অর্থনীতি

মানি চেঞ্জারদের জন্য নতুন সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে ব্যাংকে

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝুঁকি কমাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের জন্য বিশেষ ব্যাংক হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতে কাস্টডিয়াল হিসাব খুলে বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা ও সংরক্ষণ করতে পারবেন তাঁরা।

 

বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কাস্টডিয়াল হিসাব কেবল বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা, উত্তোলন এবং নিরাপদে সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এসব হিসাবে জমা অর্থের বিপরীতে কোনো ধরনের সুদ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে মুদ্রা জমা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ও ধরন যথাযথভাবে নথিভুক্ত রাখতে হবে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারদের বৈধ ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বিমা থাকতে হবে। এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ পরিবহনের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিআইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপযুক্ত নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।

 

দিনের শেষ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ কাউন্টার ও অস্থায়ী ভল্টের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জাররা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে চেক অথবা উত্তোলন স্লিপ ব্যবহার করে এসব হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই জমা স্থিতির চেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। এসব হিসাবে ওভারড্রাফট বা ঋণসুবিধাও দেওয়া যাবে না।

 

এ ছাড়া কাস্টডিয়াল হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রেমিট্যান্স পাঠানো কিংবা তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে কোনো ধরনের লেনদেন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিসাবের সব কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে নিরাপদে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা প্রতিপালন আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মানি চেঞ্জারদের জন্য নতুন সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে ব্যাংকে

নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝুঁকি কমাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের জন্য বিশেষ ব্যাংক হিসাব খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোতে কাস্টডিয়াল হিসাব খুলে বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা ও সংরক্ষণ করতে পারবেন তাঁরা।   বুধবার (৪ নভেম্বর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, কাস্টডিয়াল হিসাব কেবল বৈদেশিক মুদ্রার নোট জমা, উত্তোলন এবং নিরাপদে সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এসব হিসাবে জমা অর্থের বিপরীতে কোনো ধরনের সুদ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে মুদ্রা জমা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ও ধরন যথাযথভাবে নথিভুক্ত রাখতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারদের বৈধ ক্যাশ-ইন-ট্রানজিট (সিআইটি) বিমা থাকতে হবে। এ ছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ পরিবহনের সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিআইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অথবা নিরাপত্তা প্রহরীসহ উপযুক্ত নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে।   দিনের শেষ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ কাউন্টার ও অস্থায়ী ভল্টের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জাররা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে চেক অথবা উত্তোলন স্লিপ ব্যবহার করে এসব হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই জমা স্থিতির চেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। এসব হিসাবে ওভারড্রাফট বা ঋণসুবিধাও দেওয়া যাবে না।   এ ছাড়া কাস্টডিয়াল হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, রেমিট্যান্স পাঠানো কিংবা তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে কোনো ধরনের লেনদেন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হিসাবের সব কার্যক্রম বৈদেশিক মুদ্রার নোটের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের হাতে থাকা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকে নিরাপদে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা প্রতিপালন আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নভেম্বরের প্রথম তিন দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫৮ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম, প্রতি আউন্স ৪০-শ শতে

সংগৃহীত ছবি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ডিএসইএক্স, শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

দেশের পুঁজিবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম কমেছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে সূচক কমলেও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।   মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে। এর আগে চলতি বছরের ২৩ মে সূচকটি ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টের ঘরে ছিল। অর্থাৎ নতুন করে দরপতনের ফলে সূচকটি প্রায় পাঁচ মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে।   এদিন ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।   বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ ও শিল্পাঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়েছে। এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারে দরপতনের চাপ বাড়িয়েছে।   তাদের ভাষ্য, শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত শেয়ারবাজারে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।   মঙ্গলবার ডিএসইতে ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮টির দাম বেড়েছে, ২৬৭টির কমেছে এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। তবে দরপতনের দিনেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এদিন মোট ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।   অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ২১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে ১৮১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৫টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে মোট ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।   মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার টাকার। আর ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি।   লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরও রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজীবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসি এবং সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।   এদিন ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। আগের কার্যদিবসের তুলনায় ফান্ডটির ইউনিটের দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। দিনটিতে ৭৩৬ বার লেনদেনে ২১ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৬টি ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ছিল ৩ কোটি টাকা।   দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম কমেছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। কোম্পানিটির ২ হাজার ৮৮ বার লেনদেনে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।   তৃতীয় অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কোম্পানিটির ১ হাজার ৬৯২ বার লেনদেনে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।   দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে তুংহাই নিটিংয়ের শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ দর কমেছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জি-পে গ্রাহকদের জন্য এমটিবি ও সমাধানের নতুন ‘টাকা-পে’ প্রিপেইড কার্ড চালু

ডিসেম্বরের আগেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে

সংগৃহীত ছবি

তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই থেকে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১১.৬৯ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১১ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা গত অর্থবছরের একই সময়ে আসা ১০ হাজার ১৯২ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।   ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর দেশে ২২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যা ২০২৫ সালের একই দিনে আসা ৪৩ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের এ প্রবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁদের অব্যাহত অবদানের প্রতিফলন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বহিঃখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।   রেমিট্যান্স প্রবাহের এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অব্যাহত অবদানকে প্রতিফলিত করে এবং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআরে শুরু হলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

0 Comments