আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। এ পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা, যা বিদ্যমান কাঠামোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন কাঠামোকে আরও বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতায় সমন্বয় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর ফলে কর্মচারীদের প্রকৃত আয় বাড়বে এবং আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন পুনর্নির্ধারণের দাবি থাকলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কারণে সিদ্ধান্তটি সময় নিয়েছে। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ফলে সরকারি ব্যয়ে কিছুটা চাপ বাড়লেও অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত আয় ব্যয়ের মাধ্যমে বাজারে ভোগব্যয় বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতায় সহায়ক হবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরির আকর্ষণও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২১ জানুয়ারি থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেতন বিল প্রস্তুত, হিসাব সমন্বয় এবং সফটওয়্যার হালনাগাদের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা না থাকে।
সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আগামী পাঁচ বছর কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তাকে এ কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে আমির হামজা বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী। যে বাজেটগুলো সরকার দেবে, ওটা দেবে আমির হামজার হাতে। এটা কি কোনও ফেরেশতার হাতে দেবে? আর ফেরেশতারা গিয়ে বলে আর দলের মানুষ নাচে, আর বলে না করে দিয়েছে। সে কি তার বাপের টাকা নিয়ে এসে কাজ করবে? এই পাগলামিগুলো আর বিশ্বাস করা যাবে না।’ তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং কোন অনুষ্ঠানে বক্তব্যটি দেওয়া হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশকে মানুষের কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল দেশের সাধারণ মানুষ ও গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে যে মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে, সেগুলো বড় হয়ে বংশবিস্তার করবে এবং বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষই ভোগ করবে। দেশের মানুষের উপকারে আসে—এমন উন্নয়ন ও কার্যক্রম বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বিজয়ী করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দলের রাজনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপ দেওয়া হবে। খাল খননের সুফল কাজে লাগানোর আহ্বান: দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সরকার গঠনের পর সারা দেশে পর্যায়ক্রমে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন এবং খালসংলগ্ন এলাকার মানুষও পানির বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারছেন বলে জানান তিনি। তবে শুধু খাল খনন করলেই হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব জলাশয়ের পানি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতেও খাল ও জলাশয়গুলোকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় খালেও মাছের পোনা ছাড়া হবে। এতে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। নারী শিক্ষায় গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি। নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের রচনা ও অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে জমা দেওয়ার প্রবণতা শনাক্ত করতে নতুন প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটির এআই মডেল ‘ক্লড’-এ অদৃশ্য ডিজিটাল জলছাপ বা শনাক্তযোগ্য সংকেত যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অ্যানথ্রোপিকের তথ্য অনুযায়ী, ক্লড ব্যবহার করে কোনো লেখা তৈরি করা হলে এর মধ্যে বিশেষ ধরনের অদৃশ্য সংকেত যুক্ত থাকবে। পরবর্তীতে সেই লেখা কপি করে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হলেও সংকেতটি সহজে মুছে যাবে না। নির্দিষ্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লেখাটি এআই দিয়ে তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে লেখার মান, ভাষা কিংবা মূল বক্তব্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া লেখা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা অতিরিক্ত সহায়তা পাবেন। বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে এআই ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কাজ যাচাই করা শিক্ষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সেই সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, ইউরোপের নতুন প্রযুক্তি আইন অনুসরণ করে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু অ্যানথ্রোপিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওপেনএআই ও গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও তাদের এআই মডেলের তৈরি কনটেন্ট শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে এআই দিয়ে তৈরি ছবি শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে অদৃশ্য সংকেত ব্যবহারের উদ্যোগ দেখা গেছে। তবে এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের প্রশ্ন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আবার নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনছে কি না। আরেকটি উদ্বেগ হলো, কোনো শিক্ষার্থী নিজের লেখা সম্পাদনা, ভাষাগত ভুল সংশোধন বা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করলে সেটিও ভুলভাবে সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত লেখা হিসেবে শনাক্ত হতে পারে কি না। তবে অ্যানথ্রোপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো লেখার উৎপত্তিতে এআইয়ের ব্যবহার শনাক্ত করা। এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই-নির্ভর একাডেমিক জালিয়াতি শনাক্ত ও প্রতিরোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে।