খুলনা ও বরিশাল বিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাগেরহাটসহ ৭ জেলার ১০টি আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৮টি রুটে ধর্মঘট চলবে।
সরকারি অনুমতি ছাড়া বিআরটিসি ও ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নছিমনসহ সব প্রকার থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে রোববার (১৬ নভেম্বর) বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সমিতির নেতারা। এ ছাড়া শহরের শহীদ মিনার সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রুপসা বাগেরহাট বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারি অনুমতি ছাড়া বিআরটিসি ও ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নছিমনসহ সব প্রকার থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা হয়নি। আমাদের তিন দফা দাবি তারা মেনে না নেওয়ায় খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠিসহ বরিশাল বিভাগের ৭টি জেলার ১০টি বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৮টি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ দক্ষিণাঞ্চলের মালিক-শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে বৈষম্য ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিআরটিসি নামধারী গাড়িগুলো লাগামহীনভাবে সড়কে চলাচল করছে। নিলামকৃত বিআরটিসি গাড়ি নিলাম কিনে কোনোরকমে মেরামত করে বিআরটিসির নাম ব্যবহার করে চলাচল করছে। যা সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থি। প্রভাবশালীরা ডিপো ম্যানেজারদের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজসে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস মালিক ও শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া সরকারি অনুমোদনবিহীন অবৈধ ইজিবাইক, মাহিন্দ্র, নছিমন, করিমন যত্রতত্র বেপরোয়া ও ইচ্ছামতো চলাচল ও যাত্রী বহন করে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট আন্তজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি সরদার লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান মিনা, সহ-সভাপতি জিয়াউদ্দিন জিয়াম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, অর্থ সম্পাদক মতিউর রহমান, লাইন সাধারণ সম্পাদক সরদার জসিমসহ মালিক সমিতির সদস্যসহ অন্য জেলার নেতারা।
তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সরকারি অনুমোদন ব্যতীত চলাচলরত বিআরটিসি ও লিজকৃত বিআরটিসি গাড়ি বন্ধকরণ। বিআরটিসির পথিমধ্যে থাকা সব কাউন্টার অপসারণ, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিআরটিসি ও কাউন্টার চলাচল ক্ষেত্রে জেলার স্ব-স্ব মালিক সমিতি বিআরটিসি শৃঙ্খলা মোতাবেক পরিচালনা করবে। ইজিবাইক, মাহিন্দ্রসহ সব প্রকার থ্রি-হুইলার জাতীয় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়ক বাদে পার্শ্ববর্তী সড়কে চলাচল করতে হবে। দূরপাল্লা নামধারী পরিবহন জেলা টার্মিনাল থেকে চলাচল করিবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যান্ত্রিক ত্রুটিতে চার দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি বলেন, প্রথম ইউনিটের মেরামত শেষে গতকাল বেলা ৩টায় বয়লারে ফায়ারিং করা হয়। রাত ৯টা ৩ মিনিট থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটির বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের অপর ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিটটির মেরামত কাজ চলমান এবং এটি আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি উৎপাদনে ফিরতে পারে। সূত্রে জানা যায়, প্রথম ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রথম ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টন কয়লার প্রয়োজন পড়বে। গত দুই মাসে প্রথম ইউনিটটি একাধিকবার বন্ধ ও চালু হয়েছে। বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট দুটি ১২৫ মেগাওয়াটের এবং তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। গত বছরের ১৬ অক্টোবর তৃতীয় ইউনিটও বন্ধ হয়ে যায়। গত দুই মাসে চারবার কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে। আবার উৎপাদনে ফিরলেও ৪–৫ দিনের বেশি স্থায়ীভাবে উৎপাদনে থাকতে পারে না। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩ ডিসেম্বর রাত পোনে ৯টায় আবার উৎপাদনে ফিরলেও ৩০ ডিসেম্বর পুনরায় বন্ধ হয়। ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি উৎপাদন শুরু হয়। চার দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর আবার ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ওই দিন পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম।
বিএনপির আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি)সহ চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি অভিযোগ করেছে—কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মাঠপর্যায়ে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চায় এবং একই সঙ্গে সতর্কবার্তা জারি করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই কমিশনের দায়িত্ব। তবে কোনো দল যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বা অন্য দলের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কমিশন কঠোর অবস্থানে যাবে। সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে সভা-সমাবেশ, প্রচার কার্যক্রম ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে কমিশন আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে। সতর্কবার্তাকে হালকাভাবে না নিয়ে দলগুলোর উচিত আচরণবিধি মেনে চলা। অন্যদিকে, বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক। তারা আশা প্রকাশ করেন, কমিশন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সব দলের জন্য সমান মাঠ নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সতর্ক অবস্থান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
কুচক্রী প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সতর্ক থাকতে জরুরি বার্তা দিয়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারি। একই সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত সব চক্রকে তার পক্ষ থেকে ‘ফাইনাল ওয়ার্নিং’ দিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু অসাধু চক্র তার ছবি, ভিডিও এমনকি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভয়েস ক্লোন করে ডিজিটাল মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছে। এসবের মাধ্যমে ভুয়া পণ্য প্রমোশন, চিকিৎসা সেবা ও বিশেষ করে ওষুধের অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এআই সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং এতে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া পণ্য ও ওষুধ সংক্রান্ত ফোনকল নিয়মিত আসায় Hasanah Foundation–এর দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ড. আজহারি স্পষ্ট করে জানান, এসব প্রচারণার সঙ্গে তার বা তার ফাউন্ডেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। তার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো পণ্য বিক্রির চেষ্টা সম্পূর্ণ ভুয়া ও অনৈতিক। তিনি আরও জানান, প্রতারক মিডিয়া ও পেইজগুলোর একটি তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে পাঠানো হবে। দ্রুত এসব কন্টেন্ট অপসারণ না করলে দেশ-বিদেশে যেখান থেকেই প্রতারণা চালানো হোক না কেন—সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিশেষে তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ জানান, কোনো বিজ্ঞাপন বা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়ার আগে অবশ্যই তার অফিসিয়াল সোর্স থেকে সত্যতা যাচাই করার জন্য।