ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ দিনের কার্যক্রম আজ নির্বাচন কমিশনে চলমান রয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সকাল থেকেই প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে আপিল গ্রহণ কেন্দ্র। কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ভবনের ভেতরে অঞ্চলভিত্তিক মোট ১০টি বুথ স্থাপন করে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার বুথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল জমা দিচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকিতে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ আপিল গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামীকাল শনিবার থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে। এসব শুনানি শেষে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যা নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেশের ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। যাচাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত চার দিনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। ওই দিন মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ১৬৪টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে ১০টি আপিল করা হয়।
এর আগের দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে আপিল জমা পড়েছে। বুধবার ১৩১টি, মঙ্গলবার ১২২টি এবং প্রথম দিন সোমবার ৪২টি আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয়। সোমবার জমা পড়া আপিলগুলোর মধ্যে ৪১টি ছিল মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে এবং একটি ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত অডিটোরিয়ামে এসব শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি করে আপিল শুনানির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
আপিল শুনানি শেষে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন বেরাইদ খালপাড় এলাকায় অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধা এন্টারপ্রাইজ’ নামক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ফারিয়া আক্তার সম্পা (৩৯) জানান, গত ১ মে রাত সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ১টার দিকে যেকোনো সময় গুদামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গুদামে। অগ্নিকাণ্ডে নাভানা, যমুনা, ফ্রেশ ও ডেন্টা কোম্পানির বিপুল পরিমাণ এলপিজি গ্যাস ভর্তি ও খালি সিলিন্ডার পুড়ে যায়। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল, অফিসের দুটি এয়ার কন্ডিশনার, একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার, নগদ ২১ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যেমন ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স-সংক্রান্ত ফাইল আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে বাড্ডা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা ও পূর্বাচল ইউনিটের মোট ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪৮, তারিখ : ০১/০৫/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (৮ মে) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার সফরকারী জাহাজের অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদক দল ঐতিহ্যবাহী রীতিতে ব্যান্ড পরিবেশন করে জাহাজটিকে অভ্যর্থনা জানায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার নৌ সহযোগিতা ও পেশাগত সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। জাহাজটিকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের পর ভারতীয় জাহাজটিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ আলী হায়দার অভ্যর্থনা জানায়। সফরকালে ভারতীয় জাহাজের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের নেভাল অ্যাডভাইজারসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট, এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট ডকইয়ার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া সফরসূচির অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকেরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ও জাহাজ পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি তারা চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখবেন। একই সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকেরাও ভারতীয় জাহাজটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। সফর শেষে আগামী ১০ মে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ সুনায়না বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
ফরেনসিক পরীক্ষায় পরশুরামের বক্সমাহমুদে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীর ভূমিষ্ট সন্তানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাইয়ের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। আর এই অপরাধের দায় থেকে ভাইকে বাঁচাতে ফাঁসানো হয়েছিল স্থানীয় এক মসজিদের ইমামকে। এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর ধৰ্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের রুবি আক্তার (১৪)। মক্তবে যাওয়া বন্ধ করার পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরে সন্তানও প্রসব করে। আর এ ঘটনার দায় চাপানো হয় মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদের (২৫) উপর। দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। সেই মামলায় এক মাস জেল খাটার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের বাবা মোজাফফর আহমদ নন। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে, তার গর্ভজাত সন্তানের বাবা আপন বড় ভাই মোরশেদ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে। এ ঘটনার পর মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান তিনি। মামলার খরচ যোগাতে বিক্রি করেছেন ৫ শতক জায়গা। প্রতিনিয়ত সামাজিকভাবে ট্রলের শিকার হচ্ছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর আহমদ। তিনি উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বশরের ছেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন মোজাফফর আহমেদ। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী হনুফা খাতুন তার কিশোরী কন্যা রুবি আক্তারকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। তখন ইমাম মোজাফফর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে কাকুতিমিনতি করলেও কারো মন গলেনি। মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ফেনীর আদালতে মামলা করতে যান মোজাফফর। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রামের মাতব্বর ও হনুফা খাতুন ইমাম মোজাফফরকে জোরপূর্বক পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন মোজাফফর। এদিকে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মোজাফফরকে ঢাকার মালিবাগে পুলিশের সিআইডি বিভাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্ব-শরীরে ও রুবি আক্তারের সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঢাকার মালিবাগের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে থেকে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি পরশুরাম মডেল থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের কাছে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়, পরীক্ষায় ভ্যাজাইনাল সোয়াব এ পুরুষের বীর্যের উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ভ্যাজাইনাল সোয়াবে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে মতামত প্রদান করা সম্ভব নয়। মামলার ভিকটিম ও তার সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া শিশু কন্যাসন্তানের জৈবিক পিতা নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার নিমিত্তে ভিকটিম ও তার সন্তানকে পরীক্ষাগারে উপস্থিত হয়ে ডিএনএর নমুনা প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। এর মধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। ডিএনএ রিপোর্টে কিশোরীর সঙ্গে মোজাফফরের মিল না পাওয়ার প্রতিবেদন ফেনীতে আসলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। কিশোরী রুবি আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কিশোরী তাকে তার সহোদর ভাই ব্যাপক হারে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। প্ৰকৃত ঘটনা আড়াল করে আপন বড় ভাই মোরশেদকে ধর্ষণের দায় থেকে বাঁচাতে ভিকটিম রুবি আক্তার শিক্ষক মোজাফফর়কে ফাঁসানো হয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে রুবি আক্তারকে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বড় ভাই মোরশেদকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে, মোরশেদ পরিবারের অগোচরে আপন বোন রুবি আক্তারকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। ভিকটিম রুবি আক্তার ও তার ভাই মোরশেদ ওই গ্রামের চান মিয়ার ছেলেমেয়ে। আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে রুবি আক্তার আর ভূমিষ্ঠ সন্তান জান্নাতুল ফেরদাউস ও অভিযুক্ত বড় ভাই মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একই বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় পুলিশের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিমের সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশুকন্যা জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা মিলে যাওয়ায় তিনি তার জৈবিক পিতা। ডিএনএ পরীক্ষক জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের পিতা হিসেবে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর আহমেদ রুবি আক্তারের গর্ভজাত সন্তানের জৈবিক পিতা নন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে- মোজাফফর আহমেদের বিরুদ্ধে আনিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০০) এর ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রদান ও গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোরশেদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের একই ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন এদিকে আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এক মাস দুই দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর। মোজাফফর আহমদ বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এ ঘটনায় আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছি। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে মূল্যবান জায়গা বিক্রি করে দিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় প্রায় মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়। প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলে এভাবে আমার মতো অনেক নিরপরাধ মানুষ বেঁচে যাবে। ইমামের সামাজিক মর্যাদাহানি ও এক মাস কারাদণ্ডের ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন। মোজাফফর আহমেদের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটন হয়েছে। জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, সুন্নী, কওমী বা সরকারি বুঝি না, সে একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার পাশাপাশি, আর্থিক ও আইনিভাবে সহযোগিতা করা উচিত। পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার আপন বড় ভাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।