বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, সবার অংশগ্রহণে তিনি একটি ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
চট্টগ্রামে তার দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র কনফারেন্স হলে আয়োজিত রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সকাল ১০টা ৮ মিনিটে শুরু হয়ে ১১টা ৯ মিনিট পর্যন্ত চলা নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বটি প্রাণবন্ত ও ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনায় রূপ নেয়।
এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা সংস্কার থেকে শুরু করে হয়রানি ছাড়া সরকারি সেবা সহজীকরণ- বিভিন্ন বিষয়ে তারা খোলামেলা মতামত ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এক প্রশ্নকারী বিদেশ থেকে ফিরে কত দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
তারেক রহমান মঞ্চে উপস্থিত হলে অংশগ্রহণকারীরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। তার উত্তরগুলোতেও বারবার হাসি ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সভাকক্ষ।
সমাপনী বক্তব্যে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান বলেন, ‘হতাশ হবেন না, কখনো আশা ছাড়বেন না। আপনাদের মতো বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণদের অংশগ্রহণেই আমরা আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’
প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে তারেক রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরে দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে তরুণ সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের পেছনের মূল স্বপ্নকে অর্থবহ করে তুলতে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। দেশের জনসংখ্যাগত কাঠামোতে তরুণদের আধিপত্য রয়েছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে বিএনপি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ৫০ কোটি গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ কমাতে ধাপে ধাপে পুরোনো ও জরাজীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘খাল খনন শুধু জলাবদ্ধতা ও স্থায়ী বন্যা কমাতেই সহায়ক হবে না, কৃষি ও গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য বিকল্প পানির উৎসও তৈরি করবে।’
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গেলে রক্ষা করা হবে কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তিনি কেন নেবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আমার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা করব। নির্বাচনী অঙ্গীকার পালন না করলে আমার লাভটাই বা কী?’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সব জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী- পাহাড়ি ও সমতলের মানুষ একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তাহলে এখন কেন ধর্ম, জাত, বর্ণ, উপজাতি কিংবা পাহাড়ি-সমতলের প্রশ্ন তোলা হচ্ছে? আমরা দেশের সব নাগরিককে সমানভাবে দেখব। সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং সবকিছুই বিবেচিত হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো বিশেষ পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।’
উপজাতিদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে এক নৃগোষ্ঠীর ছাত্রীর প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কি বাংলাদেশি নন? অবশ্যই আপনারাও রাষ্ট্র থেকে সমান অধিকার ও মর্যাদা পাবেন।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চাঁদাবাজি, জননিরাপত্তা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সরাসরি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে এবং পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা থাকা জরুরি।’
প্রবাসী কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিদেশে যাওয়া ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ৭ লাখই অদক্ষ। এ অবস্থা পরিবর্তনে সারা দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা হবে। বিদেশে চাকরি ও শিক্ষার জন্য যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামীণ এলাকায় এক লাখ প্রাথমিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এতে সরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমবে এবং মানুষ চিকিৎসার ঝামেলায় না পড়ে রোগ প্রতিরোধে অভ্যস্ত হবে।’
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ধাপে ধাপে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করে শিল্প, সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষাসহ বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে শিক্ষা সম্প্রসারণে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শ্রেণিকক্ষে সমন্বিত অনলাইন অডিও সিস্টেম চালু করা হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ট্যাব সরবরাহ করা হবে।
অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে। হঠাৎ করে কঠোর ব্যবস্থা নিলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। তবে যারা বাজারে কারসাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা বার্ষিক ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। একই সঙ্গে তিনি এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ভিশনের বাস্তব প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে যখন পূর্বাচলের জনসমুদ্রে বলেছিলেন—‘I have a plan’, এই বাজেট সেই পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। লন্ডনের মতো উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে মডেলে রেখে বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।” উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাজের গতির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও দ্রুত জনবল, চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। ৬০০টি উপজেলা একসাথে সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও কর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। তবে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করা দরকার। কারণ বর্তমানে মাসে ৫০ হাজার টাকার নিচে আয় করে জীবন চালানো কঠিন। উপজেলা পর্যায়েও এখন অনেক সক্ষম করদাতা আছেন, কর আহরণে সেখানে প্রয়োগের (এনফোর্সমেন্ট) দিকে জোর দিতে হবে।’ নিজের মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিদেশে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। আমার মন্ত্রণালয়ের বাজেট কিছুটা কমলেও প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে কাজের প্রয়োজনে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে।’ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর জায়গা। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে সব অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সাথে সংলাপের মাধ্যমে তাদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’ চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে চরাঞ্চলের মানুষ। সেখানকার স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা খুবই করুণ। চরাঞ্চল নিয়ে একটি আলাদা ফাউন্ডেশন বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা জরুরি। অর্থমন্ত্রীসহ সহকর্মীদের অনুরোধ করব, আমাদের এলাকার উন্নয়নের কোনো চাহিদাপত্র গেলে যেন মানবিক দৃষ্টিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। এ উন্নয়নকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি। তবে এখনো কোনো অবস্থান নিইনি।’ তিনি জানান, করিডোর বিষয়ে সরকারের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো পরিবহন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনা, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চীন সফর থেকে তাৎক্ষণিক কী অর্জন হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভিক্ষার থলি নিয়ে যাইনি। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অভিমুখ নির্ধারণ করা। সেই ভিত্তি তৈরি হলে অন্যান্য সহযোগিতাও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসবে। একটু আত্মসম্মানবোধ রাখুন। এ ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন করবেন না।’ তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শুরু হবে।’ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশের সঙ্গেই এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের অংশীদারিত্ব বজায় রাখে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন সব দেশের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখে না। এশিয়ায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এমন অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের স্বীকৃতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেন, সফর চলাকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অন্য একটি দেশের সরকারপ্রধানকে অপেক্ষায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার চুক্তি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন কুনমিং থেকে বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ব্রিফিংয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। সফরকালে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে দুটি নোট অব ভার্বাল সই হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের নীতিগত প্রশ্নে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীন দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। পাশাপাশি ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-তে বাংলাদেশের সদস্যপদের আবেদনেও চীন সমর্থন দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।