কোরীয় বিনিয়োগ আনতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (পিবিআইএল) ও কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই)। চুক্তির মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং পুঁজিবাজারে তাদের প্রবেশ সহজ করা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কৌশলগত অংশীদারত্বে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে কেবিসিসিআই কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দীন খান, মহাসচিব মিলিয়ন পার্ক ও পরিচালক চৈতন্য কুমার দে। প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এম ওমর তায়ুব। এ ছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অংশীদারির মাধ্যমে বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক ও বিনিয়োগ সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও আর্থিক সেবা প্রদানে একসঙ্গে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।
চুক্তির আওতায় কেবিসিসিআই সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা দেবে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে মূলধন সংগ্রহে সহায়তা, ব্যবসায়িক পরামর্শ, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা এবং ডিসক্রিশনারি ইনভেস্টমেন্ট সেবা।
এর ফলে কোরীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পাবেন এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিশেষায়িত আর্থিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রবাসীদের বিনিয়োগ কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের এমডি ও সিইও সৈয়দ এম ওমর তায়ুব বলেন, এই সহযোগিতা কৌশলগত বিনিয়োগ সহজ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিনিয়োগ সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দীন খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ এখন একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। এই অংশীদারির মাধ্যমে কোরীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে প্রবেশ আরো সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের আধুনিক নাইন এম এম পিস্তল দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু অস্ত্র নয়, এর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব হাজতখানা ও অপরাধী শনাক্তে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডসহ প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষার জন্য উন্নত ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে। মামলা জট ও বিচারহীনতার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘বিচারকের স্বল্পতার কারণে শুধু ঢাকাতেই মাদকের প্রায় ৮০ হাজার মামলা ঝুলে রয়েছে।’ এসব মামলা দ্রুত শেষ করতে সরকার বিশেষ আদালত গঠনের পাশাপাশি মামলার সংখ্যা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ব্রিটিশ আমলের পুরোনো আইনের সংস্কারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশে এখনও ১৮৬৭ সালের আইন দিয়ে জুয়া খেলার অপরাধের সাজা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সরকার এই আইনের ভিত্তিগুলো শক্তভাবে দাঁড় করাতে চায়। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমনে সাইবার আইনগুলোকেও আরও কঠোর ও শক্তিশালী করা হচ্ছে।’ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাদক কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র ও যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা মাঠপর্যায়ে মাদক মাফিয়াদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে ফাইট (লড়াই) করতে পারেন। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্নত ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাবও অনুমোদন বা প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।’
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক। ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব, যা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। গারো, হাজং, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণরা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় করতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু খেলাধুলার বিকাশেই ভূমিকা রাখে না, বরং ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে চীন সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকের পর একথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব সুনিশ্চিত। আমরা চাই নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, আমাদের দেশের রোহিঙ্গা যারা রয়েছে, তারা নিজ দেশে ফেরত যাক। এ বিষয়ে চীন আমাদের কথা দিয়েছে যে, আমরা যখন চাই তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের কোনও ডায়লগ প্রয়োজন হলে সেখানে ফ্যাসিলিটেট করবে এবং আমরা সেই ভলেন্টারি এবং ডিগনিফাইতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, যেটা ইতোপূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময় শুধু সম্ভব হয়েছিল, আমরা এ বিষয়ে সামনে আলোচনা শুরু করবো। মাহাদী আমিন বলেন, ফরেন এবং ডিফেন্স এই দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশের সঙ্গে চায়নার ‘টু প্লাস টু’ একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। যেখানে দুই দেশের ফরেন মিনিস্ট্রি এবং ডিফেন্স মিনিস্ট্রি থেকে রেপ্রেজেন্টেটিভ যারা রয়েছেন, তাদের নিয়মিত ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোতে ডায়লগ শুরু হবে। এই ইন্স্ট্রুমেন্টের ডিটেলসটা ওয়ার্ক আউট করা হচ্ছে। একটি সরকার যেটি পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বহিঃপ্রকাশ সেটি নিশ্চিত করা হবে প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ চায় যেমন স্বাধীন সার্বভৌমভাবে করতে, চীনও চায় তার স্বাধীন সার্বভৌমভাবে দেশ পরিচালনা করতে। এটা একটা গ্লোবাল ভ্যালিউ যেটা আমরা হোল্ড করতে চাচ্ছি। বাংলাদেশ এবং চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি মাল্টিল্যাটারাল টাইস অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইউএন বিভিন্ন বডি বাংলাদেশের এসপারেশনস রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যেমন আমরা ইউএনজিতে যেখানে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে সেখানে চীন সহযোগিতা করেছে। চীন বাংলাদেশকে কংগ্রাচুলেট করেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সহযোগিতার জন্য ব্রিকস মেম্বারশিপের জন্য বাংলাদেশ আবেদন করবে। চীন সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু জনগণ দ্বারা ক্ষমতায়িত একজন রাষ্ট্র প্রধান সরকার প্রধান, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে এসেছেন। স্বাভাবিকভাবে আমরা দেখেছি, মালয়েশিয়া তারপর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং বর্তমানে চীনে উনাকে অনেক বেশি সম্মান, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। তিনি সমগ্র দেশের আবেগ ও গৌরবকে ধারণ করে বিশ্ব দরবারে যেভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন, শোল্ডার টু শোল্ডার স্ট্যান্ড করছেন এবং যেভাবে রিসিভড হচ্ছেন, হি ডিগনিফাইড ওয়েতে এটা বাংলাদেশের জন্য এটা অনেক বড় গৌরবের বিষয়। আমাদের আজকের যে আলোচনা হয়েছে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এখানে একটা বিষয় ক্লিয়ার যে, আমাদের একটা নিউ ব্লুপ্রিন্ট হয়েছে ফর লং টার্ম সাস্টেইন এবং এই নিউ ব্লুপ্রিন্টের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ এবং চীনের সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতা নিয়ে গিয়েছি এবং তার ওপর ভিত্তি করে আগামী বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, চীন ভূমিকা রাখবে এবং যেখানে আমাদের কোঅপারেশন দরকার চীনের, আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আর সমস্যাটা হলো, আমাদের দেশে একটা দুর্বল সরকার ছিল বিগত বছরগুলোতে, একটা রেজিম ছিল, তার দুর্বলতার ভিত্তিকে ভর করে এই ক্রাইসিসটা একটা কন্ট্রোলার বাইরে নিয়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে প্রবেশ একটা টপ ন্যাশনাল সিকিউরিটি কন্সার্ন। প্রথম উদ্যোগ যে নিতে হবে, আমরা নেবো। গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা চীনকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবো।