রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে খেলবে, আর নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ রেফারির ভূমিকা পালন করতে চায় উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘কিন্তু খেলোয়াড়রা সহযোগিতা না করলে নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা হারাবে এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিইসি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কমিশন পোস্টার নিষিদ্ধ করলেও সারা ঢাকা শহর এখনো পোস্টারে ছেয়ে আছে; এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ইসি পোস্টার নিষিদ্ধ করার পরেও শহরের যে চিত্র, তা অনভিপ্রেত। পোস্টারগুলো যদি দলগুলো নিজেরাই স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে ফেলে, তবে এটাই হবে সবচেয়ে ভদ্র আচরণ। আচরণবিধি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কমিশন কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।
‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ চাপে কমিশন উল্লেখ করে সিইসি জানান, একটি বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিশেষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে গিয়ে কমিশনের ওপর নানা ধরনের চাপ আসছে। এ কারণে তিনি আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সহযোগিতা চেয়েছেন নির্বাচনে অংশীজনদের কাছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই অপব্যবহারকে একটি মসিবত বা বড় বিপদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম দেশে ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বলে দাবি করে এ বিষয়ে তদন্ত ও বিচার চেয়েছেন। রোববার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন এবং অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। অতীতের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় অন্যায্য ছিল। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। তবে এ বক্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবি; এ বিষয়ে আদালতের পূর্ববর্তী রায় বহাল রয়েছে। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে সমালোচনা করে আজহারুল ইসলাম বলেন, বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত করতে দুর্নীতি দমন ও কর প্রশাসনের ডিজিটাল সংস্কার জরুরি। তিনি আরও বলেন, সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ইসলামী বন্ড বা সুকুক-এর ব্যবহার বাড়িয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথ সম্প্রসারণ করতে পারে বলে মত দেন। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে বিনিয়োগ করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। এজন্য অর্থপাচার রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-২-এর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, সততা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দের কোনো উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি সুদভিত্তিক অর্থনীতির তীব্র সমালোচনা করে দেশে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর দাবি জানান। একই সঙ্গে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল এবং মদ, বিড়ি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য নিষিদ্ধের আহ্বান জানান। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বক্তব্যের শুরুতে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিজয়ের পর আল্লাহর প্রশংসা ও নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। তবে সংসদে অনেকেই আল্লাহর প্রশংসার পরিবর্তে নেতানেত্রীর প্রশংসায় ব্যস্ত রয়েছেন, যা তিনি অনুচিত বলে মন্তব্য করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটে অপচয় রোধের কথা থাকলেও যাকাতের কোনো উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, নামাজ প্রতিষ্ঠা ও যাকাত চালুর মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হলেও বাজেটে ‘যাকাত’ শব্দটিও উচ্চারণ করা হয়নি। সুদভিত্তিক অর্থনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সুদের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে। যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশে সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব, যা বাজেট ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে হানাফি, আহলে হাদিসসহ বিভিন্ন মতাদর্শের আলেমদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় যাকাত কমিটি অথবা সরকারের অধীনে পৃথক ‘যাকাত মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সুবিধা বাতিল করা উচিত। তার মতে, চোরাকারবারি ও লুটপাটের অর্থের ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি পরিচালিত হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি দেশে মদ, বিড়ি ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবি জানান। বক্তব্যে কওমি মাদ্রাসার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ সেখানে কোরআন-হাদিস শিক্ষা দেওয়া হয়। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও পোশাক ও জুতার সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ এবং এমপিওভুক্ত নয় এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শর্তসাপেক্ষে তিন ধাপে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সময়মতো মজুরি পরিশোধ, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিজ এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। মসজিদে রাজনীতি করা যায় না—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্র ছিল মসজিদে নববী এবং কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বক্তব্যের শেষদিকে ঋণ পরিশোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয় ক্ষেত্রেই ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
বজ্রপাত একটি মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে মূল্যবান প্রাণ। অথচ সামান্য কিছু সতর্কতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই কমাতে পারে এই প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে জেনে নিন বজ্রপাতের সময় কী করবেন, কী করবেন না এবং কেন সচেতনতাই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে বজ্রপাত একটি অত্যন্ত ভয়ংকর এবং প্রাণঘাতী ঘটনা। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস পালন করা হয়। দিবসটি মানুষের মাঝে বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান এবং প্রাণহানি কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের তাৎপর্য আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বজ্রঝড়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনাও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় দিবসটি মানুষের মাঝে সতর্কতা ও প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষ করে কৃষক, জেলে, নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষেরা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। তাদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বজ্রপাত কী এবং কেন ঘটে? বজ্রপাত হলো মেঘ ও মেঘের মধ্যে অথবা মেঘ ও ভূমির মধ্যে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক চার্জের হঠাৎ নির্গমন। বজ্রঝড়ের সময় মেঘে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি জমা হয়। যখন এই শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন বিদ্যুতের তীব্র ঝলকানি সৃষ্টি হয়, যাকে বজ্রপাত বলা হয়। একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই বজ্রপাত মানুষের জীবন, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় করণীয় * দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যান: বজ্রপাত শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব পাকা ভবন বা নিরাপদ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করা বিপজ্জনক। * গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না: অনেকেই বৃষ্টির সময় বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু বস্তুতে আঘাত হানে, ফলে গাছের নিচে অবস্থান প্রাণঘাতী হতে পারে। * বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: বজ্রঝড়ের সময় টেলিভিশন, কম্পিউটার, ফ্রিজ বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে প্লাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে। * মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ঘরের বাইরে অবস্থান করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ স্থানে থাকলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার এড়ানো উচিত। * ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন: লোহার খুঁটি, তারের বেড়া, মোটরসাইকেল, সাইকেল বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। * জলাশয় থেকে দূরে থাকুন: নদী, পুকুর, হ্রদ কিংবা সুইমিং পুলে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় দ্রুত পানি থেকে উঠে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। * খোলা মাঠে থাকলে বিশেষ ভঙ্গি গ্রহণ করুন: যদি কোনো কারণে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়া যায়, তাহলে দুই পা একসঙ্গে রেখে নিচু হয়ে বসতে হবে এবং মাথা নিচু রাখতে হবে। মাটিতে পুরো শরীর শুইয়ে দেওয়া উচিত নয়। বজ্রপাতের সময় যা করা উচিত নয় * খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা। * উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া। * নৌকা বা জলযানে অবস্থান করা। * ধাতব ছাতা ব্যবহার করা। * বজ্রঝড় চলাকালে ছাদে বা খোলা বারান্দায় অবস্থান করা। * বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত টেলিফোন ব্যবহার করা। বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাংলাদেশ বিশ্বের বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে প্রাক-বর্ষা ও বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিকাজের সময় অনেক মানুষ খোলা মাঠে অবস্থান করায় দুর্ঘটনার শিকার হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতকে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় * বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা। * গণমাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারণা বৃদ্ধি করা। * কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। * আবহাওয়া সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা। * স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি জোরদার করা। আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস শুধু একটি দিবস নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক উদ্যোগ। বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও সঠিক জ্ঞান ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—নিজে সচেতন হবো, অন্যকে সচেতন করবো এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে চলবো। সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করতে।