অন্যান্য

যেসব খাবার আপনার দাঁতের ক্ষতি করছে নীরবে

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৫, ২০২৬


দাঁত ভালো রাখতে আমরা সাধারণত ব্রাশ আর ফ্লসের কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারও দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। কিছু খাবার দাঁতের এনামেল দুর্বল করে, ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে মাড়ির রোগের কারণ হতে পারে।

তাই দাঁতের জন্য কোন খাবার ক্ষতিকর এবং তার ভালো বিকল্প কী হতে পারে, তা জানা জরুরি।

নিচে দাঁতের জন্য ক্ষতিকর কিছু সাধারণ খাবার এবং সেগুলোর তুলনামূলক ভালো বিকল্প তুলে ধরা হলো।

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও সফট ড্রিংক
কেন ক্ষতিকর : এই পানীয়গুলোতে চিনি ও অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার বাড়ায়, ফলে ক্যাভিটি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।


ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি, লেবু ছাড়া ফল মেশানো পানি বা চিনি ছাড়া হারবাল চা পান করা ভালো। পানি মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

আঠালো মিষ্টি ও ক্যান্ডি
কেন ক্ষতিকর : চিবানো মিষ্টি দাঁতে লেগে থাকে এবং দীর্ঘ সময় চিনি ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে থাকে। এতে দাঁত ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ে।

ভালো বিকল্প : পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট বা চিনি ছাড়া চুইংগাম খাওয়া যেতে পারে, যা লালা তৈরি বাড়াতে সাহায্য করে।

টক ফল ও ফলের রস
কেন ক্ষতিকর : লেবু, কমলা বা জাম্বুরার মতো টক ফলের অ্যাসিড নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং দাঁত সংবেদনশীল হয়।

ভালো বিকল্প : আপেল বা নাশপাতির মতো শক্ত ফল খাওয়া ভালো। এগুলো লালা তৈরি বাড়ায় এবং দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

বরফ চিবানো
কেন ক্ষতিকর : বরফ চিবোলে দাঁতে ফাটল ধরতে পারে বা দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভালো বিকল্প : খাস্তা কিছু খেতে চাইলে ঠান্ডা গাজর বা সেলারির মতো সবজি খাওয়া যেতে পারে।

শুকনো ফল
কেন ক্ষতিকর : কিশমিশ বা শুকনো এপ্রিকটের মতো ফল আঠালো এবং এতে চিনি বেশি থাকে, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে।

ভালো বিকল্প : তাজা ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো সহজে দাঁত থেকে সরে যায়।

আলুর চিপস
কেন ক্ষতিকর : এই ধরনের স্টার্চযুক্ত খাবার মুখে গিয়ে চিনিতে পরিণত হয় এবং দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকে।

ভালো বিকল্প : বাদাম বা বীজজাত খাবার খাওয়া ভালো, যা দাঁতের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

অ্যালকোহলজাত পানীয়
কেন ক্ষতিকর : অ্যালকোহল লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। লালা কমে গেলে মুখ পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়।

ভালো বিকল্প : অ্যালকোহল গ্রহণের সময় ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

স্পোর্টস ও এনার্জি ড্রিংক
কেন ক্ষতিকর : এগুলোতে চিনি ও অ্যাসিড বেশি থাকে, যা শিশু ও বড়দের দাঁতের ক্ষতি করতে পারে।

ভালো বিকল্প : সাধারণ পানি বা নারকেলের পানি ভালো বিকল্প হতে পারে।

আচার ও ভিনেগারযুক্ত খাবার
কেন ক্ষতিকর : খুব টক হওয়ায় নিয়মিত খেলে দাঁতের এনামেল দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ভালো বিকল্প : টক খাবারের সঙ্গে দই বা চিজ খেলে দাঁতের ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।

সাদা পাউরুটি ও পরিশোধিত শর্করা
কেন ক্ষতিকর : এই খাবারগুলো দ্রুত চিনিতে পরিণত হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ভালো বিকল্প : আটা বা পূর্ণ শস্যের রুটি খাওয়া ভালো, যা ধীরে হজম হয়।

চিনি মেশানো চা ও কফি
কেন ক্ষতিকর : চিনি বা সিরাপ মেশালে দাঁতে দাগ পড়ে এবং ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে।

ভালো বিকল্প : চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা ভালো। পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উপকারী। গ্রিন টি দাঁতের জন্য তুলনামূলক ভালো।

খাবার কীভাবে দাঁতের ক্ষতি বাড়ায়

শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন এবং কতবার খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়া, বারবার মিষ্টি পানীয় পান করা বা ঘুমের আগে টক খাবার খেলে দাঁতের ক্ষতি বাড়ে।

দাঁত ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস
- খাওয়ার পর পানি পান করা

- বারবার স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলা

- চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবানো

- ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

- খাস্তা ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া

দাঁতের জন্য উপকারী খাবার
- শাকসবজি যেমন পালং বা লেটুস

- দুধ, দই ও চিজ

- আপেল, গাজর ও সেলারি

- গ্রিন টি

- বাদাম

দাঁত সুস্থ রাখতে শুধু নিয়মিত ব্রাশ করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে দাঁতবান্ধব খাবার বেছে নিলে ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য সচেতনতা দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র : Playa Family Dentistry

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে যায় না: ফজলুর রহমান

সাপকে বিশ্বাস করা গেলেও জামায়াতকে বিশ্বাস করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছিলেন বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবেন, অথচ সারা পৃথিবী বলে জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি।       রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নাশকতা, নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে নানারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।       দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ফজলুর রহমান বলেন, বিএনপিকে এবং তারেক জিয়াকে ক্ষমতায় রাখতে চাইলে নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও ক্ষমতার দাপট দেখানো বন্ধ করতে হবে, কারণ বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সচেতন। বিগত দুই বছরে কিছু ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা থেকে তওবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন না; তাই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নারী-পুরুষের শার্টে বোতামের দিক আলাদা কেন?

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা নিয়ে সরকারের কাছে তাসনিম জারার প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে হাসপাতালে হামলা নিয়ে ফেসবুকে যা বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না, তবে মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, সবার ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হলেও চলবে; কিন্তু মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এ প্লাস ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তুমি বিদেশে যেতে চাও, অন্য কোনো ক্যারিয়ার গড়তে চাও—সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু পড়াশোনা দিয়ে যদি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাও, তাহলে তোমার মূল ফলাফল হচ্ছে কলেজের রেজাল্ট। এই সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চশিক্ষার পথও তোমার জন্য উন্মুক্ত হবে।   তিনি বলেন, দুনিয়াতে সবার পড়াশোনা করতে হবে না। সবার ডাক্তার হতে হবে না, সবার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না। কিন্তু একজনকেও মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না। একজনকেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ হওয়া যাবে না। একজনকেও খারাপ মানুষ হওয়া যাবে না।   নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোনো বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখছেন, যেসব শিক্ষক তাদের তারুণ্যের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের সময় ও শ্রম দিয়েছেন, তারা এখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।   তিনি বলেন, এই শিক্ষকরা যে আজকে বৃদ্ধ হয়েছেন, তাদের চুলে যে পাক ধরেছে—তাদের তারুণ্যটা আমাদের দিয়ে তারা বৃদ্ধ হয়েছেন। আমাদের তাদের প্রতি দায় আছে, ঋণ আছে। আমাদের মা-বাবার প্রতিও ঋণ আছে।   এনসিপির এই নেতা বলেন, তোমাদের প্রতি আমাদের দাবি একটাই—তুমি বিপথে যাবে না, খারাপ পথে যাবে না। তুমি বিদেশে যাও, ডাক্তার হও, ইঞ্জিনিয়ার হও, নিজের পছন্দের যেকোনো পেশায় যাও; কিন্তু মাদকের সঙ্গে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না।   কিশোর গ্যাংয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গতকালও দেবিদ্বারের কয়েকজন কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রেয়াজ উদ্দিনের ছাত্র, অক্সফোর্ডের ছাত্র ও কুমিল্লা জেলা স্কুলের ছাত্রও রয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। তারা কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার পুলিশ সুপার যখন ফোন করে বলেন, দেবিদ্বারের একটি ছেলে এই কারণে গ্রেফতার হয়েছে—এটা কি ভালো খবর? তখন আমি লজ্জিত হই। কিন্তু যদি ফোন করে বলা হতো, আপনার এলাকার একটি ছেলে ভালো কাজ করছে, তখন সেটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হতো।   শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভালো কাজের সঙ্গে তোমরা আমাকে পাবে। আর খারাপ কাজ করলে তুমি আমার ভাই হও আর যাই হও না কেন, অপরাধ করলে অন্য উপজেলার ছেলেরা যে শাস্তি পাবে, আমার উপজেলার এবং আমার স্কুলের ছেলেরা তার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি শাস্তি পাবে।   অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাত তুলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শপথ করান তিনি।   অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সবুর এবং সাবেক শিফট ইনচার্জ জামাল মো. কবীর প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

দেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা রুখে দেবে বিএনপি : রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

অগ্নিসংযোগ-বোমা হামলা নিয়ে রিজভীর ‘গভীর ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ

রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটলে রাষ্ট্রই টিকবে না: রিজভী

সংগৃহীত ছবি
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর গ্রেফতার চাইলেন যুবদল সভাপতি

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।   মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।    ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল।   মোনায়েম মুন্না বলেন, যেকোনো আচরণ করে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে চান। ওই ‘শিশু নেতা’ বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল মারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে এই ককটেল কারা মারছে? সমস্ত ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ককটেল মারার হোতা হিসেবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেফতার করতে হবে।   জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, তার কুকর্ম ও চরিত্র দেশবাসী দেখেছে। তার কারণে গরিব পরিবারের ১৯ বছরের একটি মেয়ে সারা দেশের ট্রলের শিকার হয়েছেন। মানুষের কুৎসা রটানোর কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। গত পরশু মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে?   তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপদ রাখা। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মেয়েটির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। তাকে কি মেরে ফেলা হয়েছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি রিমান্ডে আছেন। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।   যুবদল সভাপতি বলেন, গতকাল জামায়াতের আরেক নেতা মাদ্রাসার ছাত্রের সঙ্গে আরও অন্যায় কাজ করেছেন। এই যদি হয় তাদের ধর্মের রাজনীতির নমুনা, তারা কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে এবং মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলবে।   তিনি আরও বলেন, তাদের আরেকটি মোনাফেকি হচ্ছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে। অতীতেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল। আমার মনে হয়, এখনো তারা গোপনে গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে। মোনায়েম মুন্না বলেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের জনগণ চিহ্নিত করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে আছে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের আছে।   রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান যুবদল সভাপতি। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।   ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এমপি মাহবুবা হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখবে ইসি

সরকার দাবি মানলে ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না: নাসীরুদ্দীন

ছবি: সংগৃহীত

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম: রিজভী

0 Comments