প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় জাল লেটার অব অ্যাওয়ার্ড (এলওএ) দাখিলের অভিযোগে এক বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুর সেশন কোর্টের বিচারক সুজানা হুসিন এই রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জাসিম (৪৩)। তিনি নিসা রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং পাঁচ সন্তানের জনক। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি লেবার রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম (আরটিকে ২.০)-এর আওতায় আবেদন করার সময় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের পুত্রজায়া এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনে একটি ভুয়া এলওএ দাখিল করেন।

 

মামলার বিবরণে বলা হয়, দাখিলকৃত নথিতে কুয়ালালামপুরের জালান তুন রাজাক এলাকায় একটি কন্ডোমিনিয়ামের সংস্কার প্রকল্পের উল্লেখ ছিল, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন। এর আগে, ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ইমিগ্রেশন বিভাগ ই-মেইলের মাধ্যমে নিসা রিসোর্সেসকে ১৪ জন নির্মাণশ্রমিকের আরটিকে ২.০ আবেদনের জন্য সাক্ষাতের তারিখ নির্ধারণ করে। নির্ধারিত দিনে আসামির স্ত্রী ও সহ-পরিচালক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেন এবং ‘অরিয়ন ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’-এর নামে এলওএটি প্রকৃত নথি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

 

পরবর্তীতে অরিয়ন কন্ডোমিনিয়াম ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে ওই এলওএ সম্পূর্ণ জাল। তারা জানায়, উল্লিখিত প্রকল্পটি কাল্পনিক, ব্যবহৃত লেটারহেড তাদের প্রতিষ্ঠানের নয় এবং নিসা রিসোর্সেসের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। এর ভিত্তিতে মোহাম্মদ জাসিমের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

শুনানিকালে আসামিপক্ষ শাস্তি লাঘবের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষ জাল নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতি আস্থাভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। সব দিক বিবেচনা করে আদালত মোহাম্মদ জাসিমকে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে ড্রোন হামলা, ধ্বংসাবশেষ পড়ে প্রবাসী নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই হামলা আটকে দিলেও ভূপাতিত হওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক বাসিন্দা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দুবাই মিডিয়া অফিস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের পশ্চিমাংশে অবস্থিত আল বারশা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওই পাকিস্তানি নাগরিক পেশায় গাড়ি চালক ছিলেন।   দুবাই মিডিয়া অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আকাশে হামলা প্রতিহত করার সময় ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষ আল বারশা এলাকায় একটি গাড়ির ওপর পড়ে। এতে এক পাকিস্তানি গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।’   এই ঘটনা ইরানের একটি ড্রোন থেকে ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত ২৩ মেরিনা টাওয়ারের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে দ্য মিরর পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশে প্রতিহত করা একটি হামলার সময় ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষ তার গাড়ির ওপর পড়লে ওই ব্যক্তি নিহত হন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দুবাইয়ে একটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে এবং একটি সুউচ্চ ভবনের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভবনটি ২৩ মেরিনা টাওয়ার। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকির জবাব দিতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। এক্সে দেয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় জানায়, সারা দেশে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার ফল।   দুবাইয়ের ঘটনাগুলোর আগে শনিবার এক দিনেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৯টি মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘ইরানের প্রকাশ্য আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মোট ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৫টি ধ্বংস করা হয়েছে, ১৪টি সমুদ্রে পড়ে গেছে এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে এসে পড়েছে।’   এ ছাড়া মোট ১ হাজার ৩০৫টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২২৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং ৭৬টি ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে এসে পড়েছে। পাশাপাশি আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।       এর আগের হামলাগুলোতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি, একজন নেপালি এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মোট ১১২ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া তথা ‘প্রতিবেশী দেশগুলোতে’ হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে নারী-শিশুসহ আটক ১২৪

ছবি: সংগৃহীত

ভিসার মেয়াদে ভয় দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের

আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা ও ফ্লাইট বাতিলে বিপাকে প্রবাসীরা, সহায়তার আশ্বাস মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে বাবা ছেলেসহ মৃত্যু তিন বাংলাদেশির

ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে মর্মান্তিক এক ঘটনায় তিন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সম্পর্কে এক বাবা ও তাঁর ছেলেও রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরও দুই প্রবাসী বাংলাদেশি।   নিহত প্রবাসীদের পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মেড্ডা গ্রামের বাসিন্দা তারেক মিয়া (৪৫), তাঁর ছেলে সাব্বির (২২) এবং ফেনী জেলার সন্তান মেহেদী হাসান। জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের ওই শহরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁরা।   স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আরবিলের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড বা বেসমেন্টের একটি কক্ষে থাকতেন ওই বাংলাদেশিরা। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাঁরা একসঙ্গে সাহ্‌রি খেয়ে ঘুমাতে যান। এরপর ঘুমের ঘোরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা।   খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে কক্ষে থাকা আরও দুই প্রবাসীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসাধীন ওই দুই বাংলাদেশির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   গত বৃহস্পতিবার বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জীবিকার খোঁজে গিয়ে প্রবাসে বাবা-ছেলেসহ তিন বাংলাদেশির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দেশে থাকা তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ০৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মাস্কাট বিমানবন্দরে নতুন নির্দেশনা জারি করল ওমান

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে প্রবাসী নিখোঁজ

ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৫ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
দুবাই থেকে ফিরলেন আরও ৪০৫ প্রবাসী

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া আরও ৪০৫ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটে দুবাই থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা ৭ মিনিটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।   এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে দুবাই থেকে ৩৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে এসেছিল আরেকটি ফ্লাইট। দেশে ফিরে আসা যাত্রীরা বলেন, দুবাইতে আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। এই বুঝি বোমা এসে পড়ে। দেশে ফিরে মনভরে শ্বাস নিতে পারছি।   এদিকে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সাত দিনে মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গতকাল বিভিন্ন এয়ারলাইনসের অন্তত ৩৩টি ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়। বিমানবন্দর   সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জর্দানসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর প্রভাব পড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। যুদ্ধ শুরুর দিন থেকেই একের পর এক মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল করতে থাকে বিভিন্ন এয়ারলাইনস।   বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। পরদিন ১ মার্চ বাতিল হয় ৪০টি ফ্লাইট। ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ আরও ২৮টি এবং ৫ মার্চ ৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। শুক্রবার বাতিল হওয়া ৩৩ ফ্লাইটের মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, এমিরেটসের ৪টি, ইউএস-বাংলার ৫টি, গালফ এয়ারের ২টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ২টি ফ্লাইট ছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত প্রবাসীদের সুখবর, ভিসার বাড়ল ৩ মাস

ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, নিহত ২ প্রবাসী

সংগৃহীত ছবি

কুয়েতে মিসাইল বিস্ফোরণে নিহত সন্দ্বীপের প্রবাসী জাহেদ

0 Comments