অন্যান্য

নন-স্টিক প্যান কতটা ক্ষতিকর, বিকল্প কী হতে পারে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রান্নার জন্য ননস্টিক প্যান অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে ননস্টিক প্যান ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। ননস্টিক প্যান কীভাবে ব্যবহার করা উচিত এবং এর বিকল্প হিসেবে কী ব্যবহার করা যেতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নিন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদের কাছ থেকে।

নন-স্টিক প্যান কতটা ক্ষতিকর

ডা. হাসান মোস্তফা বলেন, আমরা রান্নার জন্য বিভিন্ন ধরনের পাত্র বা প্যান ব্যবহার করি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের হলো ননস্টিক পাত্র। কারণ এগুলো সহজেই পরিষ্কার করা যায় এবং রান্নায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম তেল খরচ হয়।

ননস্টিক প্যানের ওপর একটি প্রলেপ থাকে যা খাবারকে প্যানে আটকে রাখে না। এতে সাধারণত পলিটেট্রাফ্লুরোথাইলিন (পিটিএফই) দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়, যা টেফলন নামেও পরিচিত। এ কারণেই ননস্টিক পাত্র তেল ও পানিরোধী হয়ে ওঠে।

পিটিএফই একটি সিনথেটিক রাসায়নিক, যা সহজে ক্ষয় হয় না এবং উপাদানটি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। উচ্চতাপে পিটিএফই খাবারের সঙ্গে মিশে যায় যা মানবদেহে থাইরয়েড হরমোনজনিত রোগ, বন্ধ্যাত্ব, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও লিভারের দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী ক্ষতি, এমনকি ক্যানসারেরও কারণ হতে পারে।

তারপরও পিটিএফই যুক্ত প্যানে রান্নার বাড়তি কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো। যেমন-

১. প্যানটি খালি থাকা অবস্থায় গরম করবেন না।

২. প্যানে অত্যাধিক তাপ সৃষ্টি করবেন না।

৩. প্যানের ননস্টিক প্রলেপ ক্ষয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে প্যানটি আর ব্যবহার করবেন না।

৪.  শক্ত মাজুনি দিয়ে প্যান পরিষ্কার করবেন না। এতে প্রলেপটি সহজে নষ্ট হয়ে যায়।

ডা. হাসান মোস্তফা বলেন, পিটিএফইযুক্ত প্যান থেকে সৃষ্ট সমস্যার কারণে বাজারে নতুন কিছু পলিটেট্রাফ্লুরোথাইলিন মুক্ত বা পিটিএফইমুক্ত প্যান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলো পিটিএফই প্যানের মতোই সহজে পরিষ্কার করা যায় এবং তেল ও পানিরোধী হয়ে থাকে অর্থাৎ ননস্টিক প্যানের সকল গুণই থাকে কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যবহার উপযোগী, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব।

এসব প্যানের প্রধান সুবিধা হলো, এতে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে না। এর মধ্যে সিরামিক ফ্রাইং প্যান, কাস্ট আয়রন ফ্রাইং প্যান এবং কার্বন স্টিল ফ্রাইং প্যান ইদানিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্যানগুলো সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরের ক্ষতি করে না বা পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

এছাড়া আমাদের বাসায় সাধারণত যে স্টেইনলেস স্টিলের ফ্রাইং প্যান ব্যবহার করা হয়, তাও উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য বেশ উপযোগী এবং স্বাস্থ্যকর।

তাই ফ্রাইং প্যান কেনার সময় যা দেখা দরকার তা হলো, প্যানটিতে প্রাকৃতিক নন-স্টিক আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং তা স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কি না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় সরকার বড় উদ্যোগ, স্থাপন হচ্ছে ১৭০ ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’

’ নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের বিভিন্ন শহরে স্থাপন করা হচ্ছে ১৭০টি ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’, যা শহরের সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব স্বাস্থ্য নীড়ে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ নানা সেবা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের নগরবাসী যাতে সহজে ও স্বল্প খরচে চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নগর এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বিবেচনায় এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এতে করে বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই অনেক রোগের চিকিৎসা সম্ভব হবে।   সরকার আশা করছে, ‘নগর স্বাস্থ্য নীড়’ চালু হলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে, দ্রুত বাস্তবায়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জবিতে ‘ভাইস চ্যান্সেলরস গবেষণা’ পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন অধ্যাপক জাহান কবীর

ছবি : সংগৃহীত

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে হলে ছাত্রী রাখার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরে ঠোঁট ও তালু কাঁটা অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ইবাদতখানা’, অসৎ কাজের স্থান নেই : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারলে তা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচিত হবে। আজ দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে এবং এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসততা গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইবাদতখানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জায়গায় অসৎ কাজের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে। নকল প্রতিরোধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকেই প্রথম নকলবিরোধী কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং সে সময় অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারো নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষকদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সবসময় সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে। তবে, শিক্ষায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দায়িত্ব পালনকালে কোনো শিক্ষক আহত হলে অতীতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষা অন্যসব খাতের মতো নয়, এটি জাতি গঠনের প্রধান মাধ্যম। এখানে দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই। নকল বন্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, আমরা কোনোভাবেই পরীক্ষায় নকল দেখতে চাই না। সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৫ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামসুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মো. নূরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হচ্ছে জাতীয় সীরাত প্রতিযোগিতা

ছবি: সংগৃহীত

নন-স্টিক প্যান কতটা ক্ষতিকর, বিকল্প কী হতে পারে

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক

পরীক্ষায় নকল বন্ধ করেই ছাড়ব: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার আলটিমেটাম

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণে সরকারকে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বেঁধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। লিখিত বক্তব্যে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শরিফুল হাসান শুভ বলেন, ‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘ সেশনজট এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। ফলে তারা সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের কাছে বৈষম্যমূলক বলে মনে হচ্ছে।’ শুভ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ ৩৭ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করার দাবি জানাই। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বয়সসীমা কমপক্ষে ৩৫ বছর নির্ধারণের দাবি জানাই।’ তিনি বলেন, গত প্রায় ১৪ বছর ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আশ্বাস মিললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। শুভ আরও বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি নীতিগতভাবে বয়সসীমা ৩৫ বছর করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০৪, ২০২৬ 0
ওমরাহ পালন শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সংস্কার প্রশ্নে ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলকে মাঠে চান নাহিদ

ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে | ছবি : সংগৃহীত

তরমুজের বীজ গিলে ফেললে কী হয়? জানুন সত্যটা

স্বাস্থ্যের দিক থেকে কোন চাল বেশি উপকারী, এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না অনেকেই | ছবি : সংগৃহীত

মোটা চাল না চিকন চাল—স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা সেরা?

0 Comments