যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর জন্য পদত্যাগ করাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’। ভেনিজুয়েলার তেল রফতানি ঘিরে দেশটির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্পের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান মাদুরো। এদিকে মাদুরো সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
সোমবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মাদুরো পদ ছাড়বেন কি না, তা তার নিজের সিদ্ধান্ত। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, সেটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’
তিনি আরো হুঁশিয়ারি দেন যে, মাদুরো যদি কঠোর অবস্থান নেন, তবে, সেটাই হবে তার শেষবারের মত কঠোর পদক্ষেপ।’
তবে, এর কয়েক ঘণ্টা পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান মাদুরো। তিনি বলেন, হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত ট্রাম্পের। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে মাদুরো বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে নিজের দেশের দিকেই মন দিলে তিনি ভালো করতেন। বিশ্বে ভালো থাকতে চাইলে নিজের দেশের কাজই সামলানো উচিত।’
এদিকে, ভেনিজুয়েলার প্রধান মিত্র রাশিয়া মাদুরো সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে থাকা মস্কো এই অবস্থান নেয় মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগের দিন। ওই বৈঠকে ভেনিজুয়েলার ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে কথিত মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলা ও দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা রোববার এএফপিকে জানান, তৃতীয় একটি জাহাজের পেছনে ধাওয়া চলছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সের্গেই লাভরভ ও ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিলের মধ্যে আলোচনায় ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি রাশিয়া পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে, এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এসব অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে জেলেরাও ছিলেন বলে পরিবার ও বিভিন্ন সরকার জানিয়েছে।
ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ ট্রাম্প ভেনিজুয়ায় যাতায়াতকারী ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের’ বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের অভিযোগ, মাদুরোর অধীনে কারাকাস তেলের অর্থ ব্যবহার করছে ‘মাদক সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণে’ অর্থ যোগাতে। তিনি আরো বলেন, ভেনিজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সব তেল নিয়ে নিয়েছে’। এটি দেশটির তেল খাত জাতীয়করণের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেটা ফেরত চাই।’
এর জবাবে কারাকাস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ওয়াশিংটন সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’র অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে ভেনিজুয়েলা।
রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে জাতিসংঘে, উভয় দেশ সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। ভেনিজুয়েলার আরেক মিত্র চীনও নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার অভিযোগ, এটি ‘চলমান মার্কিন আগ্রাসন’ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল জানান, তিনি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্যারিবীয় অঞ্চলে সংঘটিত ‘আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাহাজে হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চালানো বেআইনি জলদস্যুতা কার্যক্রম।
গিল বলেন, এসব বৈরী তৎপরতার মুখে মস্কোর ‘পূর্ণ সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন লাভরভ।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কারাকাসের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থনকে গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়বে—এ নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন নয়। কারণ, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার ‘অত্যন্ত ব্যস্ত পরিস্থিতে রয়েছে।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো সমাধান না হওয়ায় মস্কোর প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাদুরোর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পড়ে শোনান গিল। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানির সরবরাহে প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইসরায়েল ও মধ্যপ্র্যাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ৩৪তম দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সর্বশেষ দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রসহ ছুড়েছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি এসব তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসি মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ৩৪তম দফায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ও বাহরাইনের জুফায়ার বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের নিশানা করা হয়। পাশাপাশি ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দর নিশানা করা হয়। এ ছাড়া ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে আঘাত হেনেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্যে নতুন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এক ইসরায়েলি সেনাকে নিহত দাবি করলেও তিনি নিজেই জানিয়েছেন—তিনি সম্পূর্ণ জীবিত। সম্প্রতি এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। ওই সেনা জানান, কয়েক দিন আগে ঘুম থেকে উঠে তিনি জানতে পারেন যে তাকে নাকি মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি ফেসবুক গ্রুপে তার ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে, তিনি ইসরায়েলের আটজন আইডিএফ রিজার্ভ সেনার সঙ্গে নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “এক বন্ধু আমাকে ‘ইরানিয়ান মিলিটারি’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের স্ক্রিনশট পাঠায়। সেখানে আমার একটি পরিষ্কার ছবি ছিল এবং আরও সাতজন আইডিএফ রিজার্ভ সেনার ছবিও দেওয়া ছিল। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল—আটজন আইডিএফ সৈন্য নিহত, যার মধ্যে আমিও আছি।” ঘটনার শুরুতে বিষয়টি শুনে তিনি হেসেই উড়িয়ে দেন। তার ভাষায়, “প্রথমে মনে হয়েছিল এটি সেই ধরনের অদ্ভুত ইন্টারনেট গুজব, যা কিছু সময়ের জন্য দেখা যায় এবং পরে হারিয়ে যায়।” তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক বার্তা আসতে শুরু করলে বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। তিনি বলেন, “পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। তখন মনে হলো আমার পরিবারের সদস্যরা হয়তো আমার কাছ থেকে কিছু শোনার আগেই এই খবরটি দেখতে পারেন।” এ কারণে তিনি দ্রুত তার স্ত্রী ও বাবা-মাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি তাদের বলেন, “ইরানের সামরিক বাহিনীর মতে আমি নাকি মারা গেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ঠিকই আছি।” প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের শাসনব্যবস্থা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর কৌশল ব্যবহার করে আসছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও প্রক্সি বাহিনীর পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধকেও তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ইসরায়েলি সেনা হতাহতের ভুয়া খবর, কাল্পনিক যুদ্ধজয়ের গল্প এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা না পেলে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতেই এসব কৌশল ব্যবহার করা হয়। ওই সেনা আরও বলেন, কৌতূহলবশত তিনি পরে ইরানের সামরিক বাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও যান। সেখানে তিনি নিম্নমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কিছু ছবি দেখতে পান, যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকেও মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার মতে, বাস্তবতা হলো—লাখ লাখ ইরানি নাগরিক এসব চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য পান। অনেকের কাছে এসব প্রচারণা কল্পকাহিনি নয়, বরং সত্য ঘটনা হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রতি অসন্তুষ্ট এবং মোজতবা খামেনিকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি না যে তিনি শান্তিতে থাকতে পারবেন। তাকে কোনোভাবেই আমি শান্তিতে থাকতে দেব না। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রাথমিক ফলাফলের প্রশংসা করে বলেন, ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযান ইতোমধ্যেই হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। মার্কিন বাহিনী প্রথম হামলায় ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যখন আমরা প্রথমে তাদের আক্রমণ করি, তখন তাদের ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিই এবং যদি আমরা তা না করতাম, তাহলে লড়াই আরও কঠিন হত। ইরানি নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, শর্তের ওপর নির্ভর করে আলোচনা সম্ভব। আমি শুনছি তারা কথা বলতে চায়। এটা সম্ভব, তবে সংলাপের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি অবাক হয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে।