা একদিকে যেমন কর প্রশাসনকে সহজ ও স্বচ্ছ করেছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে একটি শক্ত উদাহরণ স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় ডেটা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের কারণে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক। আজ রোববার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মরত ৯ম এবং তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ‘ব্যক্তি করদাতাগণের ইলেকট্রিক মাধ্যমে আয়কর রির্টান দাখিল’ বিষয়ক লানিং সেশনে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিনিয়র সচিব এ.এস.এম. সালেহ আহমেদ বলেন, একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। এই দুই মূলনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা এবং তা ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা একটি যুগোপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা মানেই রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়ও। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কর প্রদানে আগ্রহ ও আস্থা বাড়বে। কারণ, যারা নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন, তারাই যখন কর প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তখন সমাজে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে যায়। সিনিয়র সচিব বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ই-রিটার্ন দাখিল সত্যিকার অর্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলে, যা পুরো কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নে এই শৃঙ্খলা অপরিহার্য, এ সত্য অস্বীকারের সুযোগ নেই। ই-রিটার্ন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুফল হলো স্বচ্ছতা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দাখিলকৃত তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা প্রয়োজনে যাচাই করা সম্ভব। লানিং সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সহকারী কমিশনার একেএম মনিরুজ্জামান। সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাহউদ্দিন নাগরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল আইন,অধ্যাদেশ একত্রে সংকলন বিষয়ক সভাও অনুষ্ঠিত হয়।