জাতীয়

নাটোরের বোয়ালিয়াপাড়ায় চির নিদ্রায় শায়িত হলেন শান্তিরক্ষী মাসুদ রানা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সুদানের আবেই শহরে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত শান্তিরক্ষী কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা। আজ বিকেল চারটায় তাঁর মরদেহ পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়।

এর আগে বোয়ালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে লালপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবির হোসেনের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দলের গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মো. মাসুদ রানার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অন্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ পাপ্পু, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু।

বেলা ২টা ৪০ মিনিটে সামরিক হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে নিহতের মরদেহ সালামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। এরপর সেনাবাহিনীর একটি এ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিহতের বাড়ি সংলগ্ন বোয়ালিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।

নিহত কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা ২০০৬ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই শহরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে কর্মরত অবস্থায় সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত হন।

তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি তাঁর মা ছাড়াও স্ত্রী ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রতীকী ছবি
যমুনা সেতু এলাকায় গড়ে উঠছে ৫৫ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ৩ আগস্ট সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।   বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।   সভার শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।   সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’   তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’   মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। সূত্র: বাসস

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আহত জকসু নেতা-শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের চার দিনের ছুটির গুঞ্জন: যা জানা গেল

ছবি: সংগৃহীত

বিপ্লবের দুই বছর পরও মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে মন্ত্রী এ্যানি: জুলাইয়ের চেতনায় বিভক্তি আনার চেষ্টা হয়েছিল

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল এবং এর পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য কাজ করেছে।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হল মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।   এ্যানি বলেন, “জুলাইয়ের মধ্যে আমরা বিভক্তির লক্ষণ দেখেছি। ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতি এবং পরের পরিস্থিতি সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষ নানা ধরনের নির্যাতন ও ক্ষতির শিকার হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “প্রত্যাশা ছিল নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে। সেই চিন্তা থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজনের কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে।”   মন্ত্রী দাবি করেন, “নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরকে বিতর্কিত করা এবং জুলাইয়ের চেতনার মধ্যে বিভক্তি আনার চেষ্টা একটি রাজনৈতিক দলের কৌশলের অংশ ছিল। তারা ধারণা করেছিল নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারবে। সেই আশা পূরণ না হওয়ায় বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।”   সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পাঁচ মাস কোনো সরকারের জন্য খুব বেশি সময় নয়। সরকার দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে কাজ করছে।”   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট শৈবাল কান্তি সাহা। অনুষ্ঠানে জুলাই স্মৃতি প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৫, ২০২৬
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গঠিত সংশ্লিষ্ট সেলের সপ্তম সভা।

চলতি অর্থবছরে সম্মানি পাবেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ইমাম-মুয়াজ্জিন

রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই সফল জুলাই আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশের নতুন নাম ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ধাপে ধাপে বন্ধ হচ্ছে প্যাডেল রিকশা, আসছে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা

চট্টগ্রাম নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমানোর লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্যাডেলচালিত রিকশা তুলে দিয়ে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।   সোমবার (৩ আগস্ট) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী রিকশাচালক-মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।   মেয়র বলেন, নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিবেশবান্ধব করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন ই-রিকশার লাইসেন্স শুধুমাত্র নিবন্ধিত ও নিয়মিত নবায়নকৃত প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকরাই পাবেন।   যারা ই-রিকশার লাইসেন্স পাবেন   চসিক জানিয়েছে, যেসব মালিক— প্যাডেলচালিত রিকশার বৈধ নিবন্ধন করেছেন, বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করেছেন, এবং পুরোনো লাইসেন্স সিটি করপোরেশনের কাছে জমা দেবেন, তাদেরই নতুন লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে।   অন্যদিকে নিবন্ধনবিহীন বা অনিবন্ধিত রিকশা এ সুবিধার আওতায় আসবে না।   দুই রিকশার বদলে একটি ই-রিকশা: মেয়র আরও জানান, দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি ই-রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নগরীতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা, যানজট কমানো এবং সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।   বর্তমানে কত রিকশা বৈধ: চসিকের তথ্য অনুযায়ী— মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিকশা: প্রায় ৭০ হাজার, নবায়ন করা হয়েছে: প্রায় ২৫ হাজার, এখনো নবায়ন হয়নি: প্রায় ৪৫ হাজার মেয়র অবশিষ্ট মালিকদের দ্রুত নবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে তারা ভবিষ্যতে ই-রিকশা পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং সিটি করপোরেশনের রাজস্বও বাড়বে।   লিথিয়াম ই-রিকশার সুবিধা: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে— ব্যাটারির আয়ু ৪–৭ বছর পর্যন্ত, দ্রুত চার্জ হয়, একবার চার্জে বেশি দূরত্ব চলতে পারে, ওজন কম হওয়ায় চালানো সহজ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় তুলনামূলক কম।   চসিকের লক্ষ্য: মেয়র বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন ই-রিকশা চালু করা নয়, পুরো রিকশা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা। এতে চালকদের কষ্ট কমবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং নগরীর পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।”   তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও ধীরে ধীরে বন্ধ করা সম্ভব হবে, ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়বে।   সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর রিকশাচালক-মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ এবং মহিলা সম্পাদক সালমা আক্তার শিউলিসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস লেন খুলছে আগামী সপ্তাহে

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

ছবি : সংগৃহীত

জনগণের চাহিদা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংবিধান সংশোধন: চিফ হুইপ

0 Comments