ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের সব প্রদেশের বহু শহরে প্রতিদিন রাতভর রাস্তায় নামছেন লাখ লাখ মানুষ। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার দরপতন, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন শুরু হলেও এখন তা সরাসরি সরকার উৎখাতের দাবিতে রূপ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আন্দোলন সফল হলে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে পারে। এতে শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে।
শত শত মৃত্যু, হাজারো গ্রেপ্তার
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গত দুই সপ্তাহে সরকারি দমন-পীড়নে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে গতকাল রয়টার্স বলেছে, নিহত দুই হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইন্টারনেট ও ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ইরানে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের পরিস্থিতি ‘খুব গুরুত্ব দিয়ে’ পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। মার্কিন সেনাবাহিনী এরই মধ্যে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন বিকল্প তুলে ধরেছে হোয়াইট হাউসের সামনে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে ইন্টারনেট যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবা ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তেলের বাজারে প্রভাব
ইরান ওপেকভুক্ত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম। বিক্ষোভের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৩ ডলারের ওপরে উঠেছে।
রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কার আশঙ্কা
ইরানে সরকার পতন হলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বড় এক কূটনৈতিক মিত্র হারাবেন। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর পতন এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর ইরানকে হারালে রাশিয়ার প্রভাব আরও দুর্বল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সরকার দুর্বল, কিন্তু এখনো শক্তিশালী
ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতিতে ইরানের সরকার দুর্বল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো তাদের হাতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখনো সরকারের পাশে রয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সরকারের সম্পূর্ণ পতন নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও শাসনব্যবস্থা টিকে যাওয়া, সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থান, দীর্ঘমেয়াদি সহিংসতা ও অস্থিরতা।
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই আশঙ্কা করছে, ইরানে সরকার পতনের পর যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তবে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে—যেমনটা দেখা গিয়েছিল আরব বসন্তের সময়।
ইরান আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এ আন্দোলন দেশটিকে গণতন্ত্রের পথে নেবে না কি আরও রক্তক্ষয় ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইরানের এ সংকট বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লি আসার পথে হঠাৎ উচ্চতা হারিয়ে ফেলে এবং এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। সেই বিমানের প্রধান পাইলট দ্বিতীয় ডোপ টেস্টেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে দেশটির একাধিক সূত্র এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছে। ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে এআই-২৩৭৯ বিমানটি গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথের মাঝআকাশে এটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনির মুখে পড়ে এবং হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বলেছেন, আহতদের মধ্যে দুজন ক্রু সদস্য ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর স্ক্রিনিংয়ে ওই পাইলটের শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ উপাদানের উপস্থিতি ধরা পড়ে। কিছুদিন পর আরেকটি পরীক্ষা করা হয় এবং সেই পরীক্ষাতেও পাইলট মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। বিশেষভাবে পরীক্ষায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ওই সূত্র বলেছে, এয়ারবাস এ৩২০নিও বিমানটি ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। পাইলটের কোনো পদক্ষেপ, প্রযুক্তিগত কিংবা হাইড্রোলিক ত্রুটি যে কারণেই বিমানটি নেচে নেমে যাক না কেন, সেই সময় পাইলট তার আসনে ছিলেন না এবং সহকারী-পাইলট বিমানে দায়িত্বরত ছিলেন। হঠাৎ বিমান নিচে নামায় সেটি ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতিতে চলে যায়। এতে ককপিটের জিনিসপত্রের পাশাপাশি পাইলট নিজেও শূন্যে ভেসে ওঠেন। আর একই কারণে বিমানের পেছনের যে যাত্রীরা সিটবেল্ট বাঁধেননি, তারা গুরুতর আহত হন। তদন্ত চলমান থাকায় উভয় পাইলটকেই আপাতত ফ্লাইট পরিচালনা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এএআইবি বর্তমানে প্রাসঙ্গিক সকল কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা সংক্রান্ত এবং মানব সৃষ্ট সংকটের সব তথ্য প্রমাণ সুনির্দিষ্টভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে বিমানের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, সংগৃহীত ফ্লাইট ডেটা পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত রেকর্ড, চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্য পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণও রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ পুরোপুরি পরীক্ষা করা হবে। ‘‘এই তদন্তের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দুর্ঘটনার কারণ ও এর পেছনের পরিস্থিতি নির্ধারণ; যাতে পরবর্তীতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সম্পূর্ণ স্বাধীন, তথ্য-প্রমাণভিত্তিক ও বিস্তৃত পরিসরে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।’’ সূত্র: এনডিটিভি।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে লেবানন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে ঐতিহাসিক এই বিল পাস হয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও আইনি ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আল জাজিরা জানায়, ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার ভোটে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের এই আইন পাস হয়। তবে এর বিরোধিতা করেছে হিজবুল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লক। বিল পাস হওয়ার পর লেবাননের বিচারমন্ত্রী আদেল নাসসার এটিকে দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। নতুন এই আইনের ফলে এখন থেকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আসামিদের কঠোর পরিশ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। যদিও লেবাননে ২০০৪ সাল থেকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর একটি অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ ছিল, তবুও দেশটির আদালতগুলোতে নিয়মিতভাবেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হচ্ছিল। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদও ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে কারাবাস করছিলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লেবাননের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে মানবাধিকারের একটি বড় বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত লেবাননের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার সংকট থাকায় নতুন আইনে থাকা কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। এদিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পাশাপাশি লেবাননের পার্লামেন্টে ১৯৯০ সালে সমাপ্ত গৃহযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই আইনের ফলে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত কিছু বন্দীর সাজা কমতে পারে বা মুক্তি মিলতে পারে। তবে নিহত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই সাধারণ ক্ষমার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরের বদলে সাজা কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনেরা।
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে ফেলার পর কৌশলগত এই নৌপথের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ এখন খোলা। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে।’ ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে এখনো মাঝে মাঝে মাইন পেতে রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন বাহিনী সেগুলো শনাক্ত করছে এবং সরিয়ে ফেলছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তিনি ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ট্রাম্প বিশেষ করে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানান। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের দাবি করে আসছে।