বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক ঐতিহাসিক হলেও নানা ভূরাজনৈতিক জটিলতায় সম্পর্ক সেভাবে এগোয়নি। তবে ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান এবং তুরস্কের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বাংলাদেশের অনড় সমর্থনের পর থেকে বাংলাদেশ-তুরস্কের সম্পর্ককে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এর সঙ্গে যোগ হয় ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যু। নানা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে দোটানায় ভুগছিল, তুরস্ক একমাত্র প্রভাবশালী মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অভয় প্রদান করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সচেষ্ট থাকে। নিজেদের সদিচ্ছা প্রমাণ করতে বাংলাদেশে একের পর এক তুরস্কের ক্ষমতাসীন নেতাদের সফর করতে দেখা যায়, যাদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী এমিনে এরদোয়ান ছিলেন অন্যতম। এছাড়া সম্প্রতি (গত রমজান মাসে) প্রেসিডেন্টপুত্র বিলাল এরদোয়ানকেও বাংলাদেশ সফরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট থেকে শুরু করে তুরস্কের আরো বেশ কিছু সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থা মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তুরস্ক রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এসব করলেও তা বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বর্তমান আকার ১৩০ কোটি ডলার, যা বৃদ্ধি করে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছে দেশ দুটি। ২০২৬ সালের ৫ জুন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের দুই দিনের ঢাকা সফর এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে নতুন মাত্রা যোগ করবে—কোনো সন্দেহ নেই। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হাকানের ঢাকা সফরকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উষ্ণ সংবর্ধনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো জোরদারে বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি বিনিয়োগের প্রস্তাব, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুরস্ককে সীমান্তের ওপারের বন্ধু (প্রভু নয়) উল্লেখের মাধ্যমে বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহের পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশ প্রধানত পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক তুরস্কে রপ্তানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে তুলা, পেট্রোলিয়াম তেল, যন্ত্রাংশ, কৃষি পণ্য ও লোহা-ইস্পাত নির্মাণসামগ্রী আমদানি করে। ভবিষ্যতে টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধশিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে তুরস্কের বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার ইঙ্গিত ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে হাকানের সফরকালে যে আলোচনা হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নিলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।
সামরিক দিক থেকে দুই দেশের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক নীতি অবলম্বন করছে, যাতে তুরস্ককে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। বায়রাক্তার টিবি২ ড্রোন বাংলাদেশের সামরিক বহরে যোগ হওয়ায় এরই মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এছাড়া টি১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, টিআরজি-২৩০ এবং টিআরজি-৩০০ গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চ সিস্টেম (এমএলআরএস) ইত্যাদি সমরাস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তুরস্ককে বিশ্বস্ত উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে। এতে বাংলাদেশ লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মিডিয়াগুলোয় কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত সংবাদ ছাপা হয়েছে। তুরস্ক-বাংলাদেশের সম্পর্ক যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো সামরিক চুক্তিতে (মিলিটারি প্যাক্টে) না গড়াচ্ছে, ততক্ষণ এটাকে নিছক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই (দুই দেশেরই লাভ বিদ্যমান) দেখতে হবে, কারণ একই ধরনের সামরিক সম্পর্ক অন্যান্য দেশের সঙ্গেও রয়েছে।
আগে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের ইতিহাসনির্ভর টিভি সিরিয়ালের বাংলা ডাবিং বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে প্রচার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং শহুরে তরুণদের মধ্যে তুর্কি চলচ্চিত্র এবং ড্রামা সিরিজের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া বাংলাদেশি মেয়েদের মধ্যে এখন তার্কিশ স্টাইলের হিজাব ও পোশাকের ব্যাপক প্রচলন দেখা যাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে তার্কিশ টিভি সিরিয়াল ‘দিরিলিশ আরতুগ্রুল’-এ বহুল ব্যবহৃত ‘হেই মাশাল্লাহ’, ‘এইভাল্লাহ’, ‘বেয়িম’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। কারণ এসব শব্দের সঙ্গে সিরিয়ালে প্রদর্শিত সংগ্রামী (অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন) পক্ষের আবেগের একটা মিশ্রণ রয়েছে, যা তরুণসমাজকে তীব্র আকর্ষণ করে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর তুরস্কের সরকারি স্কলারশিপে পড়তে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় হচ্ছে দিন দিন। তুরস্ক থেকে পড়ালেখা শেষ করে অনেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহর (এশিয়া লাউঞ্জ) এবং ঢাকায় (তার্কিশ এক্সপ্রেসো) তুর্কি খাবারের রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছে, যা তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বড় বড় হোটেলে অন্যান্য খাবার আইটেমের সঙ্গে এখন তার্কিশ বাকলাভা (এক ধরনের মিষ্টি) পরিবেশন করা হচ্ছে। তবে তুরস্কের ‘ইউনুস এমরে’ নামক যে কালচারাল সেন্টার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক প্রসারের জন্য কাজ করছে, তা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হলে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে বলে আশা করা যায়।
লেখক : সিনিয়র লেকচারার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং (বাংলাদেশ স্টাডিজ), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন ইস্যুতে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (১৭ জুন) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনীয় সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ গত এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদল এবং বিজেপি সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (থ্রি-ডি) অভিযান শুরু করার পর গত মে মাস থেকে ভারত থেকে পুশইন (জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো) তৎপরতা নতুন করে আবার বাড়তে থাকে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও সীমান্ত দিয়ে পুশইন বেড়েছিল। বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বিএসএফ ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। তাঁদের মধ্যে ১২০ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। এদিকে আজ সংসদে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় সরকার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ একই দিন পুশইন নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বললেন আইনমন্ত্রী। মাগুরার আলোচিত আছিয়া হত্যা মামলার রায় নিয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। নির্ধারিত সময়েই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এবং দলটির বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে সময়ই বলে দেবে।’ এর আগে বারইপাড়া গ্রামে ৩৪৯ জন নারীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন তিনি। পরে খালপাড় এলাকায় তালগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সব উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের অভ্যন্তরে সংসদ সদস্যদের (এমপি) একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, দেশের সব সংসদ-সদস্যদের দাফতরিক যোগাযোগের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে পৃথকভাবে কার্যালয় নির্মাণ করার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা? থাকলে, কবে নাগাদ করা হবে? জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ সব ঊর্ধ্বতন কর্মচারীদের জন্য উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে একটি পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যদের বসার জায়গা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান। এরপর গত ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানিয়েছিলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় উপজেলা পরিষদে ‘বসার জায়গা’ করে দিচ্ছে সরকার।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এটি সমাধানের গতি প্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর। বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা চলছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো শরণার্থীকে জোরপূর্বক বা অনিরাপদ পরিবেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। তবে আমাদের সরকার রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সে লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসনের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময়সীমা এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে আসার সাথে সাথেই যাতে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়, সেজন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের স্থায়ী ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারের কঠোর নজরদারি ও বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযানের ফলে ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে খুনের ঘটনা গত তিন বছরে রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। ২০২৩ সালে ক্যাম্পে খুনের ঘটনা ছিল ৬৬টি। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪৯টিতে। ২০২৫ সালে তা আরও কমে ৩৫টিতে নেমে আসে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে খুনের সংখ্যা মাত্র ৬টিতে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লক্ষ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। এ পর্যন্ত ৮ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের আওতায় ৯১০.৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে, যার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া গেছে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো রাজনীতি নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।