নেপালের আমা দাবলাম পর্বতের চূড়ায় ওঠার একদিন পর প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার (প্রায় ৫০০০ ফুট) নিচে পড়ে ৫৭ বছর বয়সী এক জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম উলফগ্যাং ওয়াশিচেক।
ট্রেকিং কম্পানি ‘রিয়েল হিমালয়া’র প্রধান গোকুল থাপা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ৬ হাজার ৮১২ মিটার উঁচু আমা দাবলাম পর্বতের চূড়ায় ওঠার পর রবিবার রাতে ওয়াশিচেক ৬ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ক্যাম্প ৩-এ অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে নিচে নেমে আসার পরিকল্পনা ছিল।
থাপা জানান, সোমবার সকালে ওয়াশিচেকের ব্যক্তিগত গাইড সোনাম লামা তাকে ক্যাম্পে খুঁজে পাননি। ধার নেওয়া কিছু সরঞ্জাম ফেরত দিতে গাইড তাঁবুর বাইরে গেলে ওয়াশিচেককে ভেতরে থাকতে বলেছিলেন।
কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে তিনি ওয়াশিচেককে আর দেখতে পাননি।
পরে সোমবার সকাল ৮টার দিকে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প ২-এর কাছে আরেকজন শেরপা ওয়াশিচেকের মরদেহ দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অনেকটা নিচে পড়ে গিয়েছিলেন।
বিকেলে হেলিকপ্টারে মরদেহ উদ্ধার করে এভারেস্ট অঞ্চলের পর্বতারোহীদের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত লুকলায় নেওয়া হয়।
পরে মরদেহটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।
থাপা এএফপিকে বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষ হলে দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহটি তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ তিনি জানান, ওয়াশিচেকের এটি ছিল নেপালে দ্বিতীয় সফর। থাপা বলেন, ‘তিনি ২০২৪ সালে ট্রেকিং করতে নেপালে এসেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পশ্চিম নেপালের আরেকটি পর্বতশৃঙ্গে দুই জাপানি পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। নেপালের খুম্বু অঞ্চলে অবস্থিত আমা দাবলাম পর্বতটি খাড়া ঢালের জন্য পরিচিত। এ কারণে পর্বতটি জয় করা কারিগরি দিক থেকে বেশ কঠিন বলে বিবেচিত হয়।
এ বছর আমা দাবলাম পর্বতে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছরের অক্টোবরে এই পর্বতে অভিযান চালানোর সময় ৬৫ বছর বয়সী এক ফরাসি ও ৬৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ কোরীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়। চলতি পর্বতারোহণ মৌসুমে ৩০০ জনেরও বেশি পর্বতারোহী আমা দাবলাম পর্বতের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করছেন। এ বছর বিশ্বের অন্যান্য পর্বতশৃঙ্গেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
জুলাই মাসে পাকিস্তানের ব্রড পিক পর্বতে তুষারধসে বিখ্যাত ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জন পর্বতারোহী প্রাণ হারান। মে মাসে নেপালের দক্ষিণ দিক দিয়ে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করার সময় দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়।
একই মাসে নেপালের মাউন্ট মাকালুতে তুষারধসে প্রাণ হারান মার্কিন পর্বতারোহী শেলি জোহানেসেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিযাত্রী সংস্থা ‘ড্যাশ অ্যাডভেঞ্চারস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জোহানেসেন সফলভাবে ২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট উঁচু মাকালুর চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। তবে ফেরার পথে প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় তিনি তুষারধসের কবলে পড়েন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের প্রায় শেষ পর্যায়ের ৮৫.৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বর্তমানে আসন সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা হলো ৬১টি। এই মুহূর্তে ভোট গণনার চিত্র অনুযায়ী নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট মোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে থেকে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। অন্য দিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী ‘পরিবর্তন জোট’ ৪৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া প্রধানত আরব দলগুলো যৌথভাবে ১৯টি আসন নিশ্চিত করে ফলাফলে একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলাফলে আসন সংখ্যার দিক থেকে নেতানিয়াহুর ব্লক সবচেয়ে বড় দল বা একক জোট হিসেবে এগিয়ে থাকলেও, এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কোটা পূরণ করতে পারেনি। ফলে নেতানিয়াহু এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও নতুন সরকার গঠন নিয়ে ইসরাইলি রাজনীতিতে এখন তীব্র অনিশ্চয়তা ও তীব্র টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র: আল-জাজিরা
পরাজিত ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল তার পাসপোর্ট বাতিল করার পর প্রথমে বলা হয়েছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে আর্জেন্টিনার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি ইকুয়েডরের একটি ফ্লাইটে উঠেছেন। কিন্তু তার শেষ গন্তব্য নিয়ে কোনো সঠিক তথ্য জানা যায়নি। আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে ব্রাজিলের স্থল সীমান্ত পেরিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। একটি টুইটে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই তিনি, তার স্ত্রী এবং দুই কন্যা ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিল শহরের উদ্দেশ্যে একটি ব্যক্তিগত ফ্লাইটে রওনা হন। তবে ইকুয়েডরই তার চূড়ান্ত গন্তব্য কি না তা স্পষ্ট নয়। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছিলেন, বলসোনারো এবং তার পরিবার যদি আবেদন করেন তবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের ভিসা দেবে এবং দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বলসোনারো ও তার পরিবারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি আর্জেন্টিনায় আছেন।’ কথিত অর্থ পাচারের তদন্তের মধ্যে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে এই জল্পনা শুরু হয়। বলসোনারোর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালত বলসোনারোকে নথিপত্র হস্তান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সে সময় বলসোনারো বলেছিলেন যে দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং তিনি ব্রাজিলেই থাকবেন যাতে তার বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরোধীদের নেতৃত্ব দিতে পারেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর ব্রাজিলের কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেন। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই বিবিসি যখন তার আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করে, তখন তারা জোর দিয়ে বলেন, বলসোনারোর অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে আছেন। তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, এমন জল্পনার কথা উল্লেখ করে একজন আইনজীবী বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে কিছুই জানতাম না এবং কী ঘটেছে সে সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনও কোনো তথ্য নেই।’ একটি পুলিশ সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, বলসোনারো প্রতিবেশী দেশ আর্জেন্টিনায় ভ্রমণ করেছেন কি না তা নিশ্চিত করতে ব্রাজিলের ফেডারেল কর্মকর্তারা সীমান্ত পারাপারগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন। ওই সময় আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে বলেছিল যে, কোনো সীমান্ত পারাপার দিয়ে ওই সিনেটরের তাদের দেশে প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই। সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর থেকে বলসোনারো আর কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি। ফ্লাভিও বলসোনারো ইতিমধ্যেই তার বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ওপর নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের অর্থায়নের বিষয়ে কথিত দুর্নীতির তদন্তের আওতায় ছিলেন। উল্লেখ্য, তার বাবা অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গৃহবন্দি রয়েছেন। আলাদা আরেকটি তদন্তে এক ব্রাজিলীয় আইনজীবীর সাথে তার কথিত সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা চক্রের মাধ্যমে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশ জানিয়েছিল, তারা জানতে পেরেছে ওই আইনজীবীর মালিকানাধীন একটি কম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বলসোনারোর প্রবেশাধিকার ছিল। বলসোনারো ওই আইনজীবীর সাথে কোনো ব্যবসা করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টিকে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেই তদন্তের পাশাপাশি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারণায় কথিত বিদেশি অর্থায়নের বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে। জনমত জরিপগুলোতে বলসোনারো লুলার চেয়ে সামান্য এগিয়ে ছিলেন এবং বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছিলেন, ৪ অক্টোবর নির্বাচনের প্রথম দফায় বলসোনারোর জয়ী হওয়া মানে রান-অফেও তার জয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল। কিন্তু ভোট গণনার শুরুতে এগিয়ে থাকার পর, অভিজ্ঞ ক্ষমতাসীন লুলা তাকে ছাড়িয়ে যান। এর মাধ্যমে প্রথম দফার পরাজয় উল্টে দিয়ে দ্বিতীয় দফায় জয়ী হওয়া প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হলেন লুলা। তিনি পেয়েছেন ৫১.৭৯ শতাংশ ভোট, আর বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২১ শতাংশ ভোট। ৪৪ লাখ ভোটে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও বলসোনারো পরাজয় স্বীকার করেননি এবং নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেখান, ভোটের দিন ভোটগ্রহণের সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি অসুবিধায় পড়েছেন, যদিও এই সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ তার নিজের দল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দল উভয়ই করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির আদেশ দেওয়া এই সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টিকে তিনি একটি নোংরা চাল বলে অভিহিত করেছেন। তবে তার প্রতিনিধিত্বকারী দল, লিবারেল পার্টি, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে,যদিও তারা বলেছে যে ভোটগ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচারবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ওই নৌযানে মাদক বহন করা হচ্ছিল, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা। এ হামলার মধ্য দিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ২৪০ জনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এ পর্যন্ত ৭০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। তাদের ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্যে নৌযানটির মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছিল। সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে পানিতে চলাচলরত ছোট একটি নৌযানকে বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়। ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র সংঘাত’ চলছে। দেশটিতে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করা এবং প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজন বলে যুক্তি দেখিয়েছে তার প্রশাসন। তবে যাদের ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তাদের হত্যার দাবির পক্ষে প্রশাসন খুব সামান্যই প্রমাণ হাজির করেছে। এসব হামলার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের মতে, প্রাণঘাতী অতিমাত্রার মাদক গ্রহণের বহু ঘটনার জন্য দায়ী ফেন্টানিল সাধারণত মেক্সিকো থেকে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। মেক্সিকোতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা রাসায়নিক ব্যবহার করে এ মাদক তৈরি করা হয়। হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে পেন্টাগনের পরিদর্শক সংস্থা জানায়, প্রাণঘাতী এসব অভিযানে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাঠামো অনুসরণ করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমান্ডারের নির্দেশনা, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া। তবে হামলাগুলোর বৈধতা এ পর্যালোচনার আওতায় থাকবে না। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ধরনের হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবারের হামলাটি এ ধরনের কয়েকটি অভিযানের একটি। গত মাসে পেরুতে রুবিওর বক্তব্যে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেও অভিযান চালানোর সক্ষমতা রাখে, তবে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তবে রুবিও একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌযানে হামলা চালাবে। তার ভাষায়, প্রতিটি হামলা বা অভিযান আলাদাভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: এপি