সারাদেশ

মিয়ানমারে পাচারের পথে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, আটক ১২

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারে পাচারকালে ছয় হাজার লিটার ডিজেলসহ ১২ ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শনিবার সকালে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা চট্টগ্রামের একটি দল বঙ্গোপসাগরের বহিনোঙ্গর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও ডিজেল উদ্ধার করে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহজনক একটি বোটে তল্লাশি চালনো হয়। এসময় অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৬ হাজার লিটার ডিজেল, নগদ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৪ জন বাঙালি  এবং ৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। জব্দকৃত ডিজেল, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।

সূত্র জানান, এছাড়াও এই বোট ব্যবহার করে মানবপাচারকারীরা আনুমানিক ১৫০-২০০ জনকে মালয়েশিয়া পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানের কারণে এই অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হামের রোগী বাড়ায় ভর্তি বন্ধ শিশু হাসপাতাল ও আজিমপুর মাতৃসদনে

হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থান সংকটে এমন উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের ভর্তি নিতে পারছে না রাজধানীর দুই হাসপাতাল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে গত কয়েকদিনে হামের লক্ষণ নিয়ে আসা শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।   তবে রোগীদের স্বজনরা বলছেন, অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে ভর্তি করাতে না পেরে তারা পেরেশান। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দিলেও তারা সরছেন না। সিট না থাকলেও মেঝেতে থাকার শর্তেও হাসপাতালে থাকছেন তারা। আজিমপুর মাতৃসদনে মূলত প্রসূতিদের সেবা দেওয়া হলেও অনেকটা বাধ্য হয়ে হাম আক্রান্ত রোগী রাখতে হচ্ছে। ছয়জন শিশুর জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো রোগী নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।   অপরদিকে মিরপুর রোডের বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের সবগুলো বিভাগই শিশু চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চিকিৎসা সেবার মধ্যে বেশির ভাগ হামের রোগীকে ভর্তি করা হলে অন্য শিশুরা বড় ধরনের শঙ্কায় পড়বেন।   এই হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৫৪টি সিট নিয়ে আলাদা একটি ওয়ার্ড করলেও সেখানে ভর্তি আছে ৬৪ জন রোগী। এর বাইরে আর কোনো রোগী নিচ্ছেন না তারা। এমনকি গত দুই দিনে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী আশপাশের হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়ার কথাও বলেছে কর্তৃপক্ষ। আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে দেড় বছর বয়সি মেয়ে ফাতিমা ইসলাম আদিবাকে নিয়ে গত রোববার ভর্তি হয়েছেন তার মা মনি আক্তার। মনি আক্তার বলেন, মিরপুর থেকে এখানে আসছি। অন্য হাসপাতালে যাওয়ার সিট পাই নাই। পরে একজন কইলো- এখানে পাব। এখানে এসেও দেখি খারাপ অবস্থা। অনেক কাকুতি মিনতি করে ভর্তি হয়েছি। পাঁচ দিন পরে এখন শরীর কিছুটা ভালো। জ্বর আসে, আবার ওষুধ দিলে ভালো হয়ে যায়।   শরীয়তপুর থেকে ১৪ মাসের ছোট ছেলে মো. হাসানকে নিয়ে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালে এসেছেন সালমা আক্তার। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলেরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাইছি। হাসানের বাবা বিদেশে থাকে, ছেলেটার জ্বর ঠান্ডা অনেক বেশি হওয়ার পরে চার দিন অপেক্ষা করেছি। শরীরে হামের অবস্থা দেখে সরাসরি এখানে আসছি। আমি তো এই হাসপাতাল ছাড়া আর কিছু চিনি না। তাই ডাক্তারদের অনেক অনুরোধের পর ভর্তি করেছে। এখন ছেলেটা সুস্থ হচ্ছে।   এ হাসপাতালের পরিচালক রাশিদুল আলম বলেন, আমাদের এখানকার চিকিৎসাতো মূলত প্রসূতিদের এবং নবজাতকদের সেবা দেওয়া। তারপরও শিশু বিভাগ থাকার কারণে শিশু চিকিৎসাও দেওয়া হয়। অনেকে এখানে আসেন, বলতে গেলে বাধ্য হয়েই আমরা ছয়টা সিট দিয়ে একটা ওয়ার্ড চালু করেছি। এর বাইরে আর কোনো রোগী নিচি না।   শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ঢাকার শিশু হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছেন।   রোগীর প্রচণ্ড চাপ থাকলেও এখানে ভর্তি নিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আউটডোর সেবা দিলেও ভর্তির জন্য পরামর্শ দিচ্ছে ঢাকার অন্য হাসপাতালে যাওয়ার।   গাজীপুরের একজন পোশাক কারখানার কর্মীর স্ত্রী মঞ্জিলা আক্তার চার দিন আগে ৮ মাসের বাচ্চা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ঢাকার শিশু হাসপাতালে। তিনি বলেন, সরকারী হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। এখানে নিয়ে আসছি, প্রথমে ডাক্তাররা বলছে, সিট নাই। পরে অকেক্ষণ বসে থেকে হাতে পায়ে ধরে এখানে ভর্তি হয়েছি। এখন ছেলেটার শরীর কিছুটা ভালো।   একই কথা বলেন গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আসা এক মাদ্রাসা শিক্ষকের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, আজকে ১২ দিন হইলো ভর্তি হইছি, ৭ মাসের মেয়েটার শরীর অনেক খারাপ হয়ে গেছিল। প্রথম দিকে আইসাও ভর্তি হইতে কষ্ট হইছে। এখন কিছুটা ভালো।   হাসপাতালের পরিচালক মো. মাহবুবুল হক বলেন, এখানে নিচতলায় ২ নম্বর ওয়ার্ড পুরোটা হামের জন্য দিয়েছি। সেখানে ৫৪টি সিট আছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৬৪ রোগী ভর্তি আছে। আর কোনো রোগী নিচ্ছি না, ভর্তি নেওয়ার সুযোগও নাই। এ পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে ১৭২ শিশুর হামের চিকিৎসা হয়েছে।   ভর্তি না হতে পেরে আর্তনাদ হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসককে দেখাতে পেরেছেন তারা। চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দিলেও ভর্তি হতে না পেরে শিশুদের মায়েদের অনেককে আর্তনাদ করতে দেখা গেছে শিশু হাসপাতালে।   সেখানে ৯ মাসের শিশুকে নিয়ে আসা টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের বাসিন্দা রিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল থেকে বলছে এখানে আসতে। এখানে ডাক্তার দেখে বললো ঢাকা মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দী বা অন্য কোনো জায়গায় যেতে। কই যামু, ৯ মাসের মেয়েটার অবস্থা ভালো না স্যার। একটু বলে দেখেন ভর্তি করে কি না।   এক বছরের ছেলেকে নিয়ে কাঁদতে দেখা যায় মানিকগঞ্জ থেকে শামীম ইসলামের স্ত্রী আসমা আক্তারকে। তিনি বলেন, এখান থেকে তো না করে দিছে, এখন কই যামু। কামালের বাপতো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গেছে ওইখানে সিট আছে কি না দেখতে। আমরা গরীব মানুষ, আর কই যামু।   এক শিশু থেকে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছে দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বাড়ার পেছনে এক শিশুর মাধ্যমে অন্য শিশুর আক্রান্ত হওয়ার কথা বলেছেন আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক সুমনা খন্দকার শিমু।   তিনি বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার ওপরও নির্ভর করে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে এখন জ্বরে আক্রান্ত কোনো শিশু স্কুলে নেওয়া উচিৎ না। এ ক্ষেত্রে যারা টিকা নিয়েছে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। কারণ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর।   শিশু হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, হাম প্রতিরোধে প্রথমে দরকার সচেতনতা বাড়ানো। প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক স্কুল বন্ধ করে দেওয়া দরকার ছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিটি গণমাধ্যমকে সংবাদের ফ্যাক্ট চেক নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

কারখানায় আগুনের পুনরাবৃত্তি, প্রশাসন আগেই বন্ধ করেছিল

ছবি : সংগৃহীত

‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যারা কাজ করছেন তারা সদকায়ে জারিয়া পাবেন

ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমারে পাচারের পথে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, আটক ১২

মিয়ানমারে পাচারকালে ছয় হাজার লিটার ডিজেলসহ ১২ ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শনিবার সকালে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা চট্টগ্রামের একটি দল বঙ্গোপসাগরের বহিনোঙ্গর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও ডিজেল উদ্ধার করে। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোস্ট গার্ড সূত্র জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহজনক একটি বোটে তল্লাশি চালনো হয়। এসময় অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ৬ হাজার লিটার ডিজেল, নগদ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৪ জন বাঙালি  এবং ৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। জব্দকৃত ডিজেল, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। সূত্র জানান, এছাড়াও এই বোট ব্যবহার করে মানবপাচারকারীরা আনুমানিক ১৫০-২০০ জনকে মালয়েশিয়া পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানের কারণে এই অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান প্রকাশ বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। ছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে

শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের প্রধান সহযোগী সন্ত্রাসী ‘গলাকাটা’ বাচা গ্রেপ্তার

নিহত ১৩ শিক্ষার্থী

২৩ দিনে ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্যাসলাইট কারখানায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। ছবি: ফায়ার সার্ভিসের সৌজন্যে

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন, ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত
চাঁদপুরে ৩৫০ লিটার ডিজেল জব্দ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করা ৩৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। ডিজেল মজুতের দায়ে মো. হাসান (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযান শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর নওগাঁও ঢালি মার্কেট এলাকায় পরিচালনা করা হয়।   তদন্তে জানা যায়, দোকানটির ভেতরে কয়েকটি প্লাস্টিকের ড্রামে ডিজেল সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে অবৈধ মজুত রোধে সারাদেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ওই দোকানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল ডিজেল উদ্ধার করা হয় এবং দোকান মালিককে আটক করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, “যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে চায়, তারা প্রকৃত ব্যবসায়ী নয়। এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নারী ইউএনওর অডিও ভাইরাল

ছবি : সংগৃহীত

‘তেল নেই’ লেখা ফিলিং স্টেশনে, ট্যাংকি থেকে মিলল অকটেন ও ডিজেল

ফাইল ছবি

সেন্টমার্টিনের আকাশে দেখা মিলল ভিনদেশি ড্রোন

0 Comments