জাতীয়

নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বারোপ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৯, ২০২৬ 0

নাগরিকদের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ চাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় এ গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরকারি সেবার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেবাগ্রহীতার আস্থা ও সন্তুষ্টির ওপর। আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তখনই কার্যকর হয়, যখন নাগরিকরা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান। তিনি বলেন, এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। মাঠপর্যায়ে তারাই সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সরকারকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, এ কর্মশালার মাধ্যমে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আরও পরিষ্কার হয়েছে এবং নিজ-নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআই’র হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, এটুআই’র হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাসসহ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, কর্মশালায় চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় এলেন ইমাম-মুয়াজ্জিন, গেজেট প্রকাশ

সারাদেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রকাশিত সরকারি গেজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশ করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণে একটি নীতিমালা করার দাবি জানিয়ে আসছে। পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এই বেতন স্কেল ধার্য করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় খতিব পরিষদের সভাপতি মুফতি মাওলানা শামীম মজুমদার। তিনি এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করায় আমরা আলেম সমাজের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারকে মোবারকবাদ জানাই। আশা করছি—এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে মসজিদগুলোতে খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর হবে। জাতীয় বেতন স্কেলে মসজিদের পদমর্যাদা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের পদভিত্তিক গ্রেডগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে। গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডগুলো নিম্নরূপ সিনিয়র পেশ ইমাম: ৫ম গ্রেড পেশ ইমাম: ৬ষ্ঠ গ্রেড ইমাম: ৯ম গ্রেড মুয়াজ্জিন: প্রধান মুয়াজ্জিন ১০ম এবং সাধারণ মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড খাদিম: প্রধান খাদিম ১৫তম এবং সাধারণ খাদিম ১৬তম গ্রেড অন্যান্য কর্মী: নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ২০তম গ্রেড তবে খতিবদের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন রাখা হয়েছে। তাদের সম্মানী বা বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী। আচরণবিধি ও নৈতিক নির্দেশনা বেতন কাঠামোর পাশাপাশি মসজিদের জনবলের জন্য কিছু কঠোর আচরণবিধি যুক্ত করা হয়েছে। গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১. রাজনীতিমুক্ত থাকা: মসজিদের কোনো জনবল কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ২. ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়ন: ইমাম ও খতিবদের মুসল্লি ও এলাকাবাসীর নৈতিক মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ৩. দায়িত্ব পালনে সতর্কতা: অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ হিসেবে গণ্য হবে। বেতন কি সরকার দেবে? এই বেতন কাঠামোর প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। গেজেটের তথ্যানুযায়ী এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ সরকারি ও মডেল মসজিদ: সরকার কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত মসজিদ এবং নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কেলে বেতন পাবেন। বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদ: পাড়া-মহল্লা বা গ্রামের স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই গেজেটটি একটি ‘আদর্শ মানদণ্ড’ হিসেবে কাজ করবে। তবে এসব মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দেওয়ার মূল দায়িত্ব স্থানীয় কমিটির হাতেই থাকবে। সরকার এই কাঠামো অনুসরণে উৎসাহিত করবে। এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ নীতিমালায় খতিব ব্যতীত অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া আবাসন ব্যবস্থা, মাসিক সঞ্চয়, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা, সুনির্দিষ্ট ছুটি, নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের বাছাই কমিটি, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি, নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, এবং চাকরি বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা রহিত করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে লড়বেন ১১১ প্রার্থী, আজ প্রতীক বরাদ্দ

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে কোনো কারচুপি সুযোগ দেওয়া হবে না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে দ্রুত লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচনের আগে যত দ্রুত সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল মঙ্গলবার যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।   নিকারের বৈঠক শেষে দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব জানান, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, নির্বাচনে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সরকার সরাসরি বরাদ্দ দিলেও বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন সিসিটিভির ব্যবস্থা করবে।   ডিএমপি ভেঙে একাধিক ভাগ করার পরিকল্পনা প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নয়নের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আওতাধীন এলাকা ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ বা একাধিক অংশে ভাগ করার বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। তিনি জানান, দুটি বা একাধিক অংশে ভাগ করলে কাজের গতি বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ঢাকার আয়তন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। বৈঠকে শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে সহজ ও কার্যকর করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ডিএমপি উত্তর-দক্ষিণ করা হবে নাকি একাধিক অংশে ভাগ করা হবে। আগের মডেলে একসময় গুলশান ও মিরপুর পৌরসভা ছিল; সেই মডেল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট, আদানি চুক্তিকে দেশবিরোধী বলছে জাতীয় কমিটি

ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার ফিরিয়ে নিল ভারত

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের আগেই শাকসু দাবি রাবি শিবিরের

ছবি : সংগৃহীত
কোল্ডস্টোরেজে আলুর বস্তার ওজন ৫০ কেজির বেশি না করার দাবি শ্রমিকদের

কোল্ডস্টোরেজে আলু লোড-আনলোডের সময় বস্তার ওজন ৫০ কেজির বেশি বহন করানো যাবে না—এই একদফা দাবিতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কুলি শ্রমিকরা। হাইকোর্টের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নওহাটা পৌরসভার বায়া বাজার এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করে পবা উপজেলা লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন।   কর্মসূচির শুরুতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে স্মারকলিপি দেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। পরে ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন কুলি শ্রমিকরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সাধ্যের অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে কুলি শ্রমিকদের শারীরিক ক্ষতি ও ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনে হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করে নির্দেশ দেন—নারী শ্রমিক সর্বোচ্চ ৩০ কেজি এবং পুরুষ শ্রমিক সর্বোচ্চ ৫০ কেজির বেশি ভার বহন করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা সবার জন্য বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। মোর্তুজা অভিযোগ করেন, রুলজারি কার্যকরের পরবর্তী এক বছর কিছু কোল্ডস্টোরেজে ৫০–৫৫ কেজি পর্যন্ত আংশিকভাবে মানা হলেও বর্তমানে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজে ৭০ থেকে ৮০ কেজি ওজনের আলু বস্তা বহন করানো হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কোমরব্যথা, হাঁটু ও মেরুদণ্ডজনিত সমস্যা বেড়ে গেছে। অনেক শ্রমিক অল্প বয়সেই কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী ২০২৬ মৌসুমে আলু বস্তার ওজন ৮০ থেকে ১০০ কেজিতে বাড়ানো হবে না—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কোল্ডস্টোরেজে আলু লোড-আনলোড শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের রুলজারি বাস্তবায়নের দাবিতে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “আমরা আইন মেনে কাজ করতে চাই। আইন অনুযায়ী ৫০ কেজির বেশি বহন না করাই আমাদের একমাত্র দাবি।” মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, কুলি শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। তারা বলেন, আইন থাকলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ সময় ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত ওজন বহন করানো শ্রম আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শ্রমিকরা বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন। কুলি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—২০২৬ মৌসুমের আগেই হাইকোর্টের রুলজারি অনুযায়ী কোল্ডস্টোরেজে আলু বস্তার ওজন সর্বোচ্চ ৫০ কেজি নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ও লোড-আনলোড কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শীতকালীন ক্রীড়ায় ক্রিকেট-অ্যাথলেটিক্সে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের প্রতিভার প্রদর্শনী

আগামীকাল ৮ জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ চালুকরণ উদ্বোধন

‘হ্যাঁ’ ভোটের সুফল জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

0 Comments