জাতীয়

মাগুরা সদর হাসপাতালে শিশু বিভাগে বেড সংকট, মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা-এ শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ৫০-৬০ জনের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

 

কিন্তু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ৪৫টি। ফলে বেড সংকটে অনেক শিশুকেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা একদিকে অমানবিক, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

 

রোববার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে শিশুদের মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট রোগী ৭৩০ জন, যার মধ্যে শিশু রোগী ২৯৯ জন।

 

২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত হলেও কার্যকর বেড রয়েছে মাত্র ১৫০টি। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি বেড মাগুরা মেডিকেল কলেজ-এর কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য বেড সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

 

গত ১৮ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগ, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১,২০২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

 

রোগীর স্বজন আলেয়া বলেন, “আমাদের বাচ্চা খুব অসুস্থ। কিন্তু হাসপাতালে এনে দেখি বেড নেই। মেঝেতে শুইয়ে রাখতে হচ্ছে। গরমে শিশুটি আরও কষ্ট পাচ্ছে, আমরা খুব অসহায়।”

 

আরেক রোগীর স্বজন সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, “হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা, তার ওপর প্রচণ্ড গরমে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ফ্যান ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও ঠিকমতো নেই।”

 

এ বিষয়ে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. এহসানুল হক মাসুম জানান, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

এ অবস্থায় দ্রুত বেড সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে চালু হলো ই-বেইল বন্ড সেবা

বগুড়ায় জজ আদালত প্রাঙ্গণে ই-বেইল বন্ড সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া আদালত ভবন থেকে একযোগে সাত জেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হয়।   উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আতিকুর রহমান রুমন। ই-বেইল বন্ড হলো এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জামিননামা দ্রুত ও সরাসরি কারাগারে পাঠানো যায়। বগুড়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জামিন প্রক্রিয়া সহজ করা, দুর্নীতি কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছায়। সেখান থেকে তিনি সকাল ১১টার দিকে হেঁটে জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে যান। বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল বাসেদ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে জামিননামা দাখিল ও কারামুক্তির প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহীতাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। বগুড়া জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুরুল মুবীন জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জামিননামা যাচাই ও কার্যকর হলে বন্দিদের স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে জামিন জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং অসাধু চক্রের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-বেইল বন্ড চালু হলে সনাতন পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

তেলের সংকটে ভোগান্তি, সরবরাহ বাড়াল সরকার—তবুও স্বস্তি ফেরেনি বাজারে

ছবি: সংগৃহীত

দাম বাড়লেও দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি সংকট, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যাংক ঋণ প্রায় ১.৫ লাখ কোটি টাকা, বকেয়াও ছাড়াল অর্ধলাখ কোটি

ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট খাতের অপারেটররা।   জ্বালানি তেলের ঘাটতির পাশাপাশি দেশজুড়ে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৮–১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মোবাইল টাওয়ার ও ডেটা সেন্টার সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়ছে।   এ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।   এ বিষয়ে গত শনিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে অ্যামটব। চিঠিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মোবাইল অপারেটরদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়।   অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রাখতে দেশের প্রধান তিন অপারেটরের দৈনিক প্রায় ৫২ হাজার লিটার ডিজেল এবং প্রায় ২০ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হচ্ছে। এর বড় অংশই ব্যবহার হচ্ছে ব্যাকআপ জেনারেটরে।   শুধু ডেটা সেন্টার ও সুইচিং সেন্টার চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে। লোডশেডিং পরিস্থিতিতে একটি ডেটা সেন্টার সচল রাখতে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০–৬০০ লিটার ডিজেল খরচ হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।   এদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ১,৩০০ থেকে ১,৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে।   অপারেটররা বলছে, জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম, পরিবহন জটিলতা এবং বিদ্যুৎ ফিডারে টেলিকম অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কারণে নেটওয়ার্ক পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা এবং বাংলালিংক-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা ও সেবার মানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   অ্যামটবের মহাসচিব জানান, ডেটা সেন্টারই নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্র, এটি বন্ধ বা বিঘ্নিত হলে কল, ইন্টারনেট, মোবাইল ব্যাংকিং ও জরুরি সেবাসহ পুরো ডিজিটাল ব্যবস্থা অচল হয়ে যেতে পারে।   অন্যদিকে বিটিআরসি জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ ভিডিও সরালো টিকটক, এআই নজরদারি আরও শক্তিশালী

ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
মাগুরা সদর হাসপাতালে শিশু বিভাগে বেড সংকট, মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

মাগুরা-এ শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ৫০-৬০ জনের বেশি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।   কিন্তু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে মাত্র ৪৫টি। ফলে বেড সংকটে অনেক শিশুকেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা একদিকে অমানবিক, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।   রোববার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে শিশুদের মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৬ জন শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট রোগী ৭৩০ জন, যার মধ্যে শিশু রোগী ২৯৯ জন।   ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত হলেও কার্যকর বেড রয়েছে মাত্র ১৫০টি। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি বেড মাগুরা মেডিকেল কলেজ-এর কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য বেড সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।   গত ১৮ দিনে ঠান্ডাজনিত রোগ, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১,২০২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।   রোগীর স্বজন আলেয়া বলেন, “আমাদের বাচ্চা খুব অসুস্থ। কিন্তু হাসপাতালে এনে দেখি বেড নেই। মেঝেতে শুইয়ে রাখতে হচ্ছে। গরমে শিশুটি আরও কষ্ট পাচ্ছে, আমরা খুব অসহায়।”   আরেক রোগীর স্বজন সেলিম রেজা অভিযোগ করেন, “হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা, তার ওপর প্রচণ্ড গরমে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ফ্যান ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও ঠিকমতো নেই।”   এ বিষয়ে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. এহসানুল হক মাসুম জানান, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার রোগী অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   এ অবস্থায় দ্রুত বেড সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীতে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম সরকারি সফরে বগুড়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0 Comments