সারাদেশ

ময়মনসিংহে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় এ আদেশ জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম।

 

জারিকৃত আদেশে জানা যায়, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুজ্জামান রিয়াদ সরকারের ওপর হামলার প্রতিবাদে একই সময় ও একই স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপ পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনসাধারণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান বা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

আদেশে আরও বলা হয়, নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
সিংড়ায় পুকুরে বিষ, ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

নাটোরের সিংড়ায় দুটি পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের লালুয়া পাঁচপাখিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষি জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার এক একর আয়তনের দুটি পুকুরে পাবদা ও গুলশা মাছ চাষ করা হয়েছিল। দু-এক দিনের মধ্যেই মাছ বাজারে বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু সকালে গিয়ে দেখা যায় সব মাছ মরে ভেসে আছে। পরিকল্পিতভাবে বিষ দিয়ে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর দুলাভাই ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ গ্রামের বাসিন্দা সাইফ মাহমুদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম আমার আপন শ্যালক। তার এই বিশাল ক্ষতি দেখে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই। অনেক কষ্ট আর স্বপ্ন নিয়ে সে এই মাছ চাষ করেছিল। আমরা পৈশাচিক ঘটনার বিচার চাই।’ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।  এ বিষয়ে সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড : ১৩ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ডিএপি সার কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা, দুশ্চিন্তায় কৃষিখাত

ছবি : সংগৃহীত
গ্যাস সংকটে থেমে গেল ডিএপি সার কারখানার চাকা

অ্যামোনিয়ার তীব্র সংকটে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কারখানাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়।   এর ফলে চট্টগ্রামে অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া তৃতীয় সার কারখানার তালিকায় যুক্ত হলো ডিএপি। এর আগে গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।   ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মাঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকেই কারখানায় নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আগের মজুত থাকা অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে সেই মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।   তিনি বলেন, “যখনই অ্যামোনিয়া সরবরাহ পাওয়া যাবে, তখনই পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে।”   শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) পরিচালিত এই ডিএপি কারখানাটি দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের চাহিদা পূরণে এটি অন্যতম প্রধান উৎস।   সরকার কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে কারখানাটি স্থাপন করে। ২০০৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া এ কারখানার দুটি ইউনিটের প্রতিটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন।   ডিএপি কারখানার নিজস্ব অ্যামোনিয়া উৎপাদন ব্যবস্থা না থাকায় পাশের সিইউএফএল ও কাফকো থেকে সরবরাহকৃত অ্যামোনিয়ার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ওই দুই কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপি কারখানাও ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে।   প্রায় দেড় মাস মজুত থাকা অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষি মৌসুমে সার সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে কৃষক পর্যায়ে সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা ও সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়তে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, কারাগারে ৯ জেলে

ছবি : সংগৃহীত

আজ টানা ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি: সংগৃহীত

ডিবির ওসি আরিফের বর্বরতা

সংগৃহীত ছবি
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় শিশু নিশাতকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর ছয় বছর বয়সী স্কুলছাত্রী নিশাত জাহানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া প্রতিবেশী অটোরিকশাচালক ইসহাক মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নিশাত জাহান সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে চিপস কিনতে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল নিশাত। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি স্থানে বস্তার ভেতর তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা কাপড় দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন। পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন দুপুরে মোহনপুর গ্রামের একটি স্কুলের সামনে শিশু নিশাতের সঙ্গে ইসহাকের দেখা হয়। পরে ঘুরানোর কথা বলে নিশাতকে নিয়ে সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকার একটি পার্কে যায় সে। সারা দিন ঘুরে রাত ১০টার দিকে নিশাতকে নিয়ে গ্রামে ফিরে ইসহাক। নিয়ে যায় নিজ বাড়িতে। ওই দিন বাড়িতে ইসহাক একাই ছিল। তার স্ত্রী-সন্তান ছিল শ্বশুরবাড়িতে। তার উদ্দেশ্য ছিল রাতে নিশাতের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এক পর্যায়ে নিশাতের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলে বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বলে দেবে বলে জানায় সে। এতে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে ইসহাক তার গেঞ্জি দিয়ে নিশাতের মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে একদিন ঘরে রেখে পরে বাড়ির পাশের একটি স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রথমে নিজেকে এলাকায় না থাকার দাবি করলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সে ঘটনাস্থলের আশপাশেই ছিল। এতে সন্দেহ ঘনীভূত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। শনিবার দুপুরে পুলিশ অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সচীন চাকমা বলেন, ‘সাধারণত হত্যা করে কেউ দূরে লাশ এনে ফেলবে না। সেই ধারণা থেকেই সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী অটোরিকশাচালক ইসহাককে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তবে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাকে তার এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। তার এই মিথ্যা কথার কারণে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে মুখ খুলে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু সন্দেহভাজন বললেই হয় না। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অনেক কাজ করতে হয়। এরই আলোকে তার বাসায় গিয়ে শ্বাসরোধ করার কাজে ব্যবহৃত গেঞ্জিটি উদ্ধার করি। এরপর যে পার্কে ঘুরতে যায় সেখানেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলিয়ে আপাতত মনে হচ্ছে সে একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপরও যদি কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

টেলিগ্রামে পরিচয়ের ফাঁদ, কোটিপতির প্রলোভনে সংঘবদ্ধ ছিনতাই

ছবি : সংগৃহীত

নোয়াখালীতে ১৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেলসহ আটক ৪

ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ ১১ বিদ্যুৎকেন্দ্র

0 Comments