ইউরোপ সফরে যাওয়ার পথে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে ভারত–আমিরাত সম্পর্কের গভীরতর রূপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে নয়াদিল্লি ও আবুধাবির সম্পর্ক শুধু জ্বালানি বাণিজ্য বা প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশ নিয়মিত সমন্বয় করছে। আমিরাতে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীরাও শুধু শ্রমবাজারের অংশ নয়; তারা দেশটির অর্থনীতি ও ভারতের রেমিট্যান্স প্রবাহ—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
একসময় প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সম্পর্ক মূলত ক্রয়-বিক্রয় নির্ভর ছিল। তবে গত এক দশকে সেই চিত্র বদলে গেছে। বর্তমানে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটির মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় হচ্ছে।
২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ভারত–আমিরাত প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা ফোরাম যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফরে একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে অভিপ্রায়পত্র সই হয়।
ভারত ও আমিরাতের অর্থনৈতিক সম্পর্কও দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্যে বড় গতি এনে দেয়। সত্তরের দশকে যেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৮ কোটি ডলার, সেখানে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা ১০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। একই সঙ্গে ভারতও আমিরাতের শীর্ষ বাণিজ্য সহযোগীদের একটি।
পেট্রোলিয়াম, রত্ন ও অলংকার, বস্ত্র, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক ও প্রকৌশল পণ্যসহ নানা খাতে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ছে। উভয় দেশ ২০৩২ সালের মধ্যে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
ভারতে আমিরাতের বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশটি ভারতে প্রায় ২২.৮৪ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ করেছে। আবাসন, জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা ও বিনিয়োগ তহবিল—বিভিন্ন খাতে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।
আমিরাতের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটিও ভারতের গুজরাটের গিফট সিটিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে বহু ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আমিরাতের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করেছে, যেখানে নির্মাণসামগ্রী, বস্ত্র, প্রকৌশল পণ্য ও ভোক্তা ইলেকট্রনিকস উৎপাদিত হচ্ছে।
সম্প্রতি দুই দেশ উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সুপারকম্পিউটিং, মহাকাশ গবেষণা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উভয় দেশ যৌথভাবে একটি শক্তিশালী এআইভিত্তিক সুপারকম্পিউটার তৈরির পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার জন্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজও এগোচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ করতে ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই) আমিরাতের আর্থিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় রূপান্তরের পথে থাকা আমিরাত এবং অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত অংশীদার খুঁজতে থাকা ভারতের স্বার্থ এখন অনেক ক্ষেত্রেই এক হয়ে যাচ্ছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি ও কৌশলগত জোটে রূপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও উপসাগর ও লোহিত সাগরে জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, পরিস্থিতি আবারও শান্তি বা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। তাঁর ভাষায়, গত দুই তিন দিনের সংকেত বলছে, তারা কোনো ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। একই সময়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরানের আলোচনা এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সমঝোতার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনো অনেক বেশি। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে তারা চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, শুধু এই চুক্তি হলেই প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামরিক হুমকি বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণসহ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নতুন করে ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করায় সমঝোতার পথ আবারও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, গত ৫০ বছরে ইরানের কর্মকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানকে অর্থ দিতে হবে। এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইরান সমর্থিত হুতিদের সন্দেহভাজন হামলায় একটি ছোট কার্গো জাহাজের চার ক্রু নিহত হয়েছেন বলে ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। মিসরীয় মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ জাহাজে হামলার দায় অবশ্য হুতিরা স্বীকার করেনি। অন্যদিকে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরে একটি কনটেইনার জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকরের সময় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। মার্কিন জনমত জরিপে যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা ওয়াশিংটনের ওপর দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর চাপ আরও বাড়িয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা। মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে যৌথভাবে দায়ের করা এই মামলায় সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে, আইসিসি এবং তাদের কাজকে সমর্থনকারীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা মূলত আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ওপর এক চরম বেআইনি হামলা। মামলাটি দায়ের করেছে আমেরিকার ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটি, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ওপেন সোসাইটি ইনস্টিটিউট। যৌথ রিট পিটিশনে সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে যে, এটি ক্ষমতার একটি সম্পূর্ণ বেআইনি অপব্যবহার, যা আইনের শাসন, বিচারক, প্রসিকিউটর ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি এবং বিচারের সমান অধিকারের নীতির ওপর এক সরাসরি আঘাত। এই ধরনের পদক্ষেপের চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার সক্ষমতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূলত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়েছে। ওই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আইসিসি কর্মকর্তা, বিচারক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, বিশ্বে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পরিচালিত ১৮টি বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের মধ্যে ফিলিস্তিন পরিস্থিতি অন্যতম। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র ছিল না এবং দীর্ঘদিন ধরেই আদালতটির বিভিন্ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে, তবে এই বিরোধ চরম রূপ নেয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। সে সময় গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এই পরোয়ানা জারির পরপরই মার্কিন প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর, বিচারক, ফিলিস্তিনের তিনটি শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর কঠোর আর্থিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আনাদোলু এজেন্সি
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে সম্ভাব্য হুথি হামলার আশঙ্কায় নিজেদের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ভারত। মোতায়েন করা জাহাজ দুটি হলো আইএনএস ত্রিশূল ও আইএনএস আদিত্য। ভারতের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ৯ ও ১০ আগস্ট এই দুই যুদ্ধজাহাজের নিরাপত্তা বলয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করেছে ভারতীয় ট্যাংকার এমটি কম্পাস ও এমটি থালাতা। নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। গত ২০ জুলাই ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে বাব এল-মান্দেব এলাকায় অবরোধের ঘোষণা দেয়। এরপর ৪ আগস্ট প্রণালির কাছে ড্রোন হামলায় ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এসএমভি ফাইজ নুরে ওলিয়া ডুবে যায়। জাহাজটির ১৪ জন ক্রুর মধ্যে ১৩ জন ছিলেন ভারতীয়। তবে সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর বাব এল-মান্দেব ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালমুখী নৌপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।