অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলি নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। বতর্মানে তাদের নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। এদিকে মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তি চেয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার নারী। এ সময় বিক্ষোভকারী নারীরা হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্যারোলিনা নামের এক নারী বলেন, আমরা আমাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফাস্ট লেডি এবং আমাদের প্রথম নারী যোদ্ধা সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তির দাবি জানাতে এখানে জড়ো হয়েছি। ১৯৯৪ সালে হুগো চাভেজকে মুক্ত করার পর থেকেই মাদুরো আমাদের পথপ্রদর্শক। আর আমরা তার সঙ্গেই আছি। তিনি আরও বলেন, মাদুরো ফিরে না আসা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়ব না।
গেল শনিবার ভেনেজুয়েলায় সামারিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন বাহিনী দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালায় এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি বিমান অংশ নেয় এবং এতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার সদস্যসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হন।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মেক্সিকো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও চিলিসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ এবং ব্রিকস সদস্য রাশিয়া ও চীন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
১৯ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনাস্থলে পুলিশ ট্রাকের ওপর মিনিবাসের ধ্বংসাবশেষ। ছবি : রয়টার্স দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানেসবার্গ শহরের দক্ষিণে একটি মিনিবাস ও একটি লরির সংঘর্ষে ১৩ জন স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিনিবাসটিতে শিক্ষার্থীরা যাত্রা করছিল। স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টা নাগাদ ভ্যান্ডারবাইলপার্ক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ১১ জন শিক্ষার্থী মারা যায়। পরে আরো দুজন আহত অবস্থায় মারা যায়। আরো দুইজন শিক্ষার্থী গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র মাভেলা মাসোন্দো জানান, দুটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করার সময় মিনিবাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। মাসন্দো বলেন, এ ঘটনায় ‘অনিচ্ছাকৃত শাস্তির যোগ্য হত্যাকাণ্ড’ মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। গাউতেং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, মিনিবাসের চালককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে লরির চালকের কী হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য ‘অনিশ্চিত’। দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা যানবাহনের মতো কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা সাধারণ। ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ হাজার ৪১৮ জন নিহত হয়েছেন—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম। তবে দৈনিক গড়ে ৩১ জন মৃত্যুর হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবারের দুর্ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুরাই জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সড়ক আইন মেনে চলা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে নিয়োজিত সেবাদানকারীদের মান নিশ্চিত করা, এ সবকিছুই করতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। ছবি : সংগৃহীত ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো তার ২০২৫ সালে প্রাপ্ত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ ঘটনার কয়েক দিন পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নোবেল ফাউন্ডেশন। তারা জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কার কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া, ভাগ করা বা হস্তান্তর করা যায় না; এমনকি প্রতীকীভাবেও এটি সম্ভব নয়। রোববার (১৮ জানুয়ারি) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে নোবেল ফাউন্ডেশন জানায়, ‘একটি পুরস্কার প্রতীকীভাবেও অন্যের কাছে হস্তান্তর বা বিতরণ করা যাবে না। নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ও এর প্রশাসনিক কাঠামো রক্ষা করাই ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’ নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী মানবজাতির সর্বাধিক উপকারে অবদান রাখা ব্যক্তিতের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে কোন পুরস্কার কে প্রদান করবে এবং কাকে দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মারিয়া করিনা মাচাদো তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তাকে উপহার দেন। সে সময় মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের অনন্য প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদক তাকে উপহার দেওয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান, তিনি মাচাদোর কাছ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মারিয়া করিনা মাচাদোর সঙ্গে দেখা করা আমার জন্য বড় সম্মানের। তিনি আমাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিয়েছেন। এটি পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন। ধন্যবাদ মারিয়া!’ নোবেল কমিটি এর আগে জানায়, নোবেল পুরস্কার বাতিল, ভাগ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। মাচাদোর পদক উপহার দেওয়ার পর নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটও স্পষ্ট করে জানায়, পুরস্কারটি অবিচ্ছেদ্যভাবে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই যুক্ত থাকে, যিনি বা যারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ইরানের দূতাবাসের ছাদে উঠে পতাকা নামানোর ঘটনায় এক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। একই সাথে আরও কয়েকজনকে সহিংস বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মেট্রোপলিটন পুলিশ শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, চলমান বিক্ষোভের সময় এক ব্যক্তি অবৈধভাবে দূতাবাসের নিজস্ব এলাকায় প্রবেশ করে একাধিক বারান্দা পেরিয়ে ছাদে ওঠেন এবং সেখান থেকে একটি পতাকা নামিয়ে ফেলেন। পুলিশ জানায়, চলমান বিশৃঙ্খলার মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় সহিংস বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। গত সপ্তাহে লন্ডন পুলিশ ইরানের দূতাবাসে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ও নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। এর আগে, গত সপ্তাহে শনিবার এক বিক্ষোভকারী লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের পতাকা নামিয়ে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ব্যবহৃত পতাকা উত্তোলন করেন। এদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সব বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজার বন্ধের মাধ্যমে শুরু হয়, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা অপসারণের দাবিতে গণআন্দোলনে রূপ নেয়।