মালয়েশিয়ায় মানব পাচারচক্রের একটি গোপন ট্রানজিট আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৮ বাংলাদেশিসহ মোট ১৯ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিকও রয়েছেন।
দেশটির সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় গড়ে তোলা আস্তানায় গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, আটক ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১৫ জন এবং পাকিস্তানের ওই নাগরিক মানব পাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর তিন বাংলাদেশিকে মানব পাচারচক্রের সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রানজিট হাউস পরিচালনা ও পাচার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁদের একজন চক্রটির স্থানীয় সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা ওই দিনই মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সক্রিয় এই চক্রটি প্রথমে অভিবাসীদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যেত। এরপর দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করানো হতো।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করত পাচারকারীরা। এভাবে চক্রটি প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিতের অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানে পাচারচক্রের ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। ২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশারের প্রায় ৩৩ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন। রোববার (১২ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীরা পারস্পরিক যোগসাজশে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকালে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে গত বছরের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তিনি আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে প্রতারণার অর্থ দিয়ে খায়রুল বাশার রাজধানীর ভাটারা এলাকায় বড় স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ডোনার নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট, নিজের নামে রাজাবাজার এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং আজিজ সড়কে জি+৭ তলা ও জি+৬ তলা বিশিষ্ট দুটি বাড়ি কিনেছেন। এছাড়া তার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩ হাজার ৪৮২ দশমিক ৫ শতাংশ জমিও রয়েছে। এসব সম্পদের দলিলমূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আসামির নামে থাকা এসব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, খায়রুল বাশার নিজেকে শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে তার নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান করছে সিআইডি।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বিরল উদ্ভিদ প্রজাতি রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ অর্জন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান। ‘নিসর্গ পুরস্কার’ ক্যাটাগরিতে পরিবেশ ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর হাত থেকে তিনি পদক গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ড. আশরাফুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ, উদ্ভিদসম্পদের উন্নয়ন এবং প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করে আসছেন। তাঁর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির উদ্ভিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বহু বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। এ ছাড়া তিনি বিরল উদ্ভিদের চারা উৎপাদন করে গবেষক, শিক্ষক ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণের মাধ্যমে এসব প্রজাতির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৫০০ প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন, যা গবেষণা, শিক্ষা এবং ঐতিহ্যবাহী ভেষজ জ্ঞান সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখছে। জলজ বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ৭০টিরও বেশি প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণের মাধ্যমে জলাশয়ের পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং পানির গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য সাময়িকীতে তাঁর ১২০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক ড. আশরাফুজ্জামান বাকৃবির বোটানিক্যাল গার্ডেনের কিউরেটর এবং কৃষি জাদুঘরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে কৃষি জাদুঘরটি শিক্ষার্থী, গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ অর্জন তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি এ স্বীকৃতিকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের কাছে প্রকৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব তুলে দিতে তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, ভাষাসৈনিক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১২ জুলাই) এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও তিনি ছিলেন। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। তারেক রহমান বলেন, দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশেষ করে গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসিকতা ও নেতৃত্ব গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারালো। তার আদর্শ, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শোকবার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।