জাতীয়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট খাতের অপারেটররা।

 

জ্বালানি তেলের ঘাটতির পাশাপাশি দেশজুড়ে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৮–১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মোবাইল টাওয়ার ও ডেটা সেন্টার সচল রাখতে জেনারেটরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাড়ছে।

 

এ পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

এ বিষয়ে গত শনিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে অ্যামটব। চিঠিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মোবাইল অপারেটরদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়।

 

অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রাখতে দেশের প্রধান তিন অপারেটরের দৈনিক প্রায় ৫২ হাজার লিটার ডিজেল এবং প্রায় ২০ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন হচ্ছে। এর বড় অংশই ব্যবহার হচ্ছে ব্যাকআপ জেনারেটরে।

 

শুধু ডেটা সেন্টার ও সুইচিং সেন্টার চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে। লোডশেডিং পরিস্থিতিতে একটি ডেটা সেন্টার সচল রাখতে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০–৬০০ লিটার ডিজেল খরচ হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

 

এদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ১,৩০০ থেকে ১,৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করছে।

 

অপারেটররা বলছে, জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম, পরিবহন জটিলতা এবং বিদ্যুৎ ফিডারে টেলিকম অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কারণে নেটওয়ার্ক পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা এবং বাংলালিংক-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা ও সেবার মানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

 

অ্যামটবের মহাসচিব জানান, ডেটা সেন্টারই নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্র, এটি বন্ধ বা বিঘ্নিত হলে কল, ইন্টারনেট, মোবাইল ব্যাংকিং ও জরুরি সেবাসহ পুরো ডিজিটাল ব্যবস্থা অচল হয়ে যেতে পারে।

 

অন্যদিকে বিটিআরসি জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক আজ, অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৭ প্রকল্প

চলতি অর্থবছরের ১০ম এবং বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক আজ রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৈঠকে মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে।   উত্থাপিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের চারটি, কৃষি-পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুটি এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ১১টি প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া একনেকের অবগতির জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে, যা উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।   এর আগে গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মোট ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও সেদিন ১৯টি প্রকল্প উপস্থাপনের কথা ছিল, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে আটটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শেষে সভা স্থগিত করা হয়।   দীর্ঘদিন ধরে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সেই প্রচলিত রীতি বদলানো হয়েছে। প্রথম বৈঠকের মতো দ্বিতীয় বৈঠকও সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   আজকের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নতুন গতি যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর দ্রুত অনুমোদন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

ইউএনওর ওপর হামলা: ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি প্রশ্ন বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’, গুজব রোধে কঠোর নজরদারি: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
বায়ুদূষণে শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার অবস্থান ১৭তম

বিশ্বের শহরগুলোর বায়ুদূষণের তালিকায় আবারও শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (আইকিউএয়ার) অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টার পর দিল্লির বায়ুমান স্কোর ছিল ২৩১, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু, যেখানে বায়ুমান স্কোর ১৬২—এটিও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের চেংদু।   অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান রয়েছে ১৭ নম্বরে। ঢাকার বায়ুমান স্কোর ৯৪, যা ‘সহনীয়’ বা মাঝারি মানের হিসেবে ধরা হয়।   এর আগের দিন শনিবার ঢাকার অবস্থান ছিল ১৩তম, তখন বায়ুমান স্কোর ছিল ৯৬। একই দিনে দিল্লির স্কোর ছিল আরও বেশি—২৪৬।   আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান স্কোর ০–৫০ হলে তা ভালো, ৫১–১০০ হলে সহনীয়, ১০১–১৫০ হলে সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।   সেই হিসেবে দিল্লির বর্তমান বায়ুমান জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে ঢাকার বায়ু আপাতত সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এমপির গাড়িতে হামলা: জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন পরিকল্পনা কৃষকদের জন্য ‘যুগান্তকারী’: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে শিক্ষিকাকে মারধর, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই ছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত
স্মার্টফোনের দাম ২,৫০০ টাকায় নামাতে চায় সরকার

সরকার স্মার্টফোনের দাম আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।   শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান। ২০২৬ সালে এসেও দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে স্মার্টফোন না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ডিভাইসের দাম সাশ্রয়ী ও সস্তা করা উচিত। ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় একজন ফিচার ফোন কিনতে পারেন, আমাদের চিপেস্ট স্মার্টফোন হলো ৯০০০ থেকে ১০ হাজার টাকা। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলছি, মোবাইল অপারেটরের সঙ্গেও কথা বলছি। আমাদের টার্গেট ডিভাইস কস্ট (মোবাইল ফোনের) দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় নিয়ে আসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালকও যেন স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন। এ বিষয়ে মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার, খুচরা বিক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। একইসঙ্গে সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ নীতি চালুর পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় জন্মের পর থেকেই একটি শিশুর ডিজিটাল আইডি চালু হবে, যা ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এই ওয়ালেট ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে এবং দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্যই এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেমিনারে উপদেষ্টা মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান অবস্থাকে একটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে ভোক্তা, ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীতে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। টেলিকম খাতে উচ্চ কর কাঠামোর কারণে গ্রাহক ও অপারেটরদের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তাও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। মোবাইল ফোন সেবায় করের হার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়কারী দেশ বাংলাদেশ। একজন সাধারণ গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি ৩৮ টাকা সরকার কর হিসেবে নিয়ে নেয়। এটি মোবাইল ফোন উৎপাদক, ভেন্ডর ও অপারেটর—সবার ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে। শিল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই না হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ টেলিকম কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ টেলিকম খাতের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি প্রশ্নফাঁসের খবর ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর সমষ্টিগত জ্ঞানচর্চাই ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি

সংগৃহীত

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম থাইল্যান্ডে জুলাই যোদ্ধাহতদের খোঁজ নিলেন

0 Comments