নাগরিক সেবা জোরদার করতে সব দপ্তর ও সংস্থা সমূহের সঙ্গে জোরালো সমন্বয় চায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)।
আজ মঙ্গলবার রাসিক কনফারেন্স হলে রাসিক এলাকার অভ্যন্তরীণ বিভাগগুলোর প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ও রাসিক প্রশাসক ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ।
সভায় চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প, যানজট নিরসন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান তুহিনুর আলম, রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার ফয়সাল আলম।
ড. বজলুর রশীদ টেকসই উন্নয়নের জন্য আরসিসি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আহ্বান জানান।
সিটি কর্পোরেশনকে একটি সেবামুখী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসিক নাগরিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতাও করে আসছে।
যানজট নিরসনের জন্য অবৈধ যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রসারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বক্তব্যে আরএমপি কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শহরকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আরডিএ চেয়ারম্যান তুহিনুর আলম বলেন, ঢাকা বাস টার্মিনালকে নওদাপাড়া টার্মিনালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যমান যানজট অনেকাংশে কমে যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অবৈধভাবে মানবপাচারের দায়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড’ এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটিশ সরকার। এই প্রথম যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে কোনো বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। যুক্তরাজ্যের ‘বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার নিষেধাজ্ঞা বিধিমালা ২০২৫’ এর অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দিয়ে তাদের ভয়াবহ শোষণের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, ‘ড্রিম হোম ট্রাভেলস’ রাশিয়ার সেবা খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেন। কিন্তু সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকেরা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর চিত্র বদলে যায়। তাদের জোরপূর্বক ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান আগ্রাসী যুদ্ধের সম্মুখ সমরে লড়াই করতে বাধ্য করা হতো। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা যাবতীয় সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের মাধ্যমে যারা মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অভিবাসীদের যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহারের যে অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠছিল, এই নিষেধাজ্ঞা সেই সত্যতাকেই আরও জোরালো করলো।
ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে নামছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন না চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব মালিক ও ড্রাইভারদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরপরও ইকোনমিক লাইফ উত্তীর্ণ যানবাহন, বিশেষ করে লক্কড়-ঝক্কর, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী যানবাহন চালালে তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই জরিমানা, ডাম্পিংসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এ ব্যাপারে যানবাহন মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, চালক ও জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু লক্কড়-ঝক্কর, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী বাস এবং পণ্য পরিবাহী যানবাহন ঢাকা মহানগরে চলাচল করছে। এ ধরনের যানবাহন প্রায়ই রাস্তা, ফ্লাইওভার, সেতুর ওপর বিকল হয়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি করে। যার ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে এবং সড়ক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এমন অবস্থায় জনসাধারণের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মহানগর এলাকায় ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত, লক্কড়-ঝক্কর, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী সব ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ অন্যান্য মালবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণ করে বিআরটিএ কর্তৃক ২০২৩ সালের গত ১৭ মে প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, যদি কেউ ঢাকা মহানগর এলাকায় ইকোনমিক লাইফ উত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী যানবাহন চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা (জরিমানা, যানবাহন ডাম্পিংয়ে প্রেরণ ইত্যাদি) এবং বিশেষ অভিযান (স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে) পরিচালনা করা হবে। এ ধরনের যানবাহন মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, চালক ও জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
তৈরি পোশাক রপ্তানির আড়ালে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৮২১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত ও উপসহকারী পরিচালক খাইরুল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত টিম অভিযোগটি অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। পোশাক খাতের এই ১৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ ২৫টি দেশে অর্থ পাচার করতে ভুয়া রপ্তানি নথি ব্যবহারের অভিযোগ আছে। আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে তারা অর্থ পাচার করেছে দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগটির অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চেয়ে গত ৩০ এপ্রিল সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াতের সই করা চিঠি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওইসব তথ্য সরবরাহের কথা বলা হয়েছে আগামী ১২ মে’র মধ্যে। দুদকের চিঠিতে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো-১৪টি প্রতিষ্ঠানের বন্ডেট ওয়্যারহাউসের বন্ড সুবিধার আওতায় ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কী কী পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হয়েছে এর বিল অব এক্সপোর্ট, বিল অব এন্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র। ১৪টি প্রতিষ্ঠানের বন্ডেট ওয়্যার হাউসের প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড ও লাইসেন্স সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র। এছাড়া ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কাস্টমস বন্ড পরিচালিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ওইসব রেকর্ডপত্র সরবরাহ করা না হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ১৯(৩) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।