অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনো বিকাশমান: বাণিজ্যমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনো বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। 

এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনো বিকাশমান। যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি ইভলভিং সিনারিও। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত আগের ধার্যকৃত ট্যারিফ মেইনটেবল না ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। আর বাদ বাঁকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোন কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারো আমি বলবো ইভলভিং।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনো বলার মতো কোন অবস্থা তৈরী হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কি আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করবো।

‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়গুলো গোপন ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট ছিল, সেটা চুক্তির আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোন অনাকাঙ্খিত মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।’  

এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কি সমস্যা, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে, সেগুলো সবজি জাতীয়।

তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে একমাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূণ্যতার সুযোগ নেয়। ৪০ থেকে ৫০ টাকার লেবু ১২০ টাকা হয়ে গেছে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিএসইসির পক্ষে আদালতের রায়, স্বস্তিতে সংশ্লিষ্টরা

সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত থেকে পক্ষে রায় পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ডকে ওপেন-এন্ড (বেমেয়াদি) ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়ন এবং বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা কেটেছে।   এতে করে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা পরিপালনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।   ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের সব ট্রাস্টিকে ক্লোজড-এন্ড স্কিমগুলোর অবসায়ন অথবা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর সংক্রান্ত সদ্য প্রণীত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।   বিএসইসির কঠোর অবস্থান এবং আদালতের রায়ের ফলে স্বস্তি মিলেছে সংশ্লিষ্ট খাতের বিনিয়োগকারীদের।   জানা গেছে, আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টের পৃথক দুটি রিটে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা স্থগিত এবং স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছেন।   এতে করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে বলে মনে করে কমিশন।   এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের ফলে ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড রূপান্তর বা অবসায়ন এবং বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আর বাধা নেই।   তিনি বলেন, ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর বা অবসায়ন সংক্রান্ত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বিধি ৬২(২) এবং ৭ মে জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে সম্প্রতি পাঁচজন ইউনিটধারী রিট আবেদন করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে হাইকোর্ট থেকে একটি স্থিতাবস্থা আদেশ জারি হয়েছিল। তবে সেই আদেশ স্থগিত করা হয়। এর আগে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বাস্তবায়নে বিএসইসি গত ৯ ও ১১ জুন ট্রাস্টিদের পৃথক চিঠি পাঠায়। বেস্ট হোল্ডিংস-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর থাকা স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমাদের ল ডিভিশন রায়ের বিষয়টি কনফার্ম করেছে।   তারা যে রিট করেছিল সেটা ভ্যাকেট হয়ে গেছে তাহলে তো আর কোনো বাধা থাকে না। বেস্ট হোল্ডিং এর তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তো বাধা থাকার কথা না। কমিশনের মূল কাজটা হলো ইনভেস্টর প্রটেকশন। আর বর্তমান কমিশন সেই কাজটা করে যাচ্ছে। ইনভেস্টর সুরক্ষায় আমাদের যারা আইনজীবী আছে তারা তাদের মত করে লড়তে থাকেন। আর যে রায় আসছে এটা ইনভেস্টরের পক্ষেই যাচ্ছে, কমিশন বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সঠিক দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হঠাৎ ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা জারি

ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজার চাঙ্গা হচ্ছে না কেন?

ছবি : সংগৃহীত

তেল কারসাজি: ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে

ছবি : সংগৃহীত
বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে বিনিয়োগে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

দেশের বন্ধ ও অলাভজনক কারখানা চালু করতে বিনিয়োগ করলে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত ‘রোড শো’ অনুষ্ঠানে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা চাই আপনারা আরও এগিয়ে যান, বিকশিত হোন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।   শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে অলাভজনক ও বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ আকর্ষণে এ রোড শো’র আয়োজন করে শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।   অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে মোট ৪৪টি কারখানার বিস্তারিত তথ্যসহ (কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, বিনিয়োগ সুবিধা, সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা) বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।   উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা খোলামেলাভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।   অনুষ্ঠানে দেশি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ ও লাল তীর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   বিদেশি কোম্পানির মধ্যে জাপানি মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ অফিসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।   উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও বলেছি, আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান এবং আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। আপনারা নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কীভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সেই মতামতও দিয়েছেন। আমরা ইতোমধ্যে কিছু বিষয়ে কাজ শুরু করেছি।   তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হল প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সমস্যাগুলো কাটিয়ে তোলার পথ তৈরি করা। কিন্তু সরকারের পক্ষে তা একা সম্ভব নয়।   বাস্তবতা হল, আমরা একবারে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে সমাধান করতে পারি। আমার অনুরোধ, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন, যাতে আমরা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে পারি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি।’   তিনি বলেন, শুধু বলতে চাই, আসুন আমরা পরিবর্তন আনার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। সমস্যা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। কিন্তু আমরা এটাও উপলব্ধি করেছি যে, যদি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে এসব সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।   অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬

শেয়ারবাজারে আম্বানির মেগা ধামাকা

ছবি : সংগৃহীত

রপ্তানি আয়ের প্রণোদনায় বাড়ছে করের চাপ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমার রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত
এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১%

এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকার সমান। ২০২৪ সালে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।   বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি অর্থ সুইস ব্যাংকে জমা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই যে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধভাবে সেখানে অর্থ জমা রাখতে পারে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখেন।   তবে জমার পরিমাণ হঠাৎ এতটা বেড়ে যাওয়ায় অর্থ পাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম মনে করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থ পাচার কমবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সুইস ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি।   তিনি বলেন, শুধু সুইস ব্যাংক নয়, বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হয়ে থাকে। তাই অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।   ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বাইরে চলে যাওয়া কিছু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া আগের বছরগুলোতে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার একটি অংশও বিভিন্ন উপায়ে সুইস ব্যাংকে জমা হতে পারে।   একসময় সুইস ব্যাংককে গোপনে অর্থ রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তির কারণে এখন পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। বর্তমানে প্রয়োজন হলে সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারকে ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে থাকে।   তারপরও অর্থ পাচার ঠেকানো এবং বিদেশে থাকা অবৈধ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাহাজের লিজ ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো মালিকানা ফেরাতে ইতিবাচক বিএবি চেয়ারম্যান

সিটি গ্রুপকে রক্ষা: ২৬,৬০০ কোটি টাকা ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ ৩৬ ব্যাংকের

0 Comments