জাতীয়

আদালত অবমাননার অভিযোগ

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অব্যাহতি পেলেন বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় আদালত অবমাননার অভিযোগে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। 

 

অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

 

ফজলুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। 

 

শুনানির শুরুতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ফজলুর রহমান। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে বসেন তিনি। একপর্যায়ে টেলিভিশন টকশোতে গিয়ে দেওয়া নিজের বক্তব্যের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুকম্পা চান বিএনপির এই নেতা। একইসঙ্গে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। পরে সতর্ক করে আদালত অবমাননার অভিযোগ কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল।

 

এদিন বেলা ১১টার দিকে আইনজীবীদের বহর নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন বিএনপির এই নেতা। তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।

 

এর আগে, ৩০ নভেম্বর এ অভিযোগের ব্যাখ্যা শুনতে ফজলুর রহমানকে তলব করেন ট্রাইব্যুনাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সশরীরে হাজির হন বিএনপির এই নেতা। তবে লিখিতভাবে আগেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। গত ৩ ডিসেম্বর এমনটি জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

 

ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নিয়ে চ্যালেঞ্জ, আদালতের নিরপেক্ষতায় হস্তক্ষেপকারী 'অভ্যন্তরীণ বন্দোবস্ত' রয়েছে বলে দাবি ও প্রসিকিউশন প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য; এই তিনটি কারণে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে প্রসিকিউশন। এ নিয়ে ২৬ নভেম্বর প্রথম শুনানি হয়। ৩০ নভেম্বর অবশিষ্ট শুনানি শেষে ব্যাখ্যা জানতে বিএনপির এই নেতাকে তলব করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

গত ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের 'মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক' টকশোতে অতিথি হয়ে যান ফজলুর রহমান। টকশোর একপর্যায়ে শেখ হাসিনার রায় প্রসঙ্গ আসতেই নানান কথা বলেন তিনি। ৪৯ মিনিটের টকশোটি পেনড্রাইভের মাধ্যমে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালেও ফজলুর রহমানের বক্তব্যের কিছু অংশ বাজিয়ে শোনানো হয়।

 

ফজলুর রহমান বলেছেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি এই কোর্ট মানি না। তখন উপস্থাপক বলেন, তাহলে কি আমরা শুনতে পাইনি। মিডিয়া কি জানতে পারেনি। 

 

ফজলুর রহমান বলেন, সবাই জানে। জানবে না কেন। আমার ইউটিউব শোনেন। আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার মানি না। ইউটিউবে বলেছি, টকশোতে বলেছি। যদি না বলে থাকি এখন বললে আমার ভুল আমার মাফ চাইবো প্রতিদিন বলছি এই বিচার আমি মানি না। এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না। এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া বলে এই কোর্টে বিচার হতে পারে না। প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত বলেও টকশোতে দাবি করেন জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী। 

 

ট্রাইব্যুনাল আইন না বুঝেই ফজলুর রহমান এসব মন্তব্য করেছেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। ফজলুর রহমানের আর কোনো পরিচয় আছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী বলে জানানো হয়। জুলাই বিপ্লব নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি আগেও তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল বলে জানান প্রসিকিউশন।

 

আদালতকে তামিম বলেন, ফজলুর রহমান দাবি করেছেন যে তিনি ট্রাইব্যুনালকে মানেন না। কারণ এটি ১৯৭১ সালের রাজাকারদের বিচার করার জন্য গঠিত হয়েছিল। 

 

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণীত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। এ আইনের অধীনে ১৯৭৩ সালের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়। আর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

সবশেষ ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব অভিযোগ গুরুতর মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তাই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফজলুর রহমানের ব্যাখ্যা শুনতে আগামী ৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
নবম পে স্কেল: কারা সুবিধা পাচ্ছেন এখনই, কাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে?

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা এসেছে প্রায় ১১ বছর পর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণের তথ্য সামনে আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষণার পরই বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—এই পে স্কেল ঠিক কারা পাবেন, আর কারা আরও অপেক্ষায় থাকবেন?   সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে নতুন বেতন কাঠামোর মূল সুবিধাভোগী, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ জাতীয় পে স্কেল মূলত তাদের বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়। বাজেট ঘোষণাতেও ‘গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’ বা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যই এই সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। তবে পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা একইসঙ্গে এই সুবিধা পাবেন কিনা, নাকি তাদের জন্য আলাদা সিদ্ধান্ত ও আরও সময় লাগবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   বাজেট-পরবর্তী আলোচনা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নবম পে স্কেল এখনও সবার জন্য সমানভাবে ‘নিশ্চিত সুবিধা’ হয়ে ওঠেনি। বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে থাকা একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।   চলতি বাজেটে নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণের কথা জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে নতুন পে কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিলেও কীভাবে, কাদের আগে এবং কাদের পরে এই সুবিধা দেওয়া হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন-পদ্ধতি এখনও প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বরাদ্দটি সরাসরি ‘সেলারি অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস’ খাতে না দেখিয়ে ‘প্রকৃত জনসেবা’ বা নেট পাবলিক সার্ভিসের আওতায় রাখা হয়েছে। এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্ভাব্য সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যে ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে প্রথম ধাপে সংশোধিত বেসিকের ৫০ শতাংশ, পরের ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ভাতাদি পরে সমন্বয়ের পরিকল্পনা বিবেচনায় আছে। এর অর্থ, নতুন পে স্কেল কার্যকর মানেই সবাই ১ জুলাই থেকেই পুরো সুবিধা হাতে পাবেন—এমনটি নয়। বরং এটি হবে ধাপে ধাপে, আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী বাস্তবায়িত একটি কাঠামো। সূত্র জানিয়েছে, জুলাই থেকে ধাপে ধাপে পে স্কেল কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   নবম পে কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাবও আলোচনায় আছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই ঘোষণা কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তব আয় বাড়ার সম্ভাবনাও বড়। তবে চূড়ান্ত গেজেট, গ্রেডভিত্তিক ফর্মুলা এবং প্রথম ধাপে কত শতাংশ কার্যকর হবে—এসব এখনও প্রকাশ না হওয়ায় তারাও পুরো অঙ্ক নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না।   বুধবার (২৪ জুন) সচিব কমিটির বৈঠকে পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সরকার। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্য হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুটি খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য আরও একটি সভা হতে পারে।   তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা। সভায় বেসিকের কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে বা এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।   নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে সরকার। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় আছে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও রয়েছে।   এদিকে পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বাজেটের ৪৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দে তাদের সম্ভাব্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে পেনশন কীভাবে পুনর্নির্ধারণ হবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারীদের মতো একই সময়ে ও একই ফর্মুলায় সুবিধা পাবেন কিনা—এসব এখনও স্পষ্ট নয়।   সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা হলো স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো। এর মধ্যে বিভিন্ন বোর্ড, করপোরেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, সংস্থা এবং কিছু বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কেউ সরাসরি সরকারি স্কেল অনুসরণ করে, কেউ নিজস্ব সার্ভিস রুলস অনুযায়ী চলে, আবার কারও ক্ষেত্রে বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আলাদা অনুমোদন প্রয়োজন হয়।   ফলে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য এখন সবচেয়ে সঠিক শব্দটি হলো অপেক্ষা। সরকারি ঘোষণায় তারা স্পষ্টভাবে বাদও পড়েননি, আবার নিশ্চিতভাবেও অন্তর্ভুক্ত হননি। তাদের সামনে এখন প্রশ্ন—সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাদের নাম বা কাঠামো কীভাবে আসে এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা মন্ত্রণালয় পরে কী সিদ্ধান্ত নেয়।   সব মিলিয়ে নবম পে স্কেলের মূল সুবিধাভোগী হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পেনশনভোগী, এলপিআরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনার দরজা খোলা আছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। গেজেট, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ব্যাখ্যাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—কে এখনই স্বস্তি পাবেন, আর কাকে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।   বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘‘নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। পে কমিশন গঠন থেকে শুরু করে এর সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, এমনকি মামলা-হামলার মুখেও পড়তে হয়েছে। গত ১১ বছরে নানা অজুহাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এখন সরকার যেহেতু পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে, তাই আমরা স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদী। তবে প্রজ্ঞাপন জারি ও বাস্তবে বর্ধিত বেতন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি স্বস্তি বা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।’’

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে মেগা দুর্নীতি শুরু হয়েছে: সংসদে সালাহ উদ্দিন

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করলেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর: প্রিপেইড মিটার আপডেটের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘দিয়াওইউতাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ গ্রেট হলে এসে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান।   শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় যান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।   মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী গত সোমবার রাতে প্রথমে যান চীনের দালিয়ানে। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি দুই দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষ করে গতকাল বুধবার বিকেলে দালিয়ান থেকে হাই স্পিড (বুলেট ট্রেন) ট্রেনে বেইজিং আসেন।   গ্রেট হলে চীন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে। এই বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম চীন সফর। এর আগে ২০০১ সালে তারেক রহমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন। তিনি ওই সময়ে এই গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীর লালগালিচা সংবর্ধনায়ও উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

ছবি: সংগৃহীত

নতুন নিয়মে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন যেভাবে করবেন

ছবি : সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড আসছে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে

ছবি : সংগৃহীত
২৮ জুন থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত।   ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আগামী ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিরা আবার ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে।   বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরুর পরপরই যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে এসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী।   তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমরা ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য স্বাভাবিক ভিসা আবেদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছি, যা আগামী ২৮ জুন, রবিবার থেকে জমা দেওয়া যাবে। মানবিক বিবেচনায় জরুরি ক্ষেত্রে মেডিকেল ভিসার সুবিধা আমরা অব্যাহত রাখব।”   তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতেও এ কার্যক্রম চালু হবে।   “আমরা আশা করি, এর ফলে আমাদের দুই সার্বভৌম দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে,” বলেন হাই কমিশনার।   বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর দৈনিক ঘোষণার ভিত্তিতে ভিসা কার্যক্রম বন্ধই রাখা হয়।   গণআন্দোলনের মুখে ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।   ওই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীমিত পরিসরে ভিসা আবেদনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৬ অগাস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেবল সীমিত পরিসরে জরুরি ও মেডিকেল ভিসা ইস্যু করবে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন।   এই সময়ে ভারতীয় ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিরা ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যবসার কাজে অনেকে বিদেশে যেতে পারছিলেন না। মেডিকেল ভিসা সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলছিল না।   মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সেই অচলাবস্থা আর কাটেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।   মে মাসের মাঝামাঝি খবর আসে, ভারত শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করতে যাচ্ছে। তারও দেড় মাস পর সুখবর দিলেন নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।   বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবন থেকে তিনি সরাসরি যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন সেন্টারে আসেন এবং ভিসার জন্য আগতদের সঙ্গে কথা বলেন।   এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ১২ জুন যখন বেনাপোল হয়ে তিনি বাংলাদেশে এলেন, তখন সাংবাদিকরা শুরুতেই তাকে ভিসা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।   "ওই জিনিসটা আমার মাথায় ছিল। আর আবার মাথায় ঢুকল যে, ভিসা সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট। এজন্য আজ প্রথমে আমি পুরো ঘুরে দেখলাম, খুবই ভালো লাগলো। অনেকের সঙ্গে আমার আলোচনা হল।”   হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব শুরুর দিনই ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিতে পারায় নিজের আনন্দের কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "এইটা নিয়ে আমি অনেক খুশি। এটা আমাদের জন্য ভালো, এখানকার মানুষের জন্য ভালো। এটা সবার পাওনা ছিল। আশা করি যে, এখানকার সাধারণ মানুষও খুশি হবে।"   সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চব্বিশের ৫ অগাস্ট ধানমন্ডিতে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র লুণ্ঠিত ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক) হামলার শিকার হয় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তারা হুমকির মুখে পড়েন। নিরাপত্তাজনিত হুমকি এবং হাই কমিশনের স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ওপর হামলার কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন ভিসা কার্যক্রম সীমিত করতে 'বাধ্য হয়'।   ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারী অনেকেই গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেই মানবিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে 'নিরাপত্তাজনিত প্রতিকূলতা' সত্ত্বেও ভারতীয় হাই কমিশন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীতে ভিসা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।   এ সময়ে ভারত প্রতিদিন ট্যুরিস্ট ভিসা বাদে দেড় হাজারের বেশি অন্যান্য ভিসা ইস্যু করে আসছে। যেখানে চিকিৎসা সংক্রান্ত ও অন্যান্য জরুরি ভিসার আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে ভারতীয় হাই কমিশন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনুমোদনবিহীন এজেন্সির হজ কার্যক্রমের প্রচারণা বিষয়ে সতর্ক করল ধর্ম মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত

হোসেন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি ২৬ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত

স্বামীর করা যৌতুক মামলায় নারায়ণগঞ্জে গৃহবধূ গ্রেপ্তার

0 Comments