আন্তর্জাতিক

লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২৩, ২০২৫

লন্ডনে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৯০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) গ্রেফতার নিশ্চিত করেছে দেশটির মেট্রোপলিটন পুলিশ। এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট মনিটর এ তথ্য জানায়। 

 

পুলিশ জানায়, ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা ব্রিটেনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন জানিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।

 

বিক্ষোভকারীরা লন্ডনের টাভিস্টক স্কয়ারে জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা ও বিভিন্ন পোস্টার নিয়ে স্লোগান দেন। অনেক ব্যানারে লেখা ছিল, 'আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।' 

 

ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছে, শান্তিপূর্ণভাবে পোস্টার ধরে দাঁড়ানো মাত্রই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার শুরু করে। 

 

তারা জানায়, টাভিস্টক স্কয়ারকে 'শান্তি উদ্যান' হিসেবে পরিচিত—যেখানে যুদ্ধবিরোধী স্মৃতিস্তম্ভও রয়েছে—সেখানে এই গ্রেফতার উদ্বেগজনক। সংগঠনটি 'নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার'-এর দাবি জানায়।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন অনুযায়ী চলতি বছরের জুলাইয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, যার পর থেকে এই সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানানো বা পোস্টার বহন করায় শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

এদিকে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত, ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত, এবং পুরো অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও প্রায় ৫০০ বার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অরুণাচল সীমান্তে এখনও মুখোমুখি ভারত-চীন, স্বীকার করল আইটিবিপি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তজুড়ে চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ভারত। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি)-এর মহাপরিচালক শত্রুজীত কাপুর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে একাধিক স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।   রাজস্থানের আলোয়ারে আইটিবিপির সেন্ট্রাল ট্রেনিং কলেজে আয়োজিত বার্ষিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ‘হিমবীর সম্মান সমারোহ’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় কাপুর জানান, আইটিবিপির কমান্ডোরা বর্তমানে এই সীমান্ত উত্তেজনার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।   তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কয়েকটি স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের সদ্য গঠিত ‘শৌর্য’ কমান্ডোরা এতে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেছেন।   মহাপরিচালক কাপুর আরও জানান, আইটিবিপি মূলত পাহাড়ি গেরিলা বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং ২০০৪ সালে এদের চীন সীমান্তে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাহিনীটি তাদের মূল ভূমিকা থেকে সরে আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বাইরে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য বিশেষায়িত একটি ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। শিগগিরই ‘শৌর্য’ কমান্ডোদের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় মোতায়েনই এই বাহিনীর শক্তি।   চীন সীমান্তে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে ভারত আইটিবিপি প্রধান জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তে যতগুলো উপরিভাগের বা ওভারগ্রাউন্ড অবকাঠামো রয়েছে, ঠিক ততসংখ্যক ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড আশ্রয়কেন্দ্র বা শেল্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটির ওপরের যেকোনও স্থাপনাই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাই ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে প্রতিটি কোম্পানিতে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত বাথরুম, বায়ু চলাচল ও ড্রেনেজ সুবিধাসহ সুবিধাজনক স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করা। নকশা চূড়ান্ত হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টে সমসংখ্যক ভূগর্ভস্থ ও মাটির ওপরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।   তাকসিংয়ের কাছে চীনের তাঁবু? সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতের বার্তা সংস্থা দ্য হিন্দু জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের ‘মাজা কোম্পানি অপারেটিং বেস’-এর কাছে ‘আসাফিলা’ এলাকায় ভারত ও চীন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) নিয়ে ভারতের ধারণার ৬ থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে একটি উচ্চতায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাঁবু খাটিয়েছে বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় মাজার কাছে ভারত ও চীনের সেনারা মুখোমুখি হন। সংক্ষিপ্ত তর্কের পর উভয় পক্ষই পিছু হটলেও কয়েক দিন পর চীন বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়ে ফিরে আসে এবং তাঁবু স্থাপন করে। এর জবাবে ভারতও সেখানে তাদের সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি করেছে।   কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও এই সীমান্ত অচলাবস্থা বজায় রয়েছে। গত ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এছাড়া গত জুলাই থেকে দুই দেশের মধ্যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ আগস্ট ৩৬তম ডব্লিউএমসিসি বৈঠক, ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের উপস্থিতিতে ২৫তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠক এবং ৬ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের বাচা-দামাই পয়েন্টে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন সেক্টরের কর্পস কমান্ডার স্তরের বৈঠক। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে এ ধরনের বৈঠকগুলো প্রধানত পূর্ব লাদাখের চুসুল-মোলদো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিলো।    সূত্র: উইয়ন নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭৫ বছরে একবারও কর্মী ছাঁটাই করেনি যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরের হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে ইসরায়েলি বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহত ১,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরের সাবমেরিন ক্যাবলে আঘাত হানবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে নতুন কোনো সামরিক আগ্রাসন এলে পারস্য উপসাগরের সমুদ্রগর্ভস্থ যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ক্যাবলে (সাবমেরিন ক্যাবল) বড় ধরনের হামলার ছক কষেছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কিংবা সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইরানের মূল নিশানায় পরিণত হবে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা খুব বেশি বিস্তারিত তথ্য দেননি এবং তেহরান কীভাবে বা ঠিক কোথায় এ ধরনের হামলা চালাবে তা বলেননি। তবে তাদের একজন জানান, হামলার পর মেরামত কাজ ব্যাহত করাই হবে ইরানের লক্ষ্য, যাতে ইন্টারনেট সংযোগসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করা যায়।   ওই কর্মকর্তাদের একজন বলেন, 'ইরানে হামলা চালানো হলে আর কোনো লাল রেখা (রেড লাইন) থাকবে না... সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবল থেকে শুরু করে গোপন ঘাঁটিসমেত সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত।'   ওয়াশিংটনকে 'আগুন নিয়ে খেলা' না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলগুলোতে ইরানের সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং তারা সহজেই এগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।   ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি বুধবার জানান, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা সাতটি প্রধান ইন্টারনেট ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু করতে পারে ইরান।   জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মতে, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। তবে টেলিযোগাযোগ গবেষণা সংস্থা টেলিজিওগ্রাফির গবেষণা পরিচালক অ্যালান মল্ডিন জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের মাত্র ১ শতাংশেরও কম চলাচল করায় ইরানের এমন হামলার বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।   হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানকে পৃথক করেছে এবং পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই বক্তব্যের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলে সম্ভাব্য হামলার এই পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায় যে, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এই বিশ্বাস কাজ করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে দিতে হবে। শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই চলতি মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাগারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল অবকাঠামোকে নিশানা করা হতে পারে। ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্ররা এ ধরনের অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে এবং তাদের 'সমুদ্রগর্ভস্থ ক্যাবলের যেকোনো ক্ষতির জন্য তেহরানকে নয়, ওয়াশিংটনকে দায়ী করা উচিত' বলে মন্তব্য করেন ইরানের দ্বিতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, নতুন সংঘাত ঠেকানো এবং এই অঞ্চলে উপসাগরীয় সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ার ভীতি তৈরি করে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এসব হুমকির মূল উদ্দেশ্য। ভাতানকা বলেন, 'তেহরান চায় উপসাগরীয় দেশগুলো ও করপোরেট নির্বাহীরা যেন (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড) ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন, যাতে তাঁর নীতি তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যে ঝুঁকি তৈরি করছে তা তুলে ধরা যায়।' বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক ক্যাবল কেটে দেওয়া হলে ইন্টারনেট সেবা ধীরগতির হতে পারে এবং আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং বিঘ্নিত হতে পারে। মল্ডিন জানান, এর প্রভাব নির্ভর করবে অপারেটররা কীভাবে ইন্টারনেট ট্রাফিক বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নেয় এবং বিকল্প সংযোগে কতটা ধারণক্ষমতা রয়েছে তার ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে সংযোগ পুনরুদ্ধার করা কঠিন হতে পারে; এছাড়া বর্ধিত বীমা খরচ এবং জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি পেতে বিলম্ব মেরামত কাজকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালির তুলনায় লোহিত সাগর আরও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, বিশেষ করে যদি ইরানের সাথে ইয়েমেনের মিত্র হুথিদের সমর্থন থাকে। যদিও তেহরান সেখানে ক্যাবল লক্ষ্যবস্তু করার কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি। মল্ডিন জানান, ইউরোপ, পূর্ব আফ্রিকা এবং এশিয়ার মধ্যে ডেটা বহন করে লোহিত সাগর; যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী ট্রাফিকের প্রায় ১০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় সরকারগুলো তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক হাব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রযুক্তিতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে, যা মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করেছে। গত মার্চে ইরানের হামলায় সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছিল এবং বাহরাইনে এর একটি স্থাপনার সংলগ্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মার্চে যুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় আইআরজিসি মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল এবং এনভিডিয়াসহ মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছিল। স্থলভিত্তিক সংযোগগুলো ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে; ফলে সক্ষমতা বাড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলো ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে। মাইক্রোসফটের পরিকল্পনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সমুদ্রগর্ভস্থ ও স্থলভিত্তিক সংযোগে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করার।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল বিস্তীর্ণ অঞ্চল

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অক্টোবরই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

ছবি: সংগৃহীত
পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে কেন স্থবির পুরো পশ্চিম তীর?

অধিকৃত পশ্চিম তীরের খলিল (হেব্রন) শহরে সাম্প্রতিক হামলার পর গোটা পশ্চিম তীরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইলি প্রশাসন। এই ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দল লিকুদের সমস্ত নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে সরাসরি ঘটনাস্থলে যান। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পর থেকে পুরো অঞ্চলে থমথমে ও চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।   ঘটনার পরপরই ইসরাইলি বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। হামলার আশপাশের ফিলিস্তিনি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের টার্গেট করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে চরম বাধা তৈরি করছে।   যদিও মূল হামলার ঘটনাটি রামাল্লা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত খলিলে ঘটেছে—তা সত্ত্বেও এর সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ফিলিস্তিনের প্রশাসনিক কেন্দ্র রামাল্লায়। নেতানিয়াহুর ঘোষিত ‘পূর্ণাঙ্গ লকডাউন’-এর আওতায় ইসরাইলি সেনাসদস্যরা রামাল্লা শহরের প্রায় প্রতিটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।   হামলার খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই রামাল্লায় ফিলিস্তিনিদের যাতায়াত ও চলাচলের ওপর এই কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষদের শহরে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। মূল কেন্দ্র থেকে দূরে হওয়া সত্ত্বেও রামাল্লাকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় ‘চাম্পি’র তাণ্ডবে বিপাকে তাইওয়ানবাসী

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছর পরও গাদ্দাফির স্মৃতি কেন তাড়া করে ফিরছে লিবিয়াকে

প্রতীকী ছবি

পিএইচপির কোডিং ত্রুটিতে সাইবার ঝুঁকিতে ৭০% ওয়েবসাইট, নেপথ্যে কী?

0 Comments