মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানায়, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। ফলে দেশটির বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় জোহরের দুই প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্টে সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্স (কেএসএবি)। এই দুটি সীমান্তপথ প্রতিদিন হাজারো মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের সময়টি ছিল “অত্যন্ত ব্যস্ত সময়”। তখন বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি বলেন, শুধু অটো-গেটই নয়, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়েছে।
এটি গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিভ্রাট। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের সমস্যায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে মালয়েশিয়ার অধিকাংশ ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে। দেশটিতে বর্তমানে ১১৪টি ইমিগ্রেশন প্রবেশপথ রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬টি সমুদ্রপথ, ৩০টি স্থলপথ এবং ২৮টি বিমানবন্দর।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ (MyIMMs) ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে। পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়।
তিনি বলেন, ‘সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি। MyIMMs প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা। তাই মাঝে-মধ্যেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই সিস্টেমের পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ (NIISe) চালু করা হবে। আধুনিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাসপোর্ট যাচাই, ভিসা পরীক্ষা এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জোহর সফরকালে জানান, আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RTS)-এর আগে নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই বিভ্রাটে সীমান্ত পারাপারকারী বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ যাত্রী, অতিরিক্ত ভিড় এবং সীমান্ত এলাকায় তীব্র যানজট।
সিঙ্গাপুরগামী এক মালয়েশিয়ান কর্মজীবী এম সাথিশ জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় কেএসএবি চেকপয়েন্টে পৌঁছে ‘চরম বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সাধারণত যেখানে ইমিগ্রেশন পার হতে ১০ মিনিটেরও কম সময় লাগে, সেখানে সেদিন তার প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে।
৩৫ বছর বয়সী এই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে আগেভাগে বের না হলে নিশ্চিতভাবে অফিসে দেরি হয়ে যেত। এই বিভ্রাট যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
আরেক যাত্রী, সিঙ্গাপুরে কর্মরত হিসাবরক্ষক সো কিয়াও শি জানান, সাধারণত পাঁচ মিনিটে শেষ হওয়া ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় তার সেদিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে।
তিনি বলেন, ‘কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কোনোটিই কাজ করছিল না। সবাইকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক ছিল।’
তিনি আরও বলেন, চলতি বছর এ ধরনের সমস্যা একাধিকবার ঘটেছে, যা সীমান্তনির্ভর কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার জানায়, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। ফলে দেশটির বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় জোহরের দুই প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্টে সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্স (কেএসএবি)। এই দুটি সীমান্তপথ প্রতিদিন হাজারো মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভোরের সময়টি ছিল “অত্যন্ত ব্যস্ত সময়”। তখন বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি বলেন, শুধু অটো-গেটই নয়, মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও কাজ করেনি। বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়েছে। এটি গত এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিভ্রাট। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের সমস্যায় কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছিলেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির প্রভাব পড়ে মালয়েশিয়ার অধিকাংশ ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে। দেশটিতে বর্তমানে ১১৪টি ইমিগ্রেশন প্রবেশপথ রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬টি সমুদ্রপথ, ৩০টি স্থলপথ এবং ২৮টি বিমানবন্দর। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ (MyIMMs) ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে। পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়। তিনি বলেন, ‘সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি। MyIMMs প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা। তাই মাঝে-মধ্যেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’ সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই সিস্টেমের পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ (NIISe) চালু করা হবে। আধুনিক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাসপোর্ট যাচাই, ভিসা পরীক্ষা এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান। এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জোহর সফরকালে জানান, আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RTS)-এর আগে নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই বিভ্রাটে সীমান্ত পারাপারকারী বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ যাত্রী, অতিরিক্ত ভিড় এবং সীমান্ত এলাকায় তীব্র যানজট। সিঙ্গাপুরগামী এক মালয়েশিয়ান কর্মজীবী এম সাথিশ জানান, তিনি সকাল সাড়ে ৭টায় কেএসএবি চেকপয়েন্টে পৌঁছে ‘চরম বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সাধারণত যেখানে ইমিগ্রেশন পার হতে ১০ মিনিটেরও কম সময় লাগে, সেখানে সেদিন তার প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। ৩৫ বছর বয়সী এই স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে আগেভাগে বের না হলে নিশ্চিতভাবে অফিসে দেরি হয়ে যেত। এই বিভ্রাট যানজট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ আরেক যাত্রী, সিঙ্গাপুরে কর্মরত হিসাবরক্ষক সো কিয়াও শি জানান, সাধারণত পাঁচ মিনিটে শেষ হওয়া ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় তার সেদিন ৩০ মিনিটের বেশি সময় লেগেছে। তিনি বলেন, ‘কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কোনোটিই কাজ করছিল না। সবাইকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে পরিস্থিতি সত্যিই হতাশাজনক ছিল।’ তিনি আরও বলেন, চলতি বছর এ ধরনের সমস্যা একাধিকবার ঘটেছে, যা সীমান্তনির্ভর কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
কানাডার টরন্টোতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নাফি হোসাইন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এ ম্যারাথনে তিনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করেন। পেশাগতভাবে প্রকৌশলী হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাতৃভূমির পরিচয় তুলে ধরার এ প্রচেষ্টা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। টরন্টো ম্যারাথন কানাডার অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ দৌড় প্রতিযোগিতা। ১৯৭৭ সালে ‘টরন্টো মেয়র্স কাপ’ নামে এ আসরের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ম্যারাথন কোর্স হিসেবে স্বীকৃত। প্রতি বছর বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশ থেকে হাজারও দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। অন্টারিও ভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘রানিং ফার্স্ট লিমিটেড’ আয়োজনটি পরিচালনা করে। ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটারের এ দীর্ঘ পথটি টরন্টো শহরের উত্তর প্রান্তের নর্থ ইয়র্ক সিটি সেন্টার থেকে শুরু হয়ে নান্দনিক ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলো পেরিয়ে টরন্টো এক্সিবিশন সেন্টারে গিয়ে শেষ হয়। প্রবাসী আওলাদ হোসাইন ও আজমেরী সুলতানা পান্না দম্পতির সন্তান নাফি হোসাইন ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কয়েক বছর ধরে এ ম্যারাথনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। নাফি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার কথা ভাবতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়ে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করার সক্ষমতা একদিনে আসেনি। অল্প অল্প করে অনুশীলন করেছি, অনেক কষ্ট করেছি এ লক্ষ্য অর্জনে। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী কানাডার জার্সি পরলেও আপনি বাংলাদেশের জার্সি বেছে নিলেন কেন? এ প্রশ্নের জবাবে নাফি বলেন, “আমি আমার শেকড়ের সন্ধানে আনন্দ পাই। সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। বাংলাদেশকে আমি ভালোবাসি। টরন্টো ম্যারাথন আমাকে সেই ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে। নাফি জানান, ওইদিন প্রতিযোগিতায় তার লক্ষ্য ছিল ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে দৌড় শেষ করা, কিন্তু তিনি মাত্র ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন। টানা দৌড়ানোর কোনো পর্যায়ে কি মনে হয়েছে যে এটি অসম্ভব? এর উত্তরে নাফি বলেন, অবশ্যই মনে হয়েছে। বিশেষ করে শেষের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দৌড়াতে খুব কষ্ট হয়েছে। তারপরও হাল ছাড়িনি। নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত এত বড় অর্জন সম্ভব হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। কাঙ্ক্ষিত টিকিট সংগ্রহ করতে প্রতিদিনই কাতারের বিভিন্ন বাংলাদেশি ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানে ভিড় করছেন প্রবাসীরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে ঘিরে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিমান টিকিটের দামও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবুও দীর্ঘদিন পর পরিবার-স্বজনদের কাছে ফেরার আনন্দে বাড়তি খরচ মেনে নিচ্ছেন প্রবাসীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশে ফেরার টিকিট হাতে পেয়ে অনেক প্রবাসীর চোখেমুখে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, গত ঈদে দেশে যেতে না পারলেও এবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিমান সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাতার অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার কামাল উদ্দিন বলেন, “গত রোজার ঈদে অনেক প্রবাসী দেশে যেতে পারেননি। তাই এবার তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বেশি আগ্রহ নিয়ে দেশে ফিরছেন। যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”