বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা, চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং সেই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি।

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী সময়ে শুরু হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, তেহরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে তবেই ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান।

 

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহেও দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচকরা ‘একটি দারুণ সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন এবং খুব শিগগিরই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

 

শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত সমঝোতার কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেগুলো সত্যের প্রতিফলন নয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।

 

চলমান আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। এই আলোচনা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করবে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

 

তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এরপর ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে, যার মূল বিষয় হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত এই ইউরেনিয়াম দেশটির ভেতরেই ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

অর্থনৈতিক বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো অর্থ আগাম দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে তারা ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছেন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল বড় ধরনের আলোচনার আগেই ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হবে।

 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপও পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।

চুক্তির আওতায় ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং অঞ্চলের অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সমঝোতা পারস্পরিক আস্থা বা প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং ‘কার্যকর বাস্তবায়নের’ ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, ইরান যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান এবং মধ্যস্থতাকারী আরেক দেশ কাতারের পক্ষ থেকে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করা হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হতে এখনো কিছুটা পথ বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাসে এমন কয়েকটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেস্তে গেছে।

 

তবে এবার পার্থক্য হলো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগের চেয়ে বেশি আশাবাদী এবং চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও তুলনামূলক বেশি খোলামেলা অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ‘আলোচনার শেষ ধাপ সম্পন্ন হলেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা হতে পারে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রথম বিষয়ই হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

 

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ব্যবস্থাপনা ‘আগের মতো থাকবে না’। প্রণালি বন্ধ করার পর থেকে ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, সব জাহাজের জন্য এই পথ উন্মুক্ত ও অবাধ থাকা উচিত।

 

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান, সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আগের কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লেবাননের বিষয়টি এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। তবে ইরান এটি অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে জোর দিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে তার দেশ।

সূত্র: বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ইহুদিবিদ্বেষ রুখতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ও কঠোর ভিসানীতি ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ও কঠোর ভিসানীতির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।      মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা সহিংসতা উসকে দেন- এমন বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।      সম্প্রতি রুবিও’র এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, ইসরাইলের সমালোচনা করলে কী যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেবে না।    এক ভিডিও বার্তায় রুবিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।    তার ভাষায়, যারা ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় বা সহিংসতাকে উৎসাহিত করে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ থাকবে।    তার দাবি, ইসরাইলবিরোধী কিছু উগ্র বক্তব্য প্রায়ই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রচারসামগ্রীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসরাইল ঘিরে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকাও ওয়াশিংটন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘আব্রাহাম চুক্তি’ আরও বিস্তারের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আশা করছে।    তার মতে, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধের ৫ বছরে রাশিয়ার সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

চীনের নতুন জাতিগত ঐক্য আইন: সংহতি নাকি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন?

মোদির ভিডিও অপসারণ ইস্যুতে জাকারবার্গকে ৩ দিনের আলটিমেটাম

সবাইকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জাইমা রহমানের

সাধ্যমত সবাইকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আহ্বান জানান।   জাইমা রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, ইতিহাসকে গুছিয়ে ড্রয়ারে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা যায় না; এটি আমাদের অন্তরে জীবন্ত। আমি সাধ্যমত সবাইকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানাই।   তিনি আরও লিখেছেন, পরিদর্শনের সময়টুকু নিয়ে আত্মস্থ করুন, বুঝুন এবং গভীরভাবে চিন্তা করুন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এটি আপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক কর্তব্য হতে পারে।   এ সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার একটি উক্তি দিয়ে বলেন, ‘প্রকৃত মীমাংসা সহজে আসে না, কিন্তু যখন আমরা সম্মিলিতভাবে আমাদের ইতিহাসের সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহস রাখি, তখন তা সম্ভব হয়।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২, আহত কয়েক ডজন

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। ছবি: এএফপি

ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কী ঘটছে? একের পর এক আত্মহত্যায় তদন্ত

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি : সংগৃহীত

ভারতে শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে অবস্থান জানাল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি : সংগৃহীত
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে পাঁচটি দেশের মার্কিন মিশন বন্ধের সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের পাঁচটি দেশে থাকা নিজেদের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। সোমবার (৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। কোনো বড় ভূরাজনৈতিক সংকট ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক বিদেশি মিশন বন্ধের এমন উদ্যোগকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেস, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেন্ট জর্জেসে একটি দূতাবাস, নাগোয়া, মেদান ও উইনিপেগে কনস্যুলেট এবং ডুয়ালায় দূতাবাসের একটি শাখা কার্যালয় রয়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রায় এক ডজন বিদেশি মিশন বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিল। এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সরকারি ব্যয় কমানো এবং প্রশাসন পুনর্গঠনের বৃহত্তর কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত।Executive Branch   হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) আরও বড় পরিসরে প্রায় ৩০টি বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, ছোট কিছু কূটনৈতিক মিশনের কার্যকারিতা সীমিত হলেও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি।   তবে সাবেক কূটনীতিক, জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট নেতারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের প্রভাব দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো আরও বেশি কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে।     গত বছর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়। কয়েক ডজন বিভাগ পুনর্গঠন এবং শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হলেও সে সময় কোনো বিদেশি মিশন বন্ধ করা হয়নি।     এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অবহিত করাসহ সব আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ব্যয় কমানো এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে আরও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে।     বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেবল ব্যয় সংকোচনের বিষয় নয়; বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে মার্কিন কূটনৈতিক মিশন সংকোচনের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।  তথ্যসূত্র: রয়টার্স

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম: ভিসা ফি বাড়ার সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনি আকাশসীমা লঙ্ঘনের জবাবে সৌদির বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা

ধসে পড়া ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১২৫

0 Comments