সারাদেশ

মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ

মারিয়া রহমান জুন ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে বকেয়া বেতনের দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান নেন।এর ফলে সড়কটির দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।


শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ।


এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত আছেন।


এ সময় গার্মেন্টস শ্রমিকরা ৭টি দাবি জানান। সেগুলো হলো—

১) গত মে মাসের বেতন।


২) ২০২৫ সালের ছুটির টাকা।


৩) ডিসেম্বর-২০২৫ এর এরিয়া বিলের টাকা।


৪) নোটিশ পে-বিল পরিশোধ করতে হবে।


৫) শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ (চার) মাস তথা ১২০ (একশত বিশ) দিনের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।


৬) শ্রম আইন অনুযায়ী সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট ১০০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।


৭) শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পরিশোধের ক্ষেত্রে কোন হ্যারাসমেন্ট (পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক মানুষিক অত্যাচার) করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুদের তাণ্ডব, আহত ১২ জেলে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সাগরে মাছ ধরা একটি ট্রলারে জলদস্যুদের হামলায় ১২ জন জেলে আহত হয়েছেন। এ সময় ট্রলারটি থেকে মাছ, জাল ও জ্বালানি তেলসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শেষ রাতে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে খাম্বা বয়াবাতি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।     আহত জেলেদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ট্রলারের মাঝি আইয়ুবকে (৪০) কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য তিনজনকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।   আহত সব জেলের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায়। ট্রলারের মালিক ইব্রাহিম জানান, গত বৃহস্পতিবার ১৪ জন জেলেকে নিয়ে ‘এফবি মিম’ নামের ট্রলারটি চরফ্যাশন থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। কয়েক দিন মাছ ধরার পর মঙ্গলবার রাতে তীরে ফেরার পথে হঠাৎ একটি ট্রলার এসে তাদের ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর পরই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ট্রলারে উঠে জেলেদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।   ইব্রাহিম আরো বলেন, হামলাকারীরা জেলেদের বেদম মারধর করে ট্রলারে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মাছ, জাল, বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে জেলেরা আহত অবস্থায় কোনোভাবে ট্রলারটি চালিয়ে উপকূলে ফিরে আসেন।     এ বিষয়ে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন কারকুন জানান, ঘটনাস্থলটি সরাসরি নৌ-পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় না হলেও খবর পাওয়ার পর তারা আহত জেলেদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।     কোস্টগার্ডের নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা আগে থেকে অবগত ছিলাম না। তবে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তায় আমরা সব সময় তৎপর রয়েছি।     গভীর সাগরে একের পর এক জলদস্যুতার ঘটনায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বঙ্গোপসাগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার ও নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তায় উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি: সাময়িক আতঙ্কের পর কিছুটা স্বস্তি

লৌহজং উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ।

অবৈধ ড্রেজার ধরিয়ে দিলেই ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

এনসিপি থেকে অব্যাহতির পর গ্রেপ্তার গাজী সালাউদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
ডিবি পরিচয়ে তরুণকে অপহরণ চেষ্টা, চালককে গণপিটুনি

সিলেটে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক তরুণকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিন যুবক। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গাড়ির গতিরোধ করলে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ সময় অভিযুক্ত দুজন পালিয়ে গেলেও চালককে আটক করে গণপিটুনি দেন উত্তেজিত জনতা এবং প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করেন।   পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও মোবাইলের তথ্যকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।   মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সকালে নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।   বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবীব।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এয়ারপোর্ট থানার ছালিয়া এলাকার বাসিন্দা ময়না মিয়ার ছেলে সামাদ (২৬) আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ‘রিফাত অ্যান্ড কোং’ দোকানের সামনে থেকে ইমরান হোসেন (১৯) নামে এক তরুণকে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেন। পরে প্রাইভেটকারটি সুবিদবাজারের দিকে যাওয়ার সময় ইমরান চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান। স্থানীয়রা মদিনা মার্কেট এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত দুজন পালিয়ে যান। তবে চালক সামাদকে আটক করে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা।   এ সময় উত্তেজিত জনতা প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত চালক সামাদ ও ইমরান হোসেনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবীব কালবেলাকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছেলের বাড়ি মোঘলগাঁও এলাকায়। মেয়েটির বাড়িও একই এলাকায় বা পার্শ্ববর্তী মোল্লারগাঁওয়ে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ছেলে ও মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো মোবাইল ফোন বা সম্পর্কসংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে মেয়েপক্ষের কয়েকজন লোক ছেলেটিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।’   তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় ছেলেটি এবং প্রাইভেটকারের চালক আহত হয়েছেন। ছেলেটি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এসে প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করে সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। চালকের সঙ্গে গাড়িতে আরও দুজন ছিলেন। তবে জনতা গাড়িটি আটকের চেষ্টা করলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ভুক্তভোগী ছেলেটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বা তার পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে সেটির ভিত্তিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ফাইল ছবি

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং

ছবি : সংগৃহীত

আট বছর ধরে পাঠদান বন্ধ, কাগজে-কলমে চলছে নবাবগঞ্জের 'কলেজ'

ছবি : সংগৃহীত

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার ৩২ বাস রুটের প্রাথমিক অনুমোদন

ছবি : সংগৃহীত
সোনামসজিদ দিয়ে দুই দিনে ১১৬ টন কাঁচা মরিচ আমদানি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে ২৫টি ট্রাকে মোট ১১৬ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মহদীপুর স্থলবন্দর হয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ১৩টি ট্রাকে ৮১ টন কাঁচা মরিচ এসেছে। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) একই পথে ১২টি ট্রাকে ৩৫ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়।     বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বরের পর সোমবার থেকে আবারও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।     মঙ্গলবার নাইম এন্টারপ্রাইজ, আবিদ এন্টারপ্রাইজ, শফিকুল ইন্টারন্যাশনাল, জুঁই ট্রেডার্স ও মাসুম এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাঁচামরিচ বন্দরে প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে আরো কয়েকটি আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতেও কাঁচা মরিচ আমদানি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।     এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের (প্লান্ট কোয়ারেন্টাইন) উপপরিচালক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র জানান, দেশে কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দরের জন্য আমদানিকারকদের ৯১টি আমদানি অনুমতিপত্রের (আইপি) বিপরীতে ভারত থেকে ৩২ হাজার ৩৫০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।     তিনি আরো জানান, কাঁচা মরিচ আমদানির জন্য আরো আমদানি অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে। ফলে আমদানি আরো বাড়তে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরার হাসপাতালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিট

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট, গাজী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

বেনাপোল দিয়ে শুরু কাঁচা মরিচ আমদানি, প্রথম চালানে এলো ৯ টন

0 Comments