সারাদেশ

মার্কেটের পজিশন নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পাবনায় নবনির্মিত মার্কেটের পজিশন নিয়ে দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী ও ব্যবসায়ীদের এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার টেবুনিয়া বাজার মসজিদের সামনে মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম।

আহতরা হলেন- ব্যবসায়ীদের মধ্যে মো. রোকন (৩৭), মোবিন উদ্দিন (৪৫), সজিবুল ইসলাম মাহিম (১৭), ওসমান গনী ( ৫৫), মো. মারুফ হাসান জয় (২৪), মো. রানা (৩৫)। এসময় চেয়ারম্যান সমর্থিত রানা (৪০), সাইফুল ইসলাম (২২), শফি( ৪০) ও মোহাম্মাদ আলী (৪৫) আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা জানান, টেবুনিয়া বাজার জামে মসজিদের সামনে পুরাতন মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে মার্কেট নির্মাণ করছেন চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী। নবনির্মিত মার্কেটের নকশা প্রকাশ না করা, পজিশন ক্রেতা ও পূর্বের ঘর মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং কৌশলে পজিশন কমিয়ে অবৈধ পন্থায় বিক্রির অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনার সুরাহা চেয়ে উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। এর জেরে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসনের একটি দল মার্কেট এলাকায় তদন্তে যান। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা ফেরার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

সৈয়দ মুন্তাজ আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ সবসময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইউপি মার্কেট স্থানীয় সরকারের নিয়মনীতি অনুসরণ করেই করা হচ্ছে। যারা পজিশন কিনেছেন আর যারা পুরোনো মার্কেটের মালিক, তাদেরকে সরেজমিন ও বাস্তবতার আলোকে পজিশন বুঝে দেয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।

পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাহবীহা বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পজিশন দেয়া হচ্ছে না সহ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনে ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে আজ একটি টিম তদন্ত শেষে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর দুই গ্রুপ সংঘর্ষ জড়ায় বলে জেনেছি। এটি করা উচিত হয়নি। পজিশন নিয়ে অভিযোগের সুরাহা করতে উভয়পক্ষকে নিয়ে আবার বসা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
টেকনাফে বাড়ছে হাম-ডেঙ্গু, আগস্টেই হাম আক্রান্ত ৭৬৬

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা-সহ নানা উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।   টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের ভিড়। অনেক অভিভাবক অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। এর মধ্যে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া রোগীও রয়েছেন।   রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও অনেক রোগী দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন না। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো সম্ভব হতো।   মো. ইসমাইল নামে পাঁচ রোগীর অভিভাবক বলেন, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তারা হলেন, মো. হাসান, উম্মে সালমা, শাহিন, রিফা ও ইমন।   তিনি বলেন, পরিবারের পাঁচজন একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ায় আমি খুব চিন্তায় আছি। সঠিকভাবে চিকিৎসা পেলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করছি। চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হওয়া দরকার।   তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগে চিকিৎসাসেবায় অবহেলার কথা অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।   সিনিয়র নার্স মৌসুমি আক্তার বলেন, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারজন, কখনো পাঁচজন পর্যন্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা নেই বলেও জানান তিনি।   টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত উপজেলায় ৭৬৬ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তারা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ জন রোগীকে কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে।   তবে এখন পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগ নিয়ন্ত্রণ মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, হাম ও ডেঙ্গু দুটিই ভাইরাসজনিত রোগ। এগুলো সহজেই একজনের কাছ থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের মধ্যে হাম বেশি দেখা যায়। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   তিনি বলেন, হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশি জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়া। শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মারাত্মক ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।   চিকিৎসকের পরামর্শ, কোনো শিশুর বেশি জ্বর, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা দেয়া গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।   এদিকে স্থানীয়দের দাবি, হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।   উখিয়া-টেকনাফ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, হাসপাতালের ডাক্তারদের নিয়ে আমি বসব। হাসপাতাল অপরিষ্কার কেন থাকবে? স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বসে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। হাসপাতালে অনেক স্টাফ ও ডাক্তার নেই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে বসে টেকনাফের মানুষ যেন সুন্দর স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে ব্যবস্থা করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২২, ২০২৬

কর্ণফুলীর তীরে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে হবে পর্যটন জোন

দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা

ছবি: সংগৃহীত

৩ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী সাইফি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

খুলনার লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকায় আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাইফি নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ এ তথ্য জানান।   র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাইফির অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি শটগান, একটি রিভলভার, শটগানের এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাবের তথ্যমতে, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় লবণচরার আশিবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় দুই যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংস ওই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই সাইফি আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব। এরপর গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাইফির সম্পৃক্ততা যাচাইসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার সাইফির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শামীম কায়সার

ছবি: সংগৃহীত

রাকসুর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিক্ষোভে ছাত্রদল

ছবি: সংগৃহীত

এক বছরে ১০ লাখ নতুন গ্রাহক পেল জনতা ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
উত্তরাঞ্চলের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র হতে পারে পাবনার মোবারকপুর, খননকাজ শুরু হবে কবে

দেশে সফলভাবে খনন করা গ্যাসকূপগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। এবার উত্তরাঞ্চলেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার।   এ লক্ষ্যে পাবনার মোবারকপুরে নতুন করে কূপ খননে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।   এর আগে সেখানে কূপ খননের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এবার প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সফলভাবে কূপ খননে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার পরিচালিত ভূকম্পন জরিপের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে মোবারকপুরে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। সফল হলে এটিই হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র।   বর্তমানে পাবনার সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ৬ একর জমিতে প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। তবে মূল খননকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি।   প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় সফল হয়নি ২০১৪ সালের প্রকল্প এর আগে ২০১৪ সালে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছিল বাপেক্স। তবে ভূগর্ভে অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাবে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই স্থগিত করতে হয়।   পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০১৪ সালে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় খননের লক্ষ্যে কাজ শুরু হলেও নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর তীব্র গ্যাসের চাপের কারণে তা বন্ধ রাখতে হয়। ওই চাপ মোকাবিলা করে আরও গভীরে যাওয়ার প্রযুক্তি তখন আমাদের কাছে না থাকায় প্রকল্পটি সফল হয়নি।   সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খননকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’, বলে তিনি।   মেগা প্রকল্পের অধীনে নতুন খনন গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খননের মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার ৯০৯ কোটি টাকা ঋণ দেবে এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়ন করবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।   মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি কূপ খনন ও রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ করবে।   তিনি বলেন, সিসিডিসি বর্তমানে কুমিল্লায় খননকাজ চালাচ্ছে। সেখান থেকে রিগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোবারকপুরে স্থানান্তর করা হবে।   পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের শেষ দিকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই ক্ষেত্র থেকে ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।   প্রকল্প পরিচালক মেরাজুল আলম বলেন, জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে। ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি ড্রিলিং শুরু হবে।   সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, মার্চে আহমেদপুর মৌজার ৬ একর জমি বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   বাপেক্সের উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইল নির্মাণের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে।   উত্তরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার মানুষের স্বপ্ন স্থানীয় একটি গ্যাসক্ষেত্রের।   পাবনার দুলাই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক মো. শাহিদুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই মোবারকপুরে গ্যাসের সম্ভাবনার কথা শুনে আসছি। তবে আগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। আশা করি, এবার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।   উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় এর আগে গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও বারবারই ব্যর্থ হতে হয়েছে। তবে একাধিক ভূতাত্ত্বিক জরিপে মোবারকপুরে গ্যাসের সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ায় এবার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   এর আগে পেট্রোবাংলা ১৯৮০-৮১ সালে মোবারকপুরে ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে গ্যাসের সম্ভাবনার প্রাথমিক ধারণা পায়। পরে একটি জার্মান প্রতিষ্ঠান ১৯৮৩-৮৪ সালে আবারও ভূতাত্ত্বিক জরিপ করে আশানুরূপ ফল পায়। এছাড়া বাপেক্স ২০০৬-০৭ ও ২০০৭-০৮ সালে আরও দুটি ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে সম্ভাবনা পাওয়ায় ২০১৪ সালে কূপ খনন প্রকল্প শুরু করে।   প্রথম দফায় কূপ খনন প্রকল্প সফল না হলেও এবার উন্নত কারিগরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আশানুরূপ ফল পাওয়া এবং গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে বলে মনে করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব।   প্রসঙ্গত, বর্তমানে যে এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে, সেটি আগের প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে।   তবে কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো অঞ্চলেই গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত স্থানে একটি কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা গেলে আশপাশে পর্যায়ক্রমে আরও একাধিক কূপ খনন করা যাবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৯ বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব, শুরু হয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই

ছবি: সংগৃহীত

রাকসুর ভিপি থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকন: গাইবান্ধার উন্নয়নে জেলাবাসীর নতুন প্রত্যাশা

0 Comments