বিশ্ব

কলম্বিয়ায় কোকেন ল্যাবে বিস্ফোরণে নিহত ৯, আহত ৮

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে একটি কোকেন ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরণে নয়জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নারিঞ্জো বিভাগে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এলাকাটি কোকেন উৎপাদনের জন্য পরিচিত এবং এখানে আদিবাসী ‘আওয়া’ সম্প্রদায়ের বসবাস। একইসঙ্গে অঞ্চলটিতে বেশ কিছু অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

নিহতরা সাবেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফার্ক-এর একটি বিচ্ছিন্ন অংশ ‘ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর বলিভারিয়ান আর্মি’র হয়ে কাজ করতেন।

পুলিশ কর্নেল জন জাইরো উরিয়া স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মাদক তৈরির সময় একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিও এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের অসতর্কতার কারণে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ল্যাবে আগুন ধরে যায়।

এই গোষ্ঠীটি ২০১৬ সালে ফার্ক-এর করা ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বামপন্থী সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে।

বিস্ফোরণস্থলটি গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় চোরাকারবারিরা মেক্সিকান কার্টেল বা মাদক চক্রগুলোর সহায়তায় এখানে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছে।

এদিকে, গত বুধবার ইকুয়েডরের রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া কলম্বিয়ার ওপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করে এক ধরনের বাণিজ্যিক যুদ্ধ শুরু করেছেন। 

তার অভিযোগ, পেত্রো সরকার সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার বন্ধে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রেসিডেন্ট পেত্রোও একই হারে শুল্ক আরোপ করেছেন এবং মাদক বিরোধী অভিযানে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরছেন।

গত এক বছর ধরে মাদক পাচার নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও একই ধরনের অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছেন পেত্রো। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রতীকী ছবি ।
ইরানে হামলার আশঙ্কা, গণহারে ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে শীর্ষ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারকারী বহু ফ্লাইট বাতিল করেছে। নেদারল্যান্ডসের কেএলএম, জার্মানির লুফথানসা এবং ফ্রান্সের এয়ার ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইট বাতিলের কারণে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোতে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত রাখবে। অন্যদিকে কেএলএম ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তিনি একে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা অনেক জাহাজ ওই দিকে পাঠাচ্ছি—যদি প্রয়োজন হয়। আমাদের একটি বড় বাহিনী ইরানের দিকে যাচ্ছে, তবে হয়তো সেটি ব্যবহার করতেই হবে না।” হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর পরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো শিথিলতার ইঙ্গিত নেই। মার্কিন নৌবহরের অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার শিগগিরই আরব সাগর বা পারস্য উপসাগর অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এয়ার ফ্রান্স ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো তেল আবিবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল করেছে। লুফথানসা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলে কেবল দিনের বেলা ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং ইরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলবে। এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানায়, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমরা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” সংস্থাটি জানায়, যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেএলএম জানিয়েছে, তারা তেল আবিব, দুবাই, দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি ইরান, ইরাক, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করবে না। ডাচ গণমাধ্যম এনওএসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এ বিষয়ে তারা নেদারল্যান্ডস সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এবং কানাডার এয়ার কানাডাও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় ইরান প্রায় চার ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নতুন জাতিসংঘ’ বানাতে চাইছেন: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট

ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরমুখী মার্কিন ‘নৌবহর’, ইরানের ওপর কড়া নজরদারি

ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় কোকেন ল্যাবে বিস্ফোরণে নিহত ৯, আহত ৮

ছবি : সংগৃহীত
পানি-সামাজিক’ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অঞ্চলের অস্তিত্ব রক্ষায় স্বচ্ছ তথ্য আদান-প্রদান ও নদী অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি বলে তারা উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ১১তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী ভার্চুয়াল ও সশরীর অধিবেশনে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশের ৫ শতাধিক নদীবিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, পানি অধিকারকর্মী এবং জলবায়ু সুরক্ষা কর্মী অংশ নেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ন্যায়সংগত ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা পুনর্চিন্তা। সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা বলেন, প্রচলিত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ‘পানি কূটনীতি’ জলবায়ুর অস্থিরতা ও মানুষের অসহায়ত্ব মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন নদী ও পরিবেশের প্রবাহ এবং আন্তসীমান্ত জবাবদিহি প্রাধান্য দিয়ে একটি ‘পানি-সামাজিক’ (হাইড্রো-সোশ্যাল) দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ঋতুভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান প্রটোকল তৈরি, আঞ্চলিক ‘ওয়াটার স্কুল’ স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে পানি শাসনের কেন্দ্রে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেন্টার ফর অলটারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “প্রচলিত কূটনীতির সীমাবদ্ধতা বুঝে আমরা হাইড্রোলজিস্ট, সমাজবিজ্ঞানী ও তরুণদের সমন্বয়ে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছি। যদি আমরা এমন জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারি, যারা পানিকে সীমানার ঊর্ধ্বে দেখবে, তবেই দক্ষিণ এশিয়ায় প্রকৃত সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন পানির স্বাভাবিক আচরণের নিশ্চয়তা কেড়ে নিয়েছে, যা আমাদের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে। আমাদের প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই পানির ধরন বদলে যাচ্ছে। জলবায়ু ন্যায়বিচার কেবল পরিবেশগত নয়, এটি ন্যায়বিচারের মূল বিষয়।” কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জয়ন্ত বসু বলেন, “তথ্যই স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনে। ৫০ বছরের পুরোনো রেকর্ডের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান জলবায়ুর বাস্তবতা বিবেচনা করে হালনাগাদ তথ্যের ওপর আমাদের নির্ভর করা উচিত। বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, “সংকীর্ণ পানি-বণ্টন বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। তিস্তা ও গঙ্গা অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রবাহ নিশ্চিত করতে অববাহিকাভিত্তিক সমাধান অপরিহার্য।” জাতিসংঘের ওয়াটার কনভেনশন সেক্রেটারিয়েটের সদস্য রেমি কিন্না বলেন, “বাংলাদেশের এই কনভেনশনে অংশগ্রহণ স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে শক্তিশালী বার্তা। এটি দেশগুলোকে সম্মিলিত শিক্ষা গ্রহণ এবং জবাবদিহি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সহায়তা করবে। সমাপনী দিনে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব ওয়াটার মিউজিয়ামস-এর সমন্বয়ে ডিজিটাল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরক্কোর ‘ওয়েসিস ইকোমিউজিয়াম’ এবং বাংলাদেশের ও এশিয়ার প্রথম জাদুঘর প্রদর্শিত হয়। কন্যাশিশুদের পরিবেশিত পানিবিষয়ক নাটক ও বিভিন্ন শৈল্পিক উপস্থাপনা নদী, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনবোধের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরেছে। সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও চীনের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার পানি ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও জ্ঞান ভাগাভাগি বাড়ানোর একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য তেল খাত খুলে দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা

ছবি: সংগৃহীত

ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে তেলের ডিপোতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্কটিক দ্বীপটি দখলের হুমকি থেকে সরে আসার পর এক অস্থির সময়ে এ সফর হচ্ছে। কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ফ্রেডেরিকসেন ব্রাসেলস থেকে নুক যাবেন। ব্রাসেলসে তিনি শুক্রবার ভোরে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করেন। চলতি সপ্তাহে দাভোসে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাথে একটি মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছান ন্যাটো মহাসচিব। আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে ন্যাটোর কার্যক্রম আরও বাড়ানো দরকার বলে শুক্রবার ন্যাটো মহাসচিব রুটে ও ফ্রেডেরিকসেন একমত হন। এর আগে, চলতি সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্কে’ ন্যাটো মহাসচিবের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেন। পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যা চেয়েছে, সবই পেয়েছে’ এবং এটি ‘চিরকাল’ কার্যকর থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
‘নিউ গাজা’ নিয়ে মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : সংগৃহীত

‘নিউ গাজা’ নিয়ে যেসব পরিকল্পনা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনে জরুরি জেনারেটর পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজসহ অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাত ফাঁস

0 Comments