নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। প্রস্রাবের বেগ ঘন ঘন হওয়া, কিন্তু অল্প পরিমাণ প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া—এসব এর সাধারণ লক্ষণ। একবার ইউটিআইয়ে আক্রান্ত হওয়া নারীদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের ছয় মাসের মধ্যে আবার সংক্রমণ দেখা দেয়।
বারবার এ সংক্রমণ হলে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর জন্য নারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবকে দায়ী করা ঠিক নয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাষক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কল্পনা গুপ্তের মতে, কিছু নারী স্বাভাবিকভাবেই মূত্রনালির সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা নিয়ে জন্মান।
কেন বারবার সংক্রমণ হয়?
মূত্রনালির সংক্রমণের প্রধান কারণ ইশেরিশিয়া কোলাই (ই-কোলাই) নামের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত অন্ত্রে বসবাস করে। মলদ্বার থেকে যোনিপথ হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে প্রবেশ করলে মূত্রথলিতে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
মেনোপজের আগে যৌনমিলন এবং স্পার্মিসাইডযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যৌনমিলনের পর মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, স্পার্মিসাইড যোনিপথের উপকারী ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে দিতে পারে।
মেনোপজের পর যোনিপথে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। পাশাপাশি মূত্রথলির সংকোচনক্ষমতা কমে যাওয়ায় পুরোপুরি প্রস্রাব বের হতে সমস্যা হতে পারে। বংশগত কারণও এতে ভূমিকা রাখে। মা বা বোনের বারবার ইউটিআই হওয়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সাধারণভাবে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বারবার সংক্রমণ হলে কী চিকিৎসা?
বারবার ইউটিআই হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কম মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ছয় মাস বা তার বেশি সময় প্রতিদিন, কারও ক্ষেত্রে যৌনমিলনের পর এবং কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, শারীরিক সম্পর্কের আগে-পরে প্রস্রাব করা এবং আঁটসাঁট অন্তর্বাস ও জিনস এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাসও অনুসরণ করা যেতে পারে। এসব অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও ক্ষতিকর নয়।
বারবার সংক্রমণ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যক্তিভেদে উপযুক্ত প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।
সূত্র: হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিকেশন্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। প্রস্রাবের বেগ ঘন ঘন হওয়া, কিন্তু অল্প পরিমাণ প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া—এসব এর সাধারণ লক্ষণ। একবার ইউটিআইয়ে আক্রান্ত হওয়া নারীদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের ছয় মাসের মধ্যে আবার সংক্রমণ দেখা দেয়। বারবার এ সংক্রমণ হলে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর জন্য নারীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবকে দায়ী করা ঠিক নয়। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের চিকিৎসাবিষয়ক প্রভাষক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কল্পনা গুপ্তের মতে, কিছু নারী স্বাভাবিকভাবেই মূত্রনালির সংক্রমণে বেশি আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা নিয়ে জন্মান। কেন বারবার সংক্রমণ হয়? মূত্রনালির সংক্রমণের প্রধান কারণ ইশেরিশিয়া কোলাই (ই-কোলাই) নামের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত অন্ত্রে বসবাস করে। মলদ্বার থেকে যোনিপথ হয়ে এই ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে প্রবেশ করলে মূত্রথলিতে সংক্রমণ ঘটতে পারে। মেনোপজের আগে যৌনমিলন এবং স্পার্মিসাইডযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যৌনমিলনের পর মূত্রথলিতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, স্পার্মিসাইড যোনিপথের উপকারী ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া কমিয়ে দিতে পারে। মেনোপজের পর যোনিপথে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। পাশাপাশি মূত্রথলির সংকোচনক্ষমতা কমে যাওয়ায় পুরোপুরি প্রস্রাব বের হতে সমস্যা হতে পারে। বংশগত কারণও এতে ভূমিকা রাখে। মা বা বোনের বারবার ইউটিআই হওয়ার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সাধারণভাবে দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্পার্মিসাইডবিহীন বিকল্প জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। শারীরিক সম্পর্কের পর প্রস্রাব করুন। মেনোপজের পর চিকিৎসকের পরামর্শে যোনিপথে ইস্ট্রোজেন থেরাপি বিবেচনা করুন। মলত্যাগের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করুন। বারবার সংক্রমণ হলে কী চিকিৎসা? বারবার ইউটিআই হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কম মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ছয় মাস বা তার বেশি সময় প্রতিদিন, কারও ক্ষেত্রে যৌনমিলনের পর এবং কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়ার ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান, শারীরিক সম্পর্কের আগে-পরে প্রস্রাব করা এবং আঁটসাঁট অন্তর্বাস ও জিনস এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাসও অনুসরণ করা যেতে পারে। এসব অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও ক্ষতিকর নয়। বারবার সংক্রমণ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যক্তিভেদে উপযুক্ত প্রতিরোধ ও চিকিৎসার পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি। সূত্র: হার্ভার্ড হেল্থ পাবলিকেশন্স
স্ট্রোক খুবই গুরুতর জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি, যা হঠাৎ করেই কারো সঙ্গে ঘটতে পারে। এ থেকে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হয়ে থাকে। এ কারণে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম উপায়। তবে হাঁটাচলা, যোগব্যায়াম থেকে শুরু করে স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের মতো নানা উপায় রয়েছে। কিন্তু এসবের মধ্যে কোনটিকে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত, না নিয়ে প্রশ্ন অনেকের। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারজাপুর রোডের মণিপাল হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. শিব কুমার জানিয়েছেন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা কায়িম পরিশ্রম না করার কারণে বয়স্কদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস এই ঝুঁকি দ্বিগুণ করে। তবে ঝুঁকি কাটাতে কিছু ব্যায়ামের গুরুত্ব জানিয়েছেন এ চিকিৎসক। হাঁটা হাঁটাকে অনেকেই কম পরিশ্রমের ব্যায়াম বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু এর গুরুত্ব অনেক বেশি। ডা. শিব কুমার হাঁটাকে অবহেলা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, হাঁটার জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না। সপ্তাহে পাঁচদিন ৩০ মিনিট করে দ্রুত গতিতে হাঁটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের টার্গেট পূরণ করে। যা সুস্থ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সহায়তা করে। স্ট্রেংথ ট্রেনিং নারীদের জন্য চিকিৎসকরা স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা পেশি মজবুত করার ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা, মেনোপজের পর তাদের পেশি ও হাড়ের দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। ডা. শিব কুমার বলেন, সপ্তাহে দুই দিন স্ট্রেংথ ট্রেনিং করা উচিত। ওজন বা রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ব্যবহার পেশি ও হাড় উভয়কে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে এবং এসব ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। যোগব্যায়াম বা ইয়োগা যোগব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা জয়েন্টের ওপর চাপ কম ফেলে এবং মানসিক চাপ দূর করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যোগব্যায়ামের সঙ্গে রক্তচাপ কিছুটা কমার সম্পর্ক রয়েছে। যা হাঁটার পরিপূরক বা সঙ্গী হিসেবে কাজ করে। তবে তা হাঁটার বিকল্প নয়। সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন ডা. শিব কুমারের পরামর্শ হলো, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন হাঁটাচলা করা, সপ্তাহের দুই দিন স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওজন তোলার ব্যায়াম করা এবং শরীরকে নমনীয় ও মনকে শান্ত রাখার জন্য সকালে বা ঘুমানোর আগে যোগব্যায়াম করা উচিত। তবে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার পরীক্ষা, লবণ কম খাওয়া, তামাক বা ধূমপান ত্যাগ করা এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের চিকিৎসায় জোর দিতে হবে।
লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু খাবারে থাকা ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট লিভারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। লিভার শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, প্রোটিন তৈরি, রক্ত পরিশোধন এবং হজমে সহায়তাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। অতিরিক্ত মদ্যপানের পাশাপাশি চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া লিভারের ক্ষতি করতে পারে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এমন পাঁচটি খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক— ১. সবুজ শাক ও সবজি পালংশাক, মেথি ও পুঁইশাকের মতো সবুজ শাকে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। ২. তৈলাক্ত মাছ সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছসহ বিভিন্ন মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রেও ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ। ৩. আখরোট আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আর্জিনিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এসব উপাদান লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। প্রতিবেদনে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৪. বিট বিটে রয়েছে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও নাইট্রেট। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেও বিটের পুষ্টি উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে। ৫. লেবু ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল লেবু, পেয়ারা ও আমলকির মতো ফলে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।