গোলের বন্যা, উত্তেজনা, হাতাহাতি আর লাল কার্ড—সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাবহুল এক ম্যাচ দেখল বাফুফে নারী লিগ। রোববার (৪ জানুয়ারি) কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফরাশগঞ্জ ক্লাব ২৩–০ গোলে কাচারীপাড়াকে বিধ্বস্ত করে।
ভুটান নারী লিগে অতিরিক্ত গোলের ম্যাচ নিয়ে একসময় সমালোচনা হয়েছিল। অথচ এশিয়া কাপের ঠিক আগমুহূর্তে এমন একতরফা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ম্যাচেই মাঠে নামছেন জাতীয় দলের ফুটবলাররা—যা নতুন করে লিগের মান ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
২৩ গোলের এই ম্যাচে শুধু গোল নয়, উত্তেজনাও ছিল চরমে। খেলা শুরুর মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রথম গোল করে ফরাশগঞ্জ। তবে ২১ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয় মোড় নেয়। দুই দলের একাধিক খেলোয়াড় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারিদের বেশ সময় নিতে হয়। মাঠের রেফারিরা একাধিক দফা ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমা ও কাচারীপাড়ার সামিয়া আক্তারকে লাল কার্ড দেখানো হয়। প্রায় ১৫ মিনিট বিরতির পর আবার খেলা শুরু হয়।
পুনরায় খেলা শুরু হতেই ফরাশগঞ্জের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই তারা আবার গোল পায়। প্রথমার্ধ শেষেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৮–০। বিরতির আগে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ও অনামিকা ত্রিপুরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফরাশগঞ্জের গোল উৎসব আরও তীব্র হয়। বিরতির পর যোগ হয় আরও ১৫টি গোল। ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা করেন জোড়া হ্যাটট্রিক। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা খাতুনও। শামসুন্নাহার সিনিয়র করেন দুই গোল। এছাড়া একবার করে জাল খুঁজে পান মনিকা চাকমা, সামিক্ষা ঘিমিরে, অনামিকা ত্রিপুরা, মানুচিং মারমা, প্রীতি ও তৃষা।
রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষ হয় ১০টার পর। ঘটনার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হয়। যদিও নারী লিগের প্রচারের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতার ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২৩ গোলের এই ম্যাচ শুধু ফলাফলের কারণেই নয়—এর ভেতরের বিশৃঙ্খলা, উত্তেজনা এবং প্রতিযোগিতার প্রশ্নবিদ্ধ চিত্রের জন্যও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোল দেখে মনে হয়েছিল চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় জয়ই পেতে যাচ্ছে পর্তুগাল। সেই আভাস প্রথমার্ধের শেষ দিকেই দিয়ে দিল দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো। ইয়োনে উইসার দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে আসে সমতা। সেখান থেকে আর লিড নিতে পারেনি পর্তুগাল। ড্রয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগালকে। আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পায় ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে ধার বাড়ায় পর্তুগাল। কিন্তু একের পর এক মিস বল জালের দেখা পায়নি। ৫৪ মিনিটে হোয়াও ক্যানসেলোর একটি ওভারহেড শট জালে গেলেও অফসাইডে বাদ পড়ে। এরপর আক্রমণ তৈরি করলেও সেটিতে ধার ছিল না। সবমিলিয়ে ফিফা র্যাংকিংয়ের ৫ নম্বর দলকে আটকে দিয়েছে ৪৬ নম্বরে থাকা ডিআর কঙ্গো। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া কঙ্গোর ফুটবলে দিনটি ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে।
লর্ডস টেস্টের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে ওভালে নামছে ইংল্যান্ড, অভিষেক হচ্ছে তিন জনের। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের দিন কন্যা সন্তানের বাবা হওয়ার সুখবর পেয়েছেন জেমি স্মিথ। এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। তার জায়গায় টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন তরুণ কিপার-ব্যাটসম্যান জেমস রু। তাতে সাড়ে সাত দশক আগের একটি স্মৃতি ফিরছে ইংলিশ ক্রিকেটে। ওভালে বুধবার শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। স্মিথকে রেখেই সোমবার ঘোষণা করা হয় ইংল্যান্ডের একাদশ। তখনই অবশ্য জানানো হয়েছিল, স্মিথ ছুটিতে গেলে তার জায়গায় খেলবেন রু। মঙ্গলবার ভোরে স্মিথের সঙ্গী কেট দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্মিথকে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি তার সঙ্গী ও পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন। লর্ডসে জেতা প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে ওভালে নামছে ইংল্যান্ড, অভিষেক হচ্ছে তিন জনের। গত সপ্তাহে লন্ডনের একটি নাইটক্লাবের ঘটনায় অধিনায়ক বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনকে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি। হাঁটুর চোটে দল থেকে বাদ পড়েন অলি রবিনসন। লর্ডসে পেস সহায়ক উইকেটে শোয়েব বাশিরের অফ স্পিনের প্রয়োজন না হওয়ায় তাকেও বাইরে চলে যেতে হয়েছে। এবার ছুটিতে গেলেন স্মিথ। রুর মতো টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন ব্যাটসম্যান জর্ডান কক্স ও পেসার সনি বেকার। ফিরেছেন দুই পেসার জফ্রা আর্চার ও ম্যাথু ফিশার। ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম একাদশে তিন জন অভিষিক্ত ক্রিকেটারকে নিয়ে টেস্ট খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। আর ১৯৫১ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড এমন পাঁচ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে টেস্ট খেলবে, যাদের কেউ এর আগে একটির বেশি টেস্ট খেলেননি। তিন জন তো খেলবেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট। এছাড়া এমিলিও গে ও ফিশারের একটি করে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। লর্ডসে অভিষেক হয় ওপেনার গের। ২০২২ সালের মার্চে অভিষিক্ত ফিশার দ্বিতীয় টেস্ট খেলবেন চার বছর পর। ২২ বছর বয়সী রু প্রথমবার ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ডাক পান গত বছর। কয়েক বছর ধরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিকভাবে রান করে আসছেন তিনি। ২০২৩ মৌসুমের শুরু থেকে প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতাটিতে ১১টি সেঞ্চুরি করেছেন দারুণ প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার। এখন পর্যন্ত ৬৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫৫.১৩ গড়ে তার রান তিন হাজার ৯২১। সেঞ্চুরি ১২টি, ফিফটি ১৭টি। দ্বিতীয় টেস্টের ইংল্যান্ড একাদশ: এমিলিও গে, বেন ডাকেট, জ্যাকব বেথেল, জো রুট (অধিনায়ক), হ্যারি ব্রুক, জেমস রু (উইকেটকিপার), জর্ডান কক্স, জফ্রা আর্চার, জশ টং, ম্যাথু ফিশার, সনি বেকার।
লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সে দাপুটে জয়ে আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তবে ম্যাচে প্রথম গোল করার পর তার চোখের পানি অনেক সমর্থকের মধ্যেই কৌতূহলের জন্ম দেয়। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মেসি জানান, তার আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ম্যাচের আগে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কিছু কঠিন ও জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। মেসি বলেন, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কিছু কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। বিষয়টি পুরোপুরি খেলাধুলার বাইরের ছিল। তবে তিনি সেই কঠিন সময়ের বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি। বরং পাশে থাকার জন্য সতীর্থদের এবং আর্জেন্টিনা দলের পুরো প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান। তার ভাষায়, পুরো দলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা অনেক চেষ্টা করেছে যাতে আমি ভালো থাকতে পারি। নিজের বর্তমান ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেন মেসি। দীর্ঘ সাফল্যময় পথচলার পর এই সময়টিকে তিনি জীবনের বিশেষ এক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। মেসি বলেন, আমার জীবনে যা কিছু এসেছে, সবকিছু অনুভব করতে পেরে আমি আনন্দিত। এখন যা উপভোগ করছি, সেটাই যেন কেকের ওপরের চেরি। এই অসাধারণ দলের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি খুবই খুশি এবং কৃতজ্ঞ। এদিকে দলের পারফরম্যান্স এবং মেসির অবদান নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, লিওকে নিয়ে বলার মতো ভাষা আমার নেই। সে অবিশ্বাস্য। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের অন্যতম হিসেবেও নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। আবেগ, অভিজ্ঞতা ও অনন্য নৈপুণ্যের মিশেলে বিশ্বকাপের শুরুতেই আবারও নিজের মহত্ত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি।