ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় নির্বাচনী সমঝোতা জোট নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল টানাপোড়েন। আসন বণ্টনসহ সবকিছু সামলে শরিকরা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর জেরে একটি দলকে বিশেষভাবে অভিযুক্ত করে জোটে না থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের ২৬৮ জন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তারা সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
জোটে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আদর্শের আলোকে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইসলামপন্থি দলগুলোর জন্য ‘ওয়ানবক্স পলিসি’র আহ্বান জানিয়েছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই। শুরুতে অনেকেই সেই আহ্বানে সাড়া দিলেও পরবর্তী সময়ে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে ইসলামপন্থি ঐক্যের সেই ধারাকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইসলামপন্থি শক্তিগুলোকে একত্রিত করার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে না—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকেই ইসলামী আন্দোলন তাদের আদর্শের অবস্থানকে সুরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এমনকি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা না করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য নিয়ে ইসলামপন্থি শক্তিগুলো এগোচ্ছিল, তা আর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখন যারা প্রধান শক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারাই যদি ইসলামী আইন ও আদর্শ থেকে সরে যায়, তাহলে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাওয়া লাখো কর্মী-সমর্থকের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের আলোকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সে কারণে দলটি কোনোভাবেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না এবং নেতাকর্মী কিংবা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার পথে হাঁটবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংস্কার সভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিলে আগামী ১২ মার্চ সংসদ ভবনের সামনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, সংস্কারের জন্য বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছিল, আহত হয়েছিল, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকে সংসদ ভবনে ১২ তারিখে অধিবেশন শুরু করতে যাচ্ছেন। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির উদ্যোগে বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সেই দিন (১২ মার্চ) যদি আমাদের পুলিশ দিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়, আমরা আপনাদের বলে দিতে চাই, আমরা এই সংস্কারের জন্য রাজপথে নেমেছিলাম। আমাদের একজনকে মেরেছিল, চল্লিশজন সামনে গিয়েছিল। চল্লিশ জনকে মেরেছিল চারশ জন গিয়েছিল। আমরা সেই দিন ভয় পাইনি। কাকে ভয় দেখান? মামলা-হামলা করে ভয় দেখান? আমি যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম ন্যাশনালিস্ট ফোর্সের কাউকে তো দেখিনি, রাজু ভাস্কর্যে একাই সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ৫৪ দিন বসেছিলাম। আপনারা যখন বিদেশে ছিলেন, জেলের মধ্যে ছিলেন, আমরা ক্যাম্পাস আন্দোলন করেছিলাম, আপনাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। আপনারা তখন মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন যদি জালেম হিসেবে আবির্ভূত হন, আমরা কোনো জালেমকে ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতি নই। তিনি আরো বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে খুলনার প্রাণ বৈচিত্র থেকে শুরু করে সবকিছু নষ্ট হচ্ছে। মানুষ জানিয়েছে কোস্টাল এরিয়াতে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বাড়ছে। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে খুলনাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি- শেখ হাসিনা কুসুম কুসুম প্রেম করে ভারতের সাথে খুলনাতে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে দিয়েছিল, খুলনার মানুষের গলার ওপরে পা দিয়ে বসেছিল, অতিদ্রুত ভারতের সাথে সেই চুক্তি বন্ধ করে ভারতীয় এই ধ্বংসকারী পাওয়ার প্ল্যান্ট খুলনা থেকে বন্ধ করতে হবে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় অনেকে সমঝোতার নামে ইনিয়ে-বিনিয়ে চাঁদাবাজকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। খুলনাতেও শুনেছি হোটেলগুলোতে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বাসস্টেশনে চাঁদাবাজি হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। ভদ্রতার মুখোশ পড়ে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা খুলনাতে চাঁদাবাজি করছেন, আমরা তাদের নামও জানি, চিনি। আমরা আপনাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে দিতে চাই- সেটা বন্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ।
জাকাত। ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রোকন। ইসলাম যে কয়েকটি ভিত্তির ওপর সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে জাকাত তার অন্যতম। ইমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো সালাত ও জাকাত। কোরআন মজিদে বহু স্থানে সালাত-জাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কোরআনের ভাষায় জাকাত কোরআন মাজিদে বিভিন্নভাবে জাকাতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কখনো সরাসরি জাকাতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। কখনো মুত্তাকি বা নেককারদের গুণাবলি বর্ণনার মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে জাকাতের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যারা যথার্থভাবে জাকাত আদায়ে সচেষ্ট থাকে কোরআন মাজিদের তাদের জন্য অনেক পুরস্কারের ঘোষণা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন (সুরা বাকারা : ১১০)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সালাত আদায় কর, জাকাত দাও এবং রসুলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার’ (সুরা নূর : ৫৬)। সুরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আজিম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ইমান রাখে আমি তাদের মহাপুরস্কার দেব।’ অন্য আয়াতে জাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’ (সুরা তাওবা : ১০৩)। জাকাত না দেওয়ার ভয়াবহতা ওপরের আলোচনা থেকে জাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায়, ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যারা জাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ত- তার শিকার! জাকাতের সব সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদের যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তা-ও কোরআন মাজিদে বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদের দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও জমিনের স্বত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত (সুরা আলে ইমরান : ১৮০)। জাকাত কাদের ওপর ফরজ? সুস্থ মস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে জাকাত আদায় করা তার ওপর ফরজ হয়ে যায়। আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২ নিসাবের ববরণ : স্বর্ণের ক্ষেত্রে জাকাতের নিসাব হলো বিশ মিসকাল। (সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক হাদিস ৭০৭৭, ৭০৮২)। আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি। রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হলো ২০০ দিরহাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৪৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৭৯)।
নিজের নামে মানহানি মামলা হয়েছে শুনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ নির্যাতনের মুখেও আপস করিনি, তাই কোনো হুমকিকে ভয় পাই না। হাসিনার আমলে আমাকে ধরে নিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে সারা রাত নির্যাতন করেছে। রোববার (৮ মার্চ) বরিশাল নগরীর হালিমা খাতুন স্কুল মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির বরিশাল বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মোনাজাতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাসকে ইঙ্গিত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনাকে গোনার টাইম নেই। ভদ্র হতে শিখুন। আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করি, অসভ্য আচরণ করবেন না। অসভ্য আচরণ যদি করেন, কিভাবে আপনাকে সভ্য করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনি (মির্জা আব্বাস) ঢাকা-৮ আসনে ফেল করেছিলেন। তারেক রহমান নিজে এসে আপনাকে রক্ষা করেছেন। এখনো সময় আছে ভদ্র হোন, আপনাদের কিভাবে সোজা করতে হয় তা আমাদের জানা আছে।’ বক্তব্যের শুরুতেই পাটওয়ারী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সংস্কারের পক্ষে এবং সব সময়ই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। দেশের মানুষ ভারতের আধিপত্য মেনে নিতে রাজি নয়।’ ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এছাড়া বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন ইফতার মাহফিলে।