ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার বলেছেন, গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে বতর্মান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এতদিন দাবি করে আসছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের প্রার্থী এডমুন্দো গঞ্জালেজ উরুতিয়া বিজয়ী হয়েছেন। যদিও ওই নির্বাচনে মাদুরোকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
পানামা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা ‘ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আলোচনায়’ সহায়তা করে।
তিনি বলেন, ‘এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা।’
গত জানুয়ারিতে কারাকাসে অভিযান চালিয়ে তৎকালীন নেতা মাদুরোকে আটক করার অনুমোদন দেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে আসছেন মাচাদো।
গত শনিবার তিনি জানান, ভবিষ্যতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন। তবে সেই নির্বাচনের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।
পানামায় ভেনেজুয়েলীয় প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি প্রার্থী হব।’
মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে দেশটি পরিচালনা করছেন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তখন নতুন নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এখনো ভোটের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বর্তমানে নির্বাসিত মাচাদোকে ভেনেজুয়েলা সরকার পলাতক হিসেবে বিবেচনা করে এবং তিনি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে নরওয়ের অসলোতে প্রকাশ্যে দেখা যায় মাচাদোকে। সেখানে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেন। চলতি বছরজুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
মাচাদো জানান, তিনি আবারও ভেনেজুয়েলায় ফিরতে চান। তবে কবে ফিরবেন, বিবৃতিতে তা উল্লেখ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ওমরাহ পালনে নতুন ভিসা চালু করেছে সৌদি আরব। নতুন এই ভিসার আওতায় ৩৬৫ দিনের মধ্যে একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করা যাবে। তবে এই ভিসায় একজন ভ্রমণকারী সব মিলিয়ে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় সোমবার (২০ জুলাই) এক বছরের মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ওমরাহ ভিসা চালুর ঘোষণা দেয়। ভিসাটি ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন জানা যায়, সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ ও পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় ওমরাহযাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ করতেই নতুন এই ভিসা চালু করা হয়েছে। নতুন ভিসার আওতায় একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও প্রতিবার প্রবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও শর্ত পূরণ করতে হবে। দেশ ছাড়ার পর ভিসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হবে এবং পরবর্তী সফরের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে পুনরায় সক্রিয় হবে। তবে হজ মৌসুমে এই ভিসা কার্যকর থাকবে না। জিলকদ মাসের প্রথম দিন থেকে জিলহজ মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ভিসাটি নিষ্ক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার ও প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। গত মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই আন্দোলনের ডাক দেয়। আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। টানা ২০ দিন অনশনের পর তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির কথা বলে গত শনিবার দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে প্রতিবাদস্থল থেকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যায়। তবে পুলিশের এই পদক্ষেপ আন্দোলনকে দমাতে পারেনি, বরং বিক্ষোভের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অব্যাহত থাকবে আন্দোলন ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার পর বিক্ষোভ ও অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরতরা। এরই মধ্যে গতকাল রোববার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের অনশন ২১ দিনে পদার্পণ করেছে। অনশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পদযাত্রা ঘিরে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা আন্দোলনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, আজ সোমবার প্রস্তাবিত সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা বানচাল করতে বহিরাগতরা ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের উস্কানি দিতে পারে। তাদের ভয়, এই ধরনের উস্কানিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে আন্দোলন নস্যাৎ করার চেষ্টা করতে পারে। ওয়াংচুকের স্ত্রীর আইনি লড়াই সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তর করার পর বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। ওয়াংচুককে অবৈধভাবে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ তুলে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙমো দিল্লি হাইকোর্টে একটি জরুরি আবেদন করেন। আবেদনে সোনম ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানান। তবে ভারতীয় হাইকোর্ট তাঁর আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত জানান, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকারের এই পদক্ষেপ কোনো খামখেয়ালি নয়, এতে ওয়াংচুকের স্বাধীনতাও খর্ব হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁর সম্মতিক্রমে কেবল মুখে খাওয়ার তরল দিচ্ছেন। আদালত সোনম ওয়াংচুককে চিকিৎসকদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন। হাসপাতাল থেকে ওয়াংচুকের বার্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই গতকাল সোনম ওয়াংচুক তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে একটি হাতে লেখা বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজেকে অবৈধ বন্দি উল্লেখ করে দেশবাসীকে আজ সোমবারের সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই আন্দোলনকে তিনি ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করেন। খবর দ্য প্রিন্ট ও এনডিটিভির।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালে ‘মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা’ বিষয়ক ৭৬/৭৬ প্রস্তাবে ২০ জুলাইকে 'আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস' ঘোষণা করে। এটি জাতিসংঘ-মনোনীত একটি আন্তর্জাতিক দিবস, যা প্রতি বছর ২০ জুলাই পালিত হয়। ১৯৬৯ সালের এই দিনে অ্যাপোলো-১১ অভিযানের নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং ও এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র, প্রথম মানুষ হিসাবে চাঁদে পা রাখেন। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণের বার্ষিকী উপলক্ষে 'আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস' পালন করা হয়। এই উদযাপনে চাঁদ অনুসন্ধানে সমস্ত দেশের অর্জনগুলি বিবেচনা করা হয় এবং উপযুক্ত চাঁদ অনুসন্ধান এবং ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। পটভূমি : হাজার হাজার বছর ধরে, মানব সভ্যতা আমাদের একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ - চাঁদের উৎপত্তি এবং রহস্য নিয়ে চিন্তা করার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রথম টেলিস্কোপ আবিষ্কারের মাধ্যমে ভূমি-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণগুলি আমাদের স্বর্গীয় সঙ্গী সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মহাকাশ কার্যক্রমের সূচনার সাথে সাথে, চাঁদ অসংখ্য অভিযানের চূড়ান্ত গন্তব্য হয়ে ওঠে, যার মধ্যে ক্রু-ফ্লাইটও ছিল, যা মহাবিশ্বের অন্য কোনও স্থানে প্রথম মানুষের পায়ের ছাপ নিয়ে এসেছিল। উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সাথে চাঁদ অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা যখন রূপ নিচ্ছে, তখন এই বিশ্বব্যাপী উদযাপন কেবল অতীতের সাফল্যের স্মারক হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতের প্রচেষ্টার বার্ষিক সাক্ষ্য হিসেবেও কাজ করবে। উদযাপন : জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংগঠন, অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, সেইসাথে বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তি সহ নাগরিক সমাজকে 'আন্তর্জাতিক চাঁদ দিবস' পালনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া